স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা : বৌবাজার বিপর্যয়ের পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছিলেন যে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা করে দিতে হবে। সেই দাবি মেনে নিয়ে কেএমআরসিএল ক্ষতিপূরণ দেওয়া শুরু করেছিল। কিন্তু বিভিন্ন জটিলতায় তা থমকে যায়।

কেএমআরসিএল এর অভিযোগ, একই পরিবারের সদস্যরা আলাদা আলাদা করে এসে ক্ষতিপূরণ দাবি করছে। কিছুদিন আগেও যারা একই পরিবারে ছিল, সেই পরিবারের গৃহ কর্তা এসে বলছে স্ত্রী আলাদা, আবার স্ত্রী বলছে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে তার হাতেই। অন্যদিকে ছেলে বলছে বাবার সঙ্গে সম্পর্ক নেই। এর পরই ক্ষতিপূরণ দেওয়া বন্ধ রাখে কলকাতা মেট্রোর রেল কর্পোরেশন লিমিটেড (কেএমআরসিএল)।

অবশেষে কেএমআরসিএল কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, উপযুক্ত প্রমাণ পত্র নিয়ে এসে ক্ষতিপূরণ নিতে হবে। এবং মুচলেকায় সই করতে হবে। সেখানে কেউ মিথ্যার আশ্রয় নিলে পরবর্তীতে কালে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে পারে মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষ। এমনটাই সূত্রের খবর।

তবে আজ শুক্রবার থেকে নয়া নিয়মে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ফের ৫ লক্ষ টাকার চেক বিলির কাজ শুরু করেছে কেএমআরসিএল কর্তৃপক্ষ।

প্রসঙ্গত, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে পাঁচ লক্ষ টাকা দেওয়ার কথা আগেই ঘোষণা করেছে মেট্রো কর্তৃপক্ষ। এবার ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িগুলি মেরামতের জন্য তা খতিয়ে দেখেন মেট্রোর পাঁচ সদস্যের বিশেষজ্ঞ কমিটি। তারপরই মেট্রো কর্তৃপক্ষ জানান, বৌবাজারে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িগুলি আগে মেরামত করা হবে এবং তারপরই শুরু হবে ইস্ট -ওয়েস্ট মেট্রো টানেলের কাজ।

গত মঙ্গলবার বৌবাজারের ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িগুলি পরিদর্শনে যান মেট্রোর পাঁচ সদস্যের বিশেষজ্ঞ কমিটি। ক্ষতিগ্রস্ত কোন বাড়ি কীভাবে মেরামত করা যায় তা এদিন তারা খতিয়ে দেখেন। ঘুরে দেখেছেন স্যাকরাপাড়া লেন ও দুর্গা পিতুরী লেন এর ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িগুলিও। যে যে বাড়িগুলি দুর্বল সেই বাড়িগুলি আগে মজবুত করার ব্যবস্থা করা হবে। মেরামতের পাশাপাশি অক্ষত বাড়িগুলির ক্ষতি ঠেকাতেও সার্ভে করা হয়েছে। নতুন করে কোনও বাড়ি ক্ষতি হলে যাতে সঙ্গে সঙ্গে মেরামত করা যায় সেই বিষয়টিও এদিন তারা খতিয়ে দেখেন। তিনটি পর্যায়ে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির কাজ শেষ করা হবে।

প্রথম পর্যায়ে কম ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িগুলি মেরামত করা হবে। দ্বিতীয় পর্যায়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িগুলির মেরামত করা হবে। তৃতীয় পর্যায়ে নতুন করে যেসব বাড়ি তৈরি করা হবে তার কাজ সম্পন্ন করা হবে। এমনটাই জানানো মেট্রো কর্তৃপক্ষ।