নয়াদিল্লি : ভারত চিন সীমান্ত পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক। শান্তিমূলক পরিবেশে আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে। রবিবার জানাল বিদেশমন্ত্রক। পূর্ব লাদাখের ভারত চিন সীমান্ত নিয়ে যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল তা দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে মিটিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে।

শনিবার সীমান্ত নিয়ে আলোচনা করতে দুই দেশের লেফটেন্যান্ট জেনারেল পর্যায়ের বৈঠক হয়। চিন সীমান্তের লাইন অফ অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোলে মালদোর বর্ডার মিটিং পয়েন্টে হয় বৈঠক। জানা গিয়েছে সংঘাত পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আগে চিনের সেনাবাহিনী, যে অবস্থানে ছিল ফের সেই অবস্থানে ফিরে যেতে বলেছে ভারত। আর ভারতকে রাস্তা নির্মাণ বন্ধ করতে বলেছে চিন।

এই বৈঠকে ভারতের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল হরিন্দর সিং। তিনি ১৪ কর্পসের কমান্ডার। অন্যদিকে টিবেট মিলিটারি ডিস্ট্রিক্টের কমান্ডার ছিলেন চিনা প্রতিনিধি হিসেবে। এই প্রথম উচ্চপর্যায়ের সামরিক বৈঠক হল দুদেশের মধ্যে। ভারত চিন সীমান্তের ৭০ বছর পূর্তির কথা মাথায় রেখে দ্বিপাক্ষিক সামরিক সম্পর্ক মেরামত করার কাজে সম্মত হয়েছে দুদেশ।

লাদাখ ও সিকিম সীমান্তে যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে, তা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে মিটিয়ে ফেলা হয়েছে বলে দুই দেশই জানিয়েছে। আপাতত সীমান্তে শান্তি ও স্থিতাবস্থা রয়েছে বলে জানিয়েছে নয়াদিল্লি। ভারতের পক্ষ থেকে সীমান্তে রুটিন মহড়া চালানো হয়েছে। তেমনই সাধারণ নজরদারি চলেছে চিনের পক্ষ থেকেও।

এদিকে শনিবার বৈঠকের আগে ভারতকে তৃতীয় ব্যক্তির হস্তক্ষেপের বিষয়ে সতর্ক করল চিন। বেজিং এদিন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাম উল্লেখ করে ভারতকে সতর্ক করে। বেজিং জানায় কোনওভাবেই যেন ভারত চিনের সম্পর্কের মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপ করতে না পারে। চিনের আশঙ্কা নয়াদিল্লি বেজিংয়ের টানাপোড়েনে ফায়দা তোলার চেষ্টা করছে আমেরিকা। আমেরিকাকে মধ্যস্ততা করতে দেওয়ার ভুল যেন নয়াদিল্লি না করে।

শেষ একমাসে ভারত-চিন সম্পর্কের তিক্ততা কাটাতে কূটনৈতিকস্তরে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হলেও শেষমেশ তার ফলাফল অশ্বডিম্ব ছিল। সীমান্তের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনায় চিন ক্ষমতা কায়েম করতে বিশালসংখ্যক সেনা মোতায়েন করেছে, ভারতও শক্তি প্রদর্শনে পিছিয়ে যায়নি।

সেনা সূত্রে খবর ছিল, লাদাখ সীমান্তে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখার ওপারে চিন যুদ্ধাস্ত্র মজুত করছে। দিনে-দিনে সেইসব সমরাস্ত্রের বহর বাড়ানো হচ্ছে। একইসঙ্গে সীমান্তে সেনা গতিবিধিও লক্ষ্যণীয়ভাবে বাড়াচ্ছে বেজিং। চিনা গতিবিধি তৎপর হতেই পাল্টা ব্যবস্থা নিয়েছে ভারতও। তবে আপাতত সব নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে বিদেশমন্ত্রক।

Proshno Onek II First Episode II Kolorob TV