আশির দশকের শেষ দিক। বেসরকারি টিভি চ্যানেলের জন্ম হয়নি তখনও ৷ রমরমিয়ে চলছে দূরদর্শনের যুগ৷ ওই সময় বাংলায় ‘চৌধুরি ফার্মাসিউটিক্যালস’ নামে একটি ধারাবাহিক সম্প্রচারিত হত৷ সিরিয়ালটি দেখার ব্যাপারে অনেকেরই একটা আলাদা উৎসাহ দেখা গিয়েছিল। কারণ, ধারাবাহিকটিতে অভিনয় করেছিলেন সুব্রত মুখোপাধ্যায়৷ ওই ধারাবাহিকটিতে তাঁর বিপরীতে ছিলেন সুচিত্রা-তনয়া মুনমুন সেন ৷এবার সুব্রত এবং মুনমুন উভয়ই তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছিলেন কিন্তু দুজনেই ঘটনাচক্রে পরাজিত হয়েছেন৷

রাজনৈতিক নেতাটি আদপে কেমন অভিনেতা হন, তাই আলাদা একটা উৎসাহ নিয়ে সেই সময় ‘চৌধুরি ফার্মাসিউটিক্যালস’ দেখতে টিভির সামনে বসতেন দর্শকরা৷ শুধু তাই নয়, ধারাবাহিকটিতে সুইমিং পুলের একটি দৃশ্যে একান্তে দেখা গিয়েছিল সুব্রত আর মুনমুনকে৷ যা নিয়ে সেসময় বিতর্কও দানা বেঁধে ছিল৷

বিগত কয়েক বছর ধরে বাঁকুড়া লোকসভা কেন্দ্রের সঙ্গে যেন এক অদ্ভূত যোগ রয়েছে গত শতাব্দীর আশির দশকের ওই ধারাবাহিকটির৷ ‘চৌধুরি ফার্মাসিউটিক্যালস’-এর অভিনেতা অথবা অভিনেত্রীকেই প্রার্থী করেছে তৃণমূল৷ ২০০৯ সালে এই কেন্দ্রে কংগ্রেসের প্রার্থী হয়েছিলেন সুব্রত মুখোপাধ্যায়। সেই সময়ে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট ছিল তৃণমূলের। তবে সে ভোট যুদ্ধে সিপিএম প্রার্থী বাসুদেব আচারিয়ার কাছে হারতে হয়েছিল চৌধুরি ফার্মাসিউটিক্যালস ধারাবাহিকের নায়ককে৷

২০১৪ সালে অবশ্য সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের বদলে ওই কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী করে মুনমুন সেনকে ৷ মুনমুন সেনকে জেতাতে কিন্তু সুব্রত মুখোপাধ্যায়কে রীতিমতো সভা করতেও দেখা গিয়েছিল এবং শেষ হাসি হাসতে পেরেছিল তৃণমূল৷ সেবার বাসুদেব আচারিয়াকে হারিয়ে মুনমুন সেন জয়ী হয়েছিলেন৷ তবে ২০১৯ সালের লোকসভায় বাঁকুড়ায় মুনমুনকে প্রার্থী না করা হলেও তাঁকে প্রার্থী করা হয়েছে আসানসোল কেন্দ্র থেকে আর বাঁকুড়া কেন্দ্রে প্রার্থী করা হয় সুব্রত মুখোপাধ্যায়কে ৷

গতবারে আসানসোল কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রার্থী দোলা সেন বিজেপি প্রার্থী বাবুল সুপ্রিয়র কাছে হেরে গিয়েছিলেন৷ ২০১৪ সালে হারা বাঁকুড়া আসন জিতে বেরিয়ে এসেছিলেন মুনমুন সেন তাই দলএবার তাঁর আসন বদলে আসানসোল করে দিয়ে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে৷ কিন্তু শেষরক্ষা হল না এবারে ৷ আসানসোল কেন্দ্র থেকে মুনমুন সেন হারলেন বাবুল সু্প্রিয়ের কাছে ৷ অন্যদিকে বাঁকুড়া কেন্দ্র থেকে লড়ে সুব্রত মুখোপাধ্যায় হারলেন বিজেপির সুভাষ সরকারের কাছে৷