সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : বসন্তে নবপ্রাণ ফিরে পায় প্রত্যেকটি গাছ। শুকনো পাতা ঝড়ে ধীরে ধীরে নতুন পাতা জন্মাতে শুরু করে সমস্ত গাছে। কিন্তু এই গাছের পুনর্জন্ম কথা যেন একটু বেশিী গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এ গাছ এক মহীরুহ। আমফানের প্রলয় নাচন তাকে শুইয়ে দিয়েছিল। অনেকেই ভেবেছিল আর বাঁচানো যাবে না বোটানিক্যাল গার্ডেনের বিখ্যাত বাওবাবকে। কিন্তু গার্ডেনের বিজ্ঞানীদের চেষ্টায় আগেই উঠে দাঁড়িয়েছিল সে। এবার বসন্তের ছোঁয়ায় তার শরীরে আসতে শুরু করেছে হারিয়ে যাওয়া প্রাণ। জন্ম নিয়েছে নতুন পাতা।

শিবপুরের বোটানিক্যাল গার্ডেনে এই মহীরুহের নাম আফ্রিকান বাওবাব। ২০মে, ২০২০ তীব্র ঘূর্ণিঝড় আমফানের দাপটে মাটির গভীরে শিকড়গুলি ছিন্ন হয়ে ধরাশায়ী হয়েছিল এই গাছটি। বাওবাব গাছ ২৫ মিটার পর্যন্ত উঁচু হতে পারে। এর গুঁড়ির পরিধি ৩৫ মিটার হতে পারে। অঙ্ক অনুযায়ী, ২০ জন মানুষ একে জড়িয়ে ধরতে পারবে না। বাওবাব ৩০০০-৬০০০ বছর বাঁচতে পারে। এটি নিজের কাণ্ডে এক লক্ষ তেরো হাজার লিটার জল ধরে রাখতে পারে। আবারী হিসাব বলছে, তিন চারটি খরা অনায়াসে কাটিয়ে দিতে পারে এই গাছ। আমফান এতটাই ভয়ঙ্কর যে তাকেও তাকে মাটি ফেলে দিয়েছিল।

শায়িত গাছটির সব ডালপালা ছেঁটে হালকা করে নিয়ে দড়ি বেঁধে গাছটিকে আবার দাঁড় করাতে সক্ষম হন উদ্ভিদ বিজ্ঞানীরা। সেই গাছেই কচি পাতা আসতে শুরু করেছে। দু’মাসে সেই গাছে প্রথম সবুজ পাতা উঁকি দিয়েছিল। জানান দিয়েছিল তাতে প্রাণ রয়েছে, কিন্তু তখন শীতকাল। কতদিন তার এই প্রাণের আভাস স্থায়ী হতে পারে তা স্পষ্ট ছিল না। তবে বিজ্ঞানীরা চেষ্টা চালিয়ে যান। আগে গোড়া ও গা থেকে ছত্রাক সরিয়ে শুশ্রূষা করা হয়। এরপর গাছটিকে তোলা হয়। সৌজন্যে মেট্রোর ক্রেন। জাতীয় এই উদ্যানের কর্তারা আশাবাদী, আফ্রিকার মরুদেশের প্রজাতি এই গাছের বাঁচার লড়াই শেষপর্যন্ত সফল হচ্ছে। কিছুদিনের মধ্যেই আগের অবস্থাতে ফিরে আসবে শতাব্দীপ্রাচীন কল্পবৃক্ষে।

বাওবাব উর্বরতার প্রতীক, তাই ভারতসহ নানা দেশে গাছটি পুজো করা হয়। এর বিশাল আকার ও কল্পনাতীত গুণের জন্য এর নাম আবার কল্পবৃক্ষ। গার্ডেনে প্রাতঃভ্রমন করতে আসা মানুষ ফুল ধুপ দিয়ে এর পুজোও করতেন। ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড়ে বোটানিকাল গার্ডেনের বহু গাছের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। এমনকী বিশ্বখ্যাত ‘দি গ্রেট বেনিয়ান ট্রি’র প্রায় ৪০টির স্তম্ভমূল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর মধ্যে ১০টি স্তম্ভমূলকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়া গিয়েছে। এছাড়াও আরও প্রায় ৩০টি বিরল গাছকে ইতিমধ্যে উদ্যানে পুনরায় স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে বেশিরভাগ গাছই রাজ্যের মধ্যে একমাত্র শিবপুর বি গার্ডেনেই রয়েছে।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.