কোচবিহারের রাজা জীতেন্দ্র নারায়ণ বাহাদুর ও মহারানি ইন্দিরা দেবী সৌ: LIFE

শুভেন্দু ভট্টাচার্য, কোচবিহার:  সম্পর্কটা দীর্ঘদিনের৷ স্বাধীনতার আগে সেই সম্পর্কের শুরু৷ শতবর্ষ পার করে সেই সম্পর্কের রেশ ধরেই  সুদূর ভদোদরা (বরোদা)-র রাজকুমার হিম্মত বাহাদুর জিতেন্দ্র সিং গায়কোয়াড় এলেন কোচবিহারে৷ লক্ষ্য ইতিহাসের রেশ ধরে পর্যটনের বিস্তার ঘটানো৷

‘রয়্যাল হেরিটেজ ব্রিজ’ নামে একটি সংগঠন আছে হিম্মত বাহাদুর জিতেন্দ্র সিং গায়কোয়াড়ের৷ সংগঠনটি অধুনালুপ্ত দেশীয় রাজ্যগুলির ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও পর্যটন বিকাশের কাজ করে। সেই সূত্রে কোচবিহারে স্থানীয় ইতিহাস নিয়ে এক অনুষ্ঠানে এসেছেন বরোদার রাজকুমার৷ এই অনুষ্ঠানের আয়োজক কোচবিহার আর্কাইভ৷ রাজকুমার জিতেন্দ্র সিং গায়কোয়াড় জানিয়েছেন, কোচবিহারে ঐতিহ্য গুরুত্বপূর্ণ৷ এখানে পর্যটনের ভাল সম্ভাবনা আছে৷

ঐতিহ্যভবন ঘুরে দেখছেন বরোদার রাজকুমার
ঐতিহ্যভবন ঘুরে দেখছেন বরোদার রাজকুমার

অবিভক্ত ভারত বিভিন্ন দেশীয় রাজ্যে বিভক্ত ছিল৷ তাদেরই অন্যতম কোচবিহার ও তৎকালীন বরোদা এস্টেট৷ দুই দেশীর রাজপরিবার আবার আত্মীয়তার বন্ধনেও আবদ্ধ হয়েছিল৷ ১৯১২ সালে  সম্পর্কের শুরু৷  তৎকালীন বরোদার রাজকুমারী ইন্দিরা দেবীর সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন কোচবিহারের মহারাজা জিতেন্দ্র নারায়ণ৷ ইন্দিরা দেবী বা ইন্দিরা রাজে ছিলেন বরোদার মহারাজা তৃতীয় সাইয়াজি রাও গায়কোয়াড়ের মেয়ে

ইতিহাসের তথ্য বলছে, স্বাধীনতার আগে পর্যন্ত প্রায় ৪০ বছর বরোদার সাথে কোচবিহার রাজ্যের সাংস্কৃতিক আদান প্রদান ছিল। ১০৪ বছর আগের সেই সম্পর্কের সেতু পুনঃস্থাপন করতেই কোচবিহারে এসেছেন রাজকুমার হিম্মত বাহাদুর জিতেন্দ্র সিং গায়কোয়াড়। বেশকিছুদিন কোচবিহারে থাকবেন তিনি৷  এর আগে ১৯৬৮ সালে বরোদার কুমার কোচবিহার এসেছেন৷ তখন তাঁর বয়স ছিল পাঁচ বছর৷

রাজকুমার জানিয়েছেন, অধুনালুপ্ত দেশীয় রাজ্যগুলি যেমন বরদা, জয়পুর , যে ভাবে পর্যটনে এগিয়ে গেছে  সেইরকম অগ্রগতি কোচবিহারও করতে পারে। এখানকার ঐতিহ্যশালী নিদর্শন  ঠিকঠাক ভাবে পর্যটকদের কাছে তুলে ধরতে পারলে স্থানীয় পর্যটনের বিকাশ নিশ্চিত।

তিনি বলেন, কোচবিহারের ঐতিহ্যশালী ভবনগুলির সঙ্গে বরদার ভবন নির্মাণের মিল রয়েছে৷ বরদার মতো ঐতিহ্যকে ব্যবহার করে পর্যটনের উন্নতি করতে হলে স্থানীয় বাসিন্দাদের এগিয়ে আসতে হবে৷  কোচবিহার আর্কাইভের সম্পাদক ঋষিকল্প পাল জানান, ঐতিহ্যকে যদি তুলে ধরা যায়, তবে এখানে পর্যটনের ব্যাপক বিকাশ সম্ভব। আমরা কোচবিহারের ইতিহাস সংরক্ষণ করে সকলের সামনে তুলে ধরার কাজ করছি। বরোদার রাজকুমার হিম্মত বাহাদুর জিতেন্দ্র সিং গাইকোয়াড়ের সাহায্য পেয়ে আমরা খুশি৷