লন্ডন: গোটা বিশ্ব মহামারীর বিরুদ্ধে লড়াই করছে। তবে আতঙ্ক কয়েক গুন বেড়ে গিয়েছে যখন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। এই মুহূর্তে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট বা আইসিইউ-তে রয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার পাওয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, এখনও ভেন্টিলেটরে দেওয়া হয়নি তাঁকে। তবে অক্সিজেন সাপোর্ট দিতে হচ্ছে। সোমবারই আইসিইউ-তে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। রবিবার ভর্তি হন হাসপাতালে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘স্কাই নিউজ’ তাদের প্রতিবেদনে লন্ডনের মেডিক্যাল অধ্যাপক ডেরেক হিলের বক্তব্য উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘করোনা আক্রান্ত রোগীদের অক্সিজেনের অভাব ঘটে। আর বরিস জনসন এই মুহূর্তে খুবই অসুস্থ। তাঁর শ্বাস নেওয়ার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’

তবে তিনি এও উল্লেখ করেছেন যে ৬০-এর কম বয়সী ব্যক্তিদের সেরে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। বরিস জনসনের বয়স ৫৫ বছর।

গত মাসের শেষে করোনার সংক্রমণ ধরা পড়ে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের শরীরে। বাড়িতেই ছিলেন তিনি। কিন্তু তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

জানা গিয়েছে, তাঁর শরীরে করোনার উপসর্গগুলো ক্রমশ খারাপের দিকে যাচ্ছে। তাই তাঁকে তড়িঘড়ি ইনটেনসিভ কেয়ারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

রবিবার সন্ধেয় লন্ডনের সেন্ট থমাস হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাঁকে। এরপর থেকেই তিনি চিকিৎসকদের কড়া নজরে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন এক মুখপাত্র। সোমবার বিকেলের পর তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। এরপর তাঁকে ইনটেনসিভ কেয়ারে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেয় মেডিক্যাল টিম।

বরিস জনসন তাঁর বিদেশ সচিব ডমিনিক রাবকে বলেছেন, যেখানে প্রয়োজন হবে সেখানে যেন তিনি সিদ্ধান্ত নেন।

এদিন তাঁর সুস্থতা কামনা করে ট্যুইট করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি বরিস জনসনকে লেখেন যাতে তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান।

১০ দিন কেটে গেলেও এখনও তাঁর শরীরে উপসর্গ দেখা যাচ্ছে। তাই তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ব্রিটিশ সরকারের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতেই তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কারণ ১০ দিন কেটে গেলেও তাঁর শরীরে উপসর্গ দেখা যাচ্ছে।

তিনিই প্রথম কোনও দেশের প্রধানমন্ত্রী যিনি এই ভাইরাসে আক্রান্ত হন। এর আগে ব্রিটিশ রাজ পরিবারের যুবরাজ প্রিন্স চার্লসের শরীরে এই সংক্রমণ ধরা পড়ে। আপাতত তিনি সুস্থ হয়ে গিয়েছেন।

আক্রান্ত হওয়ার কথা দেশবাসীকে নিজেই জানিয়েছিলেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। তিনি জানান, তাঁর শরীরে উপসর্গ দেখা দিতে শুরু করে। এরপরই টেস্ট করেন তিনি। আর তাতে তাঁর রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। তারপর বাড়িতেই সেল্ফ আইসোলেশনে ছিলেন তিনি। কিন্তু শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।