লন্ডন: সদ্য ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন বরিস জনসন। আর তাঁকে নিয়ে আলোচনা বিশ্ব জুড়ে। তিনি মুসলিম বিদ্বেষী, এমন কথাও শোনা যাচ্ছে বিভিন্ন মহলে।

ব্রিটেনের সদ্য নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন একসময় বলেছিলেন, ইসলামই মুসলিমদের কয়েক’শ বছর পিছিয়ে দিয়েছে।

ব্রিটেনের বিখ্যাত পত্রিকা ‘গার্ডিয়ান’-এ প্রকাশিত রিপোর্টে এমন তথ্য উঠে এসেছে। ইংল্যান্ডের নতুন এই প্রধানমন্ত্রী একটি লেখায় দাবি করেছিলেন, ‘মুসলিম বিশ্বে প্রযুক্তি ও সাংস্কৃতিক অগ্রগতির ক্ষেত্রে ধর্মীয় বিধিনিষেধ বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

তিনি লেখেন, ওসমানীয় শাসনকালে উনিশ শতকের মধ্যভাগের আগ পর্যন্ত ইস্তানবুলে ছাপাখানা দেখা যায়নি। এতে বাস্তবিকভাবে তারা কয়েক’শ বছর পিছিয়ে যায়।

রোমের ভ্যাটিকানে সিসটাইন চ্যাপলের সিলিংয়ে মাইকেলাঞ্জেলোর ষোড়শ শতকের শিল্পকর্মের সঙ্গে তুলনা করলে মুসলমানরা কিছুই দিতে পারেনি বলেও উল্লেখ করেন তিনি। বলেন, এগুলো ইসলামিক শিল্পকর্মের উৎকর্ষতাকে ছাড়িয়ে গেছে।

গত বছরে টেলিগ্রাফে লেখা একটি কলামে মুসলমান নারীদের পরা বোরখাকে ‘চিঠির বাক্স’ ও ‘ব্যাংক ডাকাতের’ সঙ্গে তুলনা করেন তিনি।

২০০৭ সালে অ্যান্ড দেন কেইম দ্য মুসলিম শিরোনামের এক প্রবন্ধে উইনস্টন চার্চিলের একটি বিবৃতির কথা উল্লেখ করেন। এতে বলা হয়েছে, ইসলামের চেয়ে বিশ্বে আর কোনও জোরালো পেছনমুখী শক্তি নেই।

বরিস জনসন আরও লিখেছেন, পোপ থেকে উইনস্টন চার্চিল পর্যন্ত যেসব অভিযোগ তুলেছেন, তা কারও কারও খারাপ লাগলেও এখন বলা ও যাচাই করে দেখার সময়। মুসলিম বিশ্বের আসল সমস্যা হচ্ছে ইসলাম।

তিনি বলেন, ধর্মের সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে চার্চিলের বিশ্লেষণ সত্যের একটি কণার চেয়েও বেশি হলে তা মেনে নিতে হবে।

রাজনীতিবিদরা বলেন, এইসব মন্তব্যের পরও জনসন ইসলামবিদ্বেষী খেতাব পাবেন না। কারণ তার প্রপিতামহ তুর্কি সাংবাদিক ও রাজনীতিবিদ আলী কেমাল একজন মুসলমান ছিলেন।