প্রতীকী ছবি

স্টাফ রিপোর্টার, বারাকপুর : ফের বোমাবাজির ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল উত্তর ২৪ পরগনার টিটাগড়ে। এবার বিধানসভার প্রাক্তন সিপিএম বিধায়ক তথা টিটাগড়ের সিপিআইএম নেতা ডাক্তার প্রবীর কুমারের চেম্বার লক্ষ্য করে দুষ্কৃতীরা বোমা ছোঁড়ে বলে অভিযোগ। সোমবার ভোররাতে দুষ্কৃতীরা মুখ ঢাকা অবস্থায় বাইকে করে এসে হামলা চালায় বলে অভিযোগ। দুষ্কৃতীরা সিপিএমের প্রাক্তন বিধায়ক তথা এলাকার স্বনামধন্য ডাক্তার প্রবীণ কুমারের চেম্বারে পরপর দুটি বোমা ছোঁড়ে বলে অভিযোগ।

জানা গিয়েছে, টিটাগড় ব্রহ্মস্থান পার্ক রোডে তাঁর রোগী দেখার চেম্বার রয়েছে। এই বিষয়ে ডাক্তার প্রবীণ কুমার বলেন, “রাত প্রায় পৌনে তিনটে নাগাদ দুজন দুষ্কৃতী বাইকে করে এসে দুটি বোমা ছুঁড়েছে বলে শুনলাম। আমার রোগী দেখার ঘর তছনছ হয়ে গিয়েছে। প্রত্যেকদিন আমি এলাকার গরীব মানুষের চিকিৎসা করি এই চেম্বারে বসে০। ওই দুষ্কৃতীদের ছোঁড়া বোমার আঘাতে দুজন জখম হয়েছেন। তাঁদের বারাকপুর বি এন বসু মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে। আমার চেম্বারের পাশেই একটি বিয়ে বাড়ির অনুষ্ঠান চলছিল। তারাই দেখেছে বোমাবাজির ঘটনা। তখন রাস্তার পাশে থাকা দুই ব্যাক্তি ওই বোমার স্প্লিন্টারের আঘাতে জখম হয়েছে।”

এই ঘটনার অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে টিটাগড় থানায়। এদিকে ঘটনার পর ঘটনাস্থলে আসেন বারাকপুরের প্রাক্তন সিপিএম সাংসদ তড়িৎ বরণ তোপদার, সিপিএম নেত্রী গার্গী চট্টোপাধ্যায় এবং টিটাগড় পুরসভার পুরপ্রধান প্রশান্ত চৌধুরী। প্রাক্তন সিপিএম সাংসদ তড়িৎ বরণ তোপদার বলেন, “প্রবীণ কুমার বাম আমলে দীর্ঘদিনের বিধায়ক ছিলেন। ১০ বছর আগে তিনি সক্রিয় রাজনীতি ছেড়ে দিয়েছেন। বর্তমানে ডাক্তারি করেন। ওর সঙ্গে কারুর কোনও সমস্যা নেই। সকলের সুচিকিৎসা করেন। ও এলাকার নামি কার্ডিওলজিস্ট। ওর উপর এই হামলা মেনে নিতে পারছি না। যেই এই ঘটনা ঘটিয়ে থাকুক নিশ্চই পরিকল্পনা করেই ঘটিয়েছে। এই বাংলায় সবই সম্ভব। তবে দুষ্কৃতীদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির ব্যবস্থা করুক পুলিশ। এত সহজে এই বিষয়টা আমরা ছেড়ে দেব না।”

এদিকে টিটাগড় পুরসভার পুরপ্রধান তথা এলাকার তৃণমূল নেতা প্রশান্ত চৌধুরী নিজে এদিন ঘটনাস্থলে আসেন। তিনি দেখেন, দুষ্কৃতীদের ছোঁড়া বোমায় লন্ডভন্ড হয়ে গিয়েছে ডাক্তার প্রবীণ কুমারের চেম্বার। এই বিষয়ে তিনি বলেন, “শান্ত টিটাগড়কে অশান্ত করা হচ্ছে। ডাক্তার বাবুর সঙ্গে আমাদের যথেষ্ট ভাল সম্পর্ক। যেকোন সামাজিক অনুষ্ঠানে আমরা একসঙ্গে থাকি। পুলিশকে বলছি যাতে দুষ্কৃতীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করে। অনেক দুষ্কৃতী এখন কোণঠাসা হয়ে গেছে। এসব করে তারা ফের এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করতে চাইছে। আমরা এসব চলতে দেব না। আমাদের দলের উচ্চ নেতৃত্বকেও বিষয়টা জানাব।”

স্থানীয় সিপিএম নেতৃত্ব জানিয়েছে, অভিযুক্তদের অবিলম্বে গ্রেফতার করুক পুলিশ, যদি তা না করা হয় তাহলে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে টিটাগর থানা পুলিশ। যদিও এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এদিকে এমন ঘটনার জেরে টিটাগড় এলাকায় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর।

 

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ