স্টাফ রিপোর্টার, বর্ধমান: শিশুদের কাঁধে বইয়ের বোঝার জেরে শিরদাঁড়া সহ বিভিন্ন সমস্যা তৈরী হচ্ছে বলে যে অভিযোগ করা হয়, তা নাকচ করলেন ব্যাঙ্গালোরের মণিপাল হাসপাতালের হোয়াইটফিল্ডের বিশিষ্ট তিন চিকিৎসক।

মেরুদণ্ড সংক্রান্ত বিষয়ক সার্জেন ডা. ভারত পি সরকার, অস্থিরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. কুমারদেব অরবিন্দ রাজমন্যা এবং স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. এন এস সন্তোষ প্রত্যেকেই জানিয়েছেন শিশুদের কাঁধে বইয়ের বোঝার জন্য শিরদাঁড়াতে সমস্যা হবার সম্ভাবনাই নেই।

তাঁদের দাবি,শিরদাঁড়ার যে বিবিধ সমস্যা সাম্প্রতিককালে দেখা যাচ্ছে তার অনেকগুলি কারণ থাকলেও বইয়ের বোঝার জন্য শিশুদের শিরদাঁড়ার সমস্যা তৈরী হচ্ছে এমন নজির মেলেনি এখনও।

রবিবার বর্ধমানে এই তিন চিকিৎসক দীর্ঘদিন ধরে জটিল সমস্যায় ভোগা তিন রোগীকে হাজির করেন।
সাহেবগঞ্জের শ্রীধরসাহেবতলার বাসিন্দা ইসমাইল শেখের ১৩ বছর বয়সেই শিরদাঁড়ায় স্কোলিওসিস ধরা পড়ে। শিরদাঁড়া বেঁকে যায়। অস্ত্রোপচারের পর সেই যুবক এখন সম্পূর্ণ সুস্থ।

একইভাবে হাঁটুতে বাতের কষ্টে রীতিমত চলাফেরা বন্ধ হয়ে যাওয়া হুগলীর আঁটপুরের বাসিন্দা ৬৭ বছরের গৌরী সেনের। অস্ত্রোপচার করার পর তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ। এছাড়াও মুশির্দাবাদের ঝিল্লি এলাকার বাসিন্দা মেনকা দেওয়ান ভাইরাল সংক্রামণজনিত কারণে কুঁজো হয়ে যাচ্ছিলেন। ওষুধের মাধ্যমে তিনিও এখনও পুরোপুরি সুস্থ।

এদিন ডা. ভারত সরকার জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যাচ্ছে ২০ থেকে ৪৫ বছর বয়সীদের মধ্যে নানাবিধ সমস্যা দেখা দিচ্ছে। প্রতি ১০০জন রোগীর মধ্যেই শিরদাঁড়া সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে আসছেন প্রায় ২০জন। এটা উদ্বেগজনক হলেও বর্তমানে উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে এই রোগ নিরাময় হচ্ছে।

এই তিন চিকিৎসক জানিয়েছেন, শিরদাঁড়ার সমস্যা না হবার ক্ষেত্রে প্রতিদিনই প্রয়োজনমত ব্যায়ামের প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমান যুগে গতির সঙ্গে পাল্লা দিতে গিয়ে সেই বিষয়টিই হচ্ছে না। শিশুদের মধ্যে ছুটোছুটি করে মাঠেঘাটে খেলাধূলাও ক্রমশ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। যার পরিণতিতেই শিরদাঁড়ার নানাবিধ সমস্যা দেখা দিচ্ছে।