বনগাঁ: ৬০ টাকার লটারি কেটেই বাজিমাত। লাটারিতে ১ কোটি টাকা পুরস্কার জিতে নিলেন বনগাঁর দিনমজুর। তবে পুরস্কার পেয়ে এবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বনগাঁর গাঁড়াপোতা পঞ্চায়েতের বাসিন্দা জ্যোতিগোপাল সরকার। বনগাঁ থানায় গিয়ে তাঁকে নিরাপত্তা দেওয়ার দাবি জানালেন পুলিশের কাছে।

রূপকথার গল্প যেন সত্যি হল। উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁর গাঁড়াপোতা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার ফকির বাগানের বাসিন্দা জ্যোতিগোপাল সরকার l পেশায় দিনমজুর এই ব্যক্তি বরাবরই লটারি কাটতেন। স্বপ্ন দেখতেন মোটা টাকা পুরস্কার জেতার। এভাবেই কেটেছে বেশ কয়েকটা বছর। মাঝেমধ্যেই কাজ সেরে বাড়ি ফেরার পথে গোটা কয়েক লটারির টিকিট কাটতেন।

পোড়া কপালে কবে ভাগ্যের শিকে ছিঁড়বে তাই ভাবতেন এই দিনমজুর। এবার সত্যিই তাঁর ভাগ্যের শিকে ছিঁড়েছে। মাত্র ৬০ টাকার লটারি কেটেই বাজি মাত করেছেন জ্যোতিগোপাল সরকার। সম্প্রতি পাড়ারই দোকান থেকে লটারি কেটেছেন ওই দিনমজুর। সেই লটারিতে ১ কোটি টাকা পুরস্কার জিতেছেন পেশায় দিনমজুর জ্যোতিগোপাল।

নিমেষেই কোটিপতি হয়ে যাওয়া জ্যোতিগোপাল এখনও স্বপ্নে বিভোর। প্রথমটায় তো বিশ্বাসই হচ্ছিল না তাঁর। বারবার লটারির রেজাল্ট মিলিয়ে দেখছিলেন। একেবারে শিয়র হতেই আনন্দে চোখে জল এসে যায় ওই দিনমজুরের। স্বপ্ন সত্যি হওয়ার আনন্দে এককথায় কিছুক্ষণের জন্য বাক্য-হারা হয়ে যান তিনি।

সম্বিত ফিরতেই অন্য আতঙ্কে ভুগতে শুরু করেছেন জ্যোতিগোপাল সরকার। এক ধাক্কায় ১ কোটি টাকা পুরস্কার জিতে রীতিমতো নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন তিনি। রাতারাতি কোটিপতি হওয়ায় তাঁর বিপদ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি। আর তাই কয়েকজন পরিচিতকে সঙ্গে নিয়ে বনগাঁ থানার দ্বারস্থ হন পেশায় দিনমজুর ওই ব্যক্তি। পুলিশের কাছে নিরাপত্তাহীনতা বোধ করার কথা জানিয়েছেন তিনি।

যদিও, জ্যোতিপ্রকাশকে নিরাপত্তা দেওয়ার ব্যাপারে বনগাঁ থানার তরফে কোনও সদুত্তর মেলেনি। পুলিশি সহায়তা না পেয়ে তাই লটারি-বিক্রেতার কাচেই যান জ্যোতিগোপাল। লটারির টিকিটটি তিনি বিক্রেতাকে জমা দিয়েছেন। দিন আনা-দিন খাওয়া দিনমজুরের সংসারে এবার ফিরবে সুদিন। স্বপ্নগুলো পরপর সত্যি করতে চান ওই দিনমজুর। লটারিতে জেতা টাকা ছেলের পড়াশোনার কাজে খরচ করতে চান তিনি। কিছু টাকা ভাইকেও দিতে চান জ্যোতিগোপাল সরকার।