স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা : বিধাননগর পুরসভার অনাস্থা ভোট বৃহস্পতিবার হচ্ছে না। জানিয়ে দিল আদালত। রায়ের পর সব্যসাচী দত্ত জানান, ‘আদালতের রায়ের প্রতি আমার পূর্ণ আস্থা আছে।’

এদিনের আদালতের রায় কার্যত বিধাননগর পুরসভার মেয়র সব্যসাচীর জয়। অনাস্থা ভোট জেতার ব্যাপারে কতটা আশাবাদী, তার উত্তরে সব্যসাচী বলেন, ”আমার ভোট আছে – বাকিটা দেখুন কী হয়! সতীর্থ কাউন্সিলরদের সঙ্গে কথা হয়। অনেক কাউন্সিলরই আমাকে ফোন করছেন।’

অনাস্থা প্রস্তাবে সই করলেও অনেক কাউন্সিলরই যে তাঁকে ভোট দেবে, এমন ইঙ্গিতই দিয়েছেন তিনি। সেটা অবশ্য সময়ই বলবে। তবে এদিনের আদালতের রায় দানের পর নিজের বাড়িতে বসে বিধাননগর পুরসভার মেয়র সব্যসাচী দত্ত বলেন, ”বিগত দিনেও আদালতের নির্দেশ মেনে চলেছি। আগামিদিনেও মেনে চলবো। আদালতের রায়ের প্রতি পূর্ণ আস্থা আছে। তবে বিধাননগর পুরসভা নিয়ে যেমন যেমন ঘটনা ঘটবে আগামিদিনে তেমন তেমনভাবেই পদক্ষেপ নেব। অনাস্থা প্রস্তাবের নোটিশ দেখে মনে হয়েছিল কোথায় অসঙ্গতি রয়েছে। তাই আইনজীবীদের পরামর্শ নিয়েছি।”

বনগাঁ নিয়ে রাজ্য সরকারকেই কার্যত কাঠ গড়ায় দাঁড় করালেন সব্যসাচী দত্ত, এদিন তিনি বলেন, ”মনে হয় সিরিয়া, লেবানন বা পাকিস্তানের কোনও জায়গায় আছি। পুলিশ ছিল কিন্তু কাউন্সিলর ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ছিল না। প্রচুর আইন শৃঙ্খলার অবনতি হয়েছে। তবে আশা করছি, বনগাঁর মত পরিস্থিতি বিধাননগরে হবে না। যদিও আইন শৃঙ্খলা প্রশাসনই দেখবে।”

বিধাননগর পুরনিগমের মেয়রের পদ থেকে সব্যসাচী দত্তের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রাস্তাব আনা হয়েছিল আগেই। কিন্তু তা ত্রুটিপূর্ণ বলেই বৃহস্পতিবার আস্থা ভোট হবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট।

এদিন বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায়ের বেঞ্চ জানায়, আস্থা ভোটের জন্য যে তলবি চিঠি বা নোটিশ পুর কমিশনার পাঠিয়েছিলেন, তা তিনি আইনানুগভাবে পাঠাতে পারেন না। বরং, বিধাননগরের চেয়ারপার্সন কৃষ্ণা চক্রবর্তীকে এই চিঠি পাঠাতে হবে বলে জানান তিনি। কৃষ্ণা চক্রবর্তী এই নোটিশ জারি করার ২ দিনের মধ্যে আস্থা ভোট করাতে হবে। তবে, সব্যসাচী দত্তকে আস্থা ভোটে যে অংশ নিতে হবে তা স্পষ্ট করে দিয়েছে আদালত।