স্টাফ রিপোর্টার, বাঁকুড়া: স্কুল পরিচালন সমিতির নির্বাচন ঘিরে উত্তেজনা ছড়াল বাঁকুড়ার বড়জোড়ার চান্দাই এলাকায়। বুধবার গভীর রাতে এলাকায় চলে বোমাবাজি। বিজেপির দলীয় কার্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দেয় দুষ্কৃতীরা। তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরাই তাঁদের কার্যালয়ে আগুন ধরিয়েছে বলে অভিযোগ বিজেপি নেতৃত্বের। যদিও বিজেপির তোলা অভিযোগ অস্বীকার করেছে তৃণমূল।

আগামী ১৯ জানুয়ারি বড়জোড়ার চান্দাই হাই মাদ্রাসার পরিচালন সমিতির নির্বাচন। তার আগে নির্বাচন বানচাল করতে রাতের অন্ধকারে এলাকায় বোমাবাজি ও তাদের দলের অফিস আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ বিজেপির। স্থানীয় তৃণমূলের কর্মীরাই মাদ্রাসার ভোটের আগে এলাকায় সন্ত্রাসের পরিবেশ তৈরি করতে চাইছে বলে অভিযোগ। যদিও বিজেপির অভিযোগ অস্বীকার করেছে তৃণমূল।

স্থানীয় বাসিন্দা ও বিজেপি কর্মী জহিরুদ্দিন মল্লিক জানান, এর আগে একবার নির্বাচনের দিন ঘোষণা হলেও পরে তা বাতিল হয়ে যায়। তাঁর আরও অভিযোগ, ফের নতুন করে নির্বাচনের দিন ঘোষণা হতেই তৃণমূল এলাকায় সন্ত্রাস ছড়াচ্ছে। ব্যাপক বোমাবাজি করে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করছে। বিজেপি কার্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে। এমনকী বিজেপির তরফে মাদ্রাসার ভোটে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া প্রার্থীদেরও হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এলাকার তৃণমূল নেতৃত্বকে নিশানা করার পাশাপাশি চান্দাই হাই মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককেও কাঠগড়ায় তুলেছেন এলাকার বিজেপি নেতারা।বিজেপির অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক নিজে বিজেপি প্রার্থীদের মনোনয়পত্র তুলে নিতে চাপ দিচ্ছেন।

বিজেপি নেতা সুজিত অগস্তি বলেন,‘এর আগে দু’বার এখানে ভোটই হয়নি। এবার তৃণমূল ব্যাকফুটে চলে গেছে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ বিজেপির সঙ্গে আছেন৷ এটা বুঝতে পেরেই তৃণমূল এলাকায় সন্ত্রাসের পরিবেশ তৈরি করছে৷’

অন্যদিকে, বিজেপিকে সন্ত্রাসবাদীদের দল বলে মন্তব্য করেছেন তৃণমূলের বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি শ্যামল সাঁতরা। তাঁর অভিযোগ, ‘নির্বাচনে হেরে যাওয়ার ভয়ে বিজেপি নিজেদের পার্টি অফিস নিজেরাই আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে। বিষ্ণুপুর কেন্দ্রে লোকসভা ভোটে তৃণমূল হেরে গেলেও চান্দাই এলাকায় তৃণমূল এগিয়ে৷ এটা বুঝতে পেরেই তৃণমূলের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করতে বিজেপি এই কাণ্ড ঘটিয়েছে।’

হাই মাদ্রাসার পরিচালন সমিতির ভোটের আগেই অভিযোগ-পালটা অভিযোগে সরগরম বড়জোড়ার চান্দাই এলাকা। মাদ্রাসার ভোটের দিন এলাকায় শান্তির পরিবেশ বজায় রাখাই এখন চ্যালেঞ্জ প্রশাসনের কাছে।