সঞ্জয় কর্মকার, বর্ধমান (পূর্ব বর্ধমান) : প্রথমে সেই বাংলাদেশি জেএমবি জঙ্গি ঘাঁটি খাগড়াগড়, পরে বর্ধমান শহরে বোমা মেরে তোলাবাজির প্রতিবাদে সরব ব্যবসায়ী মহল। পুলিশ যদি রবিবারের মধ্যে অপরাধীদের ধরতে না পারে তাহলে সোমবার মুখ্যমন্ত্রীর সফরের পরেই শুরু হবে ব্যবসা ধর্মঘট। এমনই হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
পূর্ব বর্ধমানের চেম্বার অফ ট্রেডার্সের সম্পাদক চন্দ্র বিজয় যাদব জানিয়েছেন, জেলা পুলিশ সুপারের সঙ্গে দেখা করে ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা ও অপরাধীদের গ্রেফতারের দাবি জানানো হয়েছে। অপরাধীদের ধরার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন পুলিশ সুপার।

এদিকে সোমবার বর্ধমানে প্রশাসনিক সভায় আসছেন মুখ্যমন্ত্রী। তার আগে পরপর যেভাবে বোমা মেরে ব্যবসায়ীদের কাছে থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা তোলা চেয়ে হুমকি আসছে তাতে ক্ষোভ ছড়িয়েছে সর্বত্র।

মুখ্যমন্ত্রী এই জেলা ছেড়ে যাওয়ার সময়সীমার মধ্যে অপরাধীকে পুলিশ ধরতে না পারলে ব্যবসা ধর্মঘট করা হবে বলে চন্দ্রবিজয় বাবু জানিয়েছেন। অন্যদিকে, ব্যবসায়িক সুরক্ষা সমিতির সদস্য শীর্ষেন্দু সাধু জানিয়েছেন, তাঁরা গোটা বিষয়টি নিয়ে পুলিশ সুপারের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। পুলিশ ব্যবস্থা নিতে পারলে তাঁরা পরবর্তী সিদ্ধান্ত আলোচনা করে ঠিক করবেন।

আরও পড়ুন : শ্রীকৃষ্ণ মন্দির সংস্কারে সামিল হয়ে বিদেশ সফরেও জন্মাষ্টমী পালন করবেন মোদী

সোমবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশাসনিক সভা হবে বর্ধমান শহরের সংস্কৃতি লোকমঞ্চে। সেখান থেকে অল্প দূরে এক রেস্তোরাঁ মালিকের কাছে ১০ লক্ষ টাকা তোলা চেয়ে তাঁর দোকানে বোমা ছোঁড়ার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রীর সভার আগে ফের বর্ধমান শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে পুলিশের বিরুদ্ধেই বড়সড় প্রশ্ন চিহ্ন উঠতে শুরু করেছে।

শুক্রবার রাত্রি প্রায় ১১টা নাগাদ টাউন হলের সামনে একটি নামি বিরিয়ানি প্রস্তুতকারী রেস্তোরাঁর দোকানের মালিককে প্রথমে ১০ লক্ষ টাকা চেয়ে ফোন করা হয়। এর কিছুক্ষণ পরই দোকানে একটি বোমা ছোঁড়া হয়।

দোকান মালিকের ছেলে রাজা সোনকার জানিয়েছেন, প্রথম রাত্রি ১০টা ১০ মিনিট নাগাদ দোকানের ফোনে ফোন করে ১০ লক্ষ টাকা না দিলে বোমা মেরে দোকান উড়িয়ে দেবার হুমকি দেওয়া হয়। এরপরই তিনি বর্ধমান থানায় যান অভিযোগ করতে। থানার অফিসাররা অন্য একটি ঘটনায় থানা থেকে বেড়িয়ে যাওয়ায় তিনি অভিযোগ লিপিবদ্ধ করতে পারেননি। এরপরই রাত্রি ১১টার পরে যখন দোকান বন্ধ করা হচ্ছিল তখনই একটি বোমা মারা হয় দোকানের ভেতর। এই ঘটনায় দোকানের ৬জন কর্মী জখম হন।

তিনি জানিয়েছেন, আহতদের হাসপাতালে দিয়ে থানায় গিয়েছিলাম। তখন ফের ফোন আসে। হিন্দিতে বলা হয় – বোমার আওয়াজ শুনেছেন। কাল সকাল ১০টায় দোকানেই ১০ লক্ষ টাকা মজুদ রাখবেন। এসে নিয়ে যাবো। এরপরই ফোন কেটে দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন : পিএমও থেকে রাস্তা নির্মাণ বন্ধের পরামর্শ এনএইচএআই-কে

রাজা সোনকার জানিয়েছেন, হুমকির সময় তিনি থানাতেই ডিউটি অফিসারের সামনে বসেছিলেন। পরে সেই নাম্বারে ফোন করলে সুইচ বন্ধ পাওয়া যায়। কে বা কারা এই ঘটনা ঘটালো তা নিয়ে বর্ধমান থানার পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোটা ঘটনায় পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই কয়েকজনকে সন্দেহজনকভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১৯ অগষ্ট একইভাবে বর্ধমানের খাগড়াগড় এলাকায় একটি ইলেকট্রিকের দোকানের সামনে বোমা রেখে ৫ লক্ষ টাকা চাওয়া হয়। এমনকি দোকানের সামনে আস্ত একটি তাজা বোমা রেখে দুষ্কৃতিরা হুঁশিয়ারি দেয় এটা ট্রেলার। আসল ছবি বাকি আছে। টাকা না পেলে সেই ছবি দেখানো হবে। সেই ঘটনায় এখনও কেউ গ্রেফতার হয়নি।