মুম্বই: গত নভেম্বরে মহারাষ্ট্র বিধানসভায় সর্বসম্মতিক্রমে পাশ হয়েছিল মারাঠা সংরক্ষণ বিল৷ যা নিয়ে পক্ষে বিপক্ষে বহু চর্চা চলেছে৷ আপাতত আদলতের বিচার্য এই বিল৷ আজ, বৃহস্পতিবার মারঠা সংরক্ষণ নিয়ে রায় জানাবে মুম্বই হাইকোর্ট৷

বিলটিতে মারাঠিদের সরকারি চাকরি এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়ার জন্য ১৬ শতাংশ সংরক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এদিকে আগে থেকে মহারাষ্ট্রে তফশিলি জাতি, তফশিলি উপজাতি এবং অনগ্রসর শ্রেণীর মানুষদের জন্য ৫২ শতাংশ সংরক্ষণ রয়েছে। এর ফলে মারাঠিদের ১৬ শতাংশ সংরক্ষণ প্রদানের ফলে সব মিলিয়ে সংরক্ষণের শতাংশ বেড়ে দাঁড়াল ৬৮।

মহারাষ্ট্রের আগেই রয়েছে তামিলনাডু৷ সে রাজ্যে সরকারি চাকরি ও শিক্ষাক্ষেত্রে সংরক্ষণের তালিকায় রয়েছে ৬৯ শতাংশ ৩০ মভেম্বর বিলটি পাশ হওয়ার পর সবাইকে ধন্যবাদ জানান মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ৷ তিনি বলেন, ‘বিলটি সর্বসম্মতিক্রমে পাশ হওয়ার জন্য শিবসেনা, কংগ্রেস, এনসিপি, সপা, এমএনএস সহ সবাইকে ধন্যবাদ জানাই। বিলটি আমি আলোচনার জন্য পেশ করি। পরে যা সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়৷’

দীর্ঘদিন ধরেই মারাঠা সংরক্ষণের দাবিতে আন্দোলনচলে মহারাষ্ট্রে। তার জেরে হিংসাও ছড়িয়ে পড়ে। এই পরিস্থিতিতে লোকসভায় ভোটের আগে মারাঠাদের সংরক্ষণ দেওয়ার জন্য ‘মহারাষ্ট্র পিছিয়ে পড়া শ্রেণি সংক্রান্ত কমিশন’-এর রিপোর্টকে হাতিয়ার করে ফড়নবীশ সরকার। পাশ হয় মারাঠা সংরক্ষণ বিল৷ যা ভোটের আগে বিজেপির কৌশলী সিদ্ধান্ত বলেই মনে করা হয়৷

এরপরই এই বিল অনৈতিক ও ভারতীয় সংবিধানের পরিপন্থী বলে আদালতে একাধিক মামলা হয়৷ বিলের পক্ষেও পিটিশন জমা পড়ে আদালতে৷ ফড়নবিশ সরকারের দাবি, মারাঠারা দীর্ঘদিন ধরেই অবহেলিত৷ মারাঠাদের মধ্যে পিছিয়ে পড়াদের সামনে আনতেই এই পদক্ষেপ৷

চলতি বছরের ৬ই ফেব্রুয়ারী বম্বে হাইকোর্টে এই সংক্রান্ত মামলার শুনানি শুরু হয়৷ সওয়াল জবাবে পালা শেষ হয় এপ্রিলে৷ অবশেষে এদিন মারাঠা সংরক্ষণ বিল মামলায় রায় দেবে বম্বে হাইকোর্ট৷