মুম্বই: ১৮’র চৌকাঠও পেরোয়নি৷ তার আগেই বিয়ে হয়ে যায়৷ তখন সে ছিল নাবালিকা৷ ২০১৪ সালের মহারাষ্ট্রের ঘটনা৷ পাঁচ বছর পর সেই বিয়েকে মান্যতা দিল বম্বে হাইকোর্ট৷ আদালতের যুক্তি, মেয়েটির সামাজিক সুরক্ষার কথা ভেবে এই বিয়েকে মান্যতা দেওয়া হয়েছে৷

গত সপ্তাহে বম্বে হাইকোর্টের বিচারপতি রাজিত মোর ও বিচারপতি ভারতী ডাংরের ডিভিশন বেঞ্চে একটি পিটিশনের শুনানি ছিল৷ এক আইনজীবী তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা ধর্ষণের অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পেতে পিটিশন দায়ের করেন৷ তাঁর বিরুদ্ধে একসময় এই ধর্ষণের অভিযোগ আনে নাবালিকা স্ত্রী৷ তবে এখন সে অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেয়৷ ফলে সহজেই ধর্ষণের অভিযোগ থেকে মুক্তি পেয়ে যান আইনজীবী৷

একটু খোলসা করেই বলা যাক৷ ২০১৪ সালে ওই আইনজীবীর সঙ্গে বিয়ে হয় এক নাবালিকার৷ সেই সময় তার বয়স ছিল ১৪৷ আর আইনজীবীর বয়স ছিল ৫২৷ নাবালিকা জানায়, তার দাদু দিদা জোর করে বয়সে বড় এক ব্যক্তির সঙ্গে বিয়ে দিয়ে দেয়৷ নাবালিকার অভিযোগের ভিত্তিতে ওই আইনজীবীকে গ্রেফতার করা হয়৷ ১০ মাস ছিলেন জেলে৷ পরে জামিনে মুক্তি পান৷

এদিকে ২০১৮ সালে সেপ্টেম্বর মাসে মেয়েটি ১৮য় পা দেয়৷ এরপর গত সপ্তাহে বোম্বে হাইকোর্টে পিটিশন দায়ের করে জানায়, স্বামীর সঙ্গে সব বিরোধ সে মিটিয়ে নিয়েছে৷ এখন তাঁর সঙ্গে ঘর সংসার করতে চায়৷ সরকারি আইনজীবী মেয়েটির পিটিশনের বিরোধীতা করেন৷ জানান, এতে সমাজে ভুল বার্তা যাবে৷ যদিও আদালতের মতে, যেহেতু মেয়েটি নিজেই তার স্বামীর সঙ্গে থাকতে চেয়েছে সেখানে এই বিবাহকে খারিজ করার কোনও অর্থ নেই৷

বিচারপতিদের পর্যবেক্ষণ, যখন তার বিয়ে হয় তখন সে নাবালিকা ছিল৷ কিন্তু এখন সে সাবালিকা৷ সে নিজে থেকেই স্বামীর সঙ্গে ঘর করতে চেয়েছে৷ তাই এই বিয়ে এখন বৈধ৷ তাছাড়া এই মামলাটি যদি চলতে থাকে তাহলে অভিযোগকারিনীকেই ভুগতে হবে বেশি৷ সমাজও তাকে সহজে মেনে নেবে না৷ তাই এই মুহূর্তে মেয়েটির ভবিষ্যত সুরক্ষিত করাই আদালতের প্রাধান্য৷ তাই আদালত মেয়েটির স্বামীকে নির্দেশ দিয়েছে মেয়েটির নামে ১০ একর জমি লিখে দিতে হবে৷ সাত লক্ষ টাকার ফিক্সড ডিপোসিট করতে হবে ব্যাংকে৷ এছাড়া স্ত্রীর পড়াশোনা শেষ করতে দিতে হবে৷