তরোয়ালের থেকেও বেশি যে জিনিসটার ‘ধার’ বেশি তা হলো ভাবাবেগ। যার কোপে অনেক ইন্ডিপেন্ডেন্ট কন্টেন্টের মাথা থেকে ধরে আলাদা হয়ে যায়। আর ভাবাবেগের কোপে বন্ধ হয়েছে বা সমস্যায় পড়েছে এমন সিনেমার লিস্ট কম নয়। তা সে ধর্মীয় বা রাজনৈতিক হোক বা জাতি ভিত্তিক কিংবা সামাজিক। সমাজের এমন কিছু অন্ধকার দিক আছে যা মানুষের সামনে আসা প্রয়োজনীয় হলেও নানাবিধ কারণে তা সামনে এলে শিল্পের কণ্ঠ রুদ্ধ করা প্রাচীনকাল থেকেই যেন এক প্রথা।

১৯৭৫ সালে ইন্দিরা গান্ধীর জীবন অবলম্বনে তৈরী পলিটিকাল সিনেমা ‘আন্ধি’ কে ব্যান করা হয়। ইন্দিরা গান্ধী ক্ষমতায় থাকাকালীন এটি নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। তবে পরে, বিজেপি ক্ষমতায় এসে সিনেমা থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছিল।

দীপা মেহতা পরিচালিত ‘ওয়াটার’ সিনেমাটি আশ্রমগুলিতে বিধবাদের কঠিন জীবনযাত্রার চিত্র তুলে ধরায় তা হিন্দুদের ভাবাবেগে আঘাত হানে। সিনেমাটি নিষিদ্ধ করা হয়। ‘আরক্ষন’ ছবিটি ভারতে প্রচলিত বর্ণ ভিত্তিক রিজার্ভেশন ব্যবস্থার কথা তুলে ধরায় তা অনেকের ভাবাবেগে আঘাত করে। ফলস্বরূপ, সিনেমাটি মুক্তির আগে উত্তরপ্রদেশ, পাঞ্জাব এবং অন্ধ্র প্রদেশে নিষিদ্ধ হয়েছিল। উত্তরপ্রদেশ থেকে নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি পরে সুপ্রিম কোর্ট প্রত্যাহার করেছিল।

কয়েকদিন আগের ঘটনা অর্থাৎ ‘তান্ডব’ এর কথা ভুলি কীভাবে। হিন্দু দেব দেবীদের নিয়ে নাকি মজা করা হয়েছে। তার প্রতিবাদে ‘তান্ডব’ বয়ানের দাবি তুলেছিল উত্তর প্রদেশ সরকার। এবার, জাতীয় শিশু সুরক্ষা কমিশনের অভিযোগ,নেটফ্লিক্সে ‘বম্বে বেগমস’ সিরিজটিতে শিশুদের ‘অনুপযুক্ত’ভাবে দৃশ্যায়িত করা হয়েছে।তাই এই সিরিজের সম্প্রচার বন্ধ করার আর্জি জানাল শিশু সুরক্ষা কমিশন।

জাতীয় শিশু সুরক্ষা কমিশনের মত,শিশুদের অনুপযুক্ত দৃশ্যায়ন শিশুমনকে নষ্ট করতে পারে এবং এই ধরনের দৃশ্য শিশু নির্যাতন এবং শোষণ তরান্বিত করতে পারে। এই সিরিজটিতে নাবালকদের যৌনাচার এবং মাদকসেবনকে স্বাভাবিক হিসেবে দেখানো হচ্ছে। অলঙ্কৃতা শ্রীবাস্তবের পরিচালনায় ‘বম্বে বেগমস’-এ অভিনয় করেছেন পূজা ভট্ট, সাহানা গোস্বামীর মতো অভিনেত্রীরা।মুম্বই শহরের সমাজের নানা শ্রেণি থেকে উঠে আসা মহিলাদের জীবনের গল্প উঠে আসছে এই সিরিজে।

কমিশন নেটফ্লিক্সের কাছে বিস্তারিত একটি রিপোর্ট চেয়েছে।নোটিশে কমিশন লিখেছে, শিশুদের নিয়ে বা শিশুদের জন্য কোনও কন্টেন্ট দেখানোর সময় নেটফ্লিক্সের সতর্ক হওয়া উচিত। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সেই রিপোর্ট ওটিটি প্ল্যাটফর্মে পেশ না করতে পারলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে ।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.