ভাটপাড়া: ফের উত্তপ্ত ভাটপাড়া। বিধায়ক তথা বিজেপি নেতা পবন সিংয়ের গাড়ি লক্ষ করে বোমাবাজির অভিযোগ তৃণমূলের বিরুদ্ধে। পালটা বিজেপির বিরুদ্ধেও বোমাবাজির অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল।

পার্টি অফিস পুনর্দখল ঘিরে ঝামেলার সূত্রপাত। মঙ্গলবার রাতে ভাটপাড়া পুরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের সুন্দিয়াপাড়ায় একটি পার্টি অফিস দখল করতে যায় তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা ৷ সেই সময় এলাকা দিয়েই যাচ্ছিলেন বিধায়ক তথা বিজেপি নেতা পবন সিং। অভিযোগ, পবন সিংয়ের গাড়ি লক্ষ করে বোমাবাজি করে তৃণমূল। অল্পের জন্য পবন প্রাণে বাঁচেন বলেও দাবি বিজেপির। বোমাবাজির অভিযোগ তুলে জগদ্দল থানার দ্বারস্থ হন পবন সিং। দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগও দায়ের করেছেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ১০ নম্বর ওয়ার্ডের সুন্দিয়াপাড়ায় আগে ওই কার্যালয়টি তৃণমূলের ছিল। বেশ কয়েকমাস আগে কার্যলয়টি দখল করে বিজেপি। এরপর মঙ্গলবার রাতে ওই কার্যালয় পুনর্দখলে যায় রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল। বিজেপিকর্মীরা বাধা দিতেই বেধে যায় সংঘর্ষ। ভাটপাড়ার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর মনোজ গুহের দাবি, এই কার্যালয়টি বরাবর তৃণমূলেরই ছিল। ২০১৯ সালের ২৩ মে কার্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দেয় দুষ্কৃতীরা। আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায় কার্যালয়ে থাকা যাবতীয় নথিপত্র, আসবাব। কার্যালয় দখল করে নেয়া হয়। এদিন পুরোন কার্যালটিই তৃণমূল পুনর্দখল করতে গিয়েছিল। তাঁকে লক্ষ করে বোমা ছোড়া হয় বলেও অভিযোগ ওই তৃণমূল কাউন্সিলরের।

অর্জুন সিংয়ের মদতেই ক্রমাগত উত্তপ্ত হচ্ছে ভাটপাড়া, এমনই অভিযোগ ১০ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর রমনোজ গুহর। এই প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘ভাটপাড়ার মানুষ আগে এত গন্ডগোল দেখেননি৷ অর্জুন সিংয়ের সৌজন্যেই তা এখন দেখছেন মানুষ৷ মানুষের কাজের জন্যই এবার থেকে ফের কার্যালয়টি আমা ব্যবহার করব।’

এদিকে, সুন্দিয়াপাড়ায় বোমাবাজির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় জগদ্দল থানার পুলিশ ৷ জগদ্দল থানার পুলিশের উদ্যোগেই এলাকার উত্তেজনাকর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। দীর্ঘ কয়েক মাসের টানাপোড়েনের পর সম্প্রতি ভাটপাড়া পুরসভা পুনর্দখল করেছে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল। ভাটপাড়ার পুরপ্রধান নির্বাচিত হয়েছেন ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর অরুণ বন্দ্যোপাধ্যায়।