প্রতীতি ঘোষ, ব্যারাকপুর : এক গৃহস্থের বাড়িতে মাটি কাটার কাজ করতে গিয়ে বোমা ফেটে জখম হলেন এক ঠিকা শ্রমিক । জখম ওই শ্রমিকের নাম জানা গেছে উত্তম বৈদ্য (৩৪) । রবিবার দুপুরে এই ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনার কাঁচরাপাড়া পুরসভার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের মন্দির বাজার এলাকায় ।

উত্তম বৈদ্য নামে ওই ঠিকা শ্রমিক এদিন সকালে জনৈক মুন্না ঠাকুর নামে এক ব্যাক্তির বাড়ির জমিতে মাটি কাটার কাজ শুরু করেন । দুপুরে যখন মাটি কাটছিলেন, তখন ওই শ্রমিকের কোদালের আঘাত পড়ে মাটির নীচে লুকিয়ে রাখা বোমায় । বিকট শব্দে ওই বোমা ফাটতেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে ওই এলাকায় । স্থানীয়রা মুন্না ঠাকুরের জমিতে গিয়ে দেখেন, সেখানে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে চিৎকার করছেন জখম শ্রমিক উত্তম বৈদ্য । সঙ্গে সঙ্গে খবর দেওয়া হয় স্থানীয় বীজপুর থানার পুলিশকে। পুলিশ জখম ওই শ্রমিককে উদ্ধার করে নিয়ে যায় কল্যাণী জওহরলাল নেহরু মেমোরিয়াল হাসপাতালে । সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন ওই শ্রমিক ।

জখম শ্রমিকের হাতে মারাত্মক চোট লেগেছে বলে জানা গেছে । স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, “কাঁচরাপাড়ার এই মন্দির বাজার এলাকায় সম্প্রতি বোমা বাজির ঘটনা ঘটেছিল । সেই সময় এলাকায় বেশ কিছু বোমা পড়ে । স্থানীয় দুষ্কৃতীরা সেই ঘটনা ঘটিয়েছিল । সেই ঘটনার সময় কোন বোমা না ফাটা অবস্থায় হয়ত মুন্না ঠাকুরের জমিতে কোন গর্তে ঢুকে যায়, সেই বোমাই এতদিন পরে মাটি কাটার সময় কোদালের আঘাত লেগে ফেটে যায় । ওই জমিতে আরো বোমা আছে কি না খতিয়ে দেখুক পুলিশ ।”

অনেকের বক্তব্য, স্থানীয় দুষ্কৃতীরা মুন্না ঠাকুরের জমিতে মাটির নীচে বোমা লুকিয়ে রেখেছিল, সেই বোমা মাটি কাটতে গিয়ে ফেটে গেলে ওই ঠিকা শ্রমিক জখম হয় । জখম ওই শ্রমিকের বাড়ি বীজপুর থানার অন্তর্গত কাঁপা এলাকার জাগুলিয়াতে ।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এলাকায় দুষ্কৃতী দৌরাত্ম বন্ধ করতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করুক পুলিশ । দুষ্কৃতীদের বারবাড়ন্ত বন্ধ হলেই কাঁচরাপাড়া এলাকায় অসামাজিক কার্যকলাপ বন্ধ হবে। তবে সঠিক কি কারনে এই ঘটনা ঘটেছে তার তদন্ত শুরু করেছে বীজপুর থানার পুলিশ।