মুম্বই: গর্ভবতী হাতিকে নির্মমভাবে হত্যা করার ঘটনায় সোশ্যাল মিডিয়ায় চলছে তীব্র প্রতিবাদ। এই ঘটনায় প্রশ্নের মুখে এসে দাঁড়িয়েছে মানবিকতা। ঘটনা কেরলের মনপ্পুরমের। এক গর্ভবতী ক্ষুধার্ত হাতি গ্রামে এসেছিলো। কিছু গ্রামবাসী তাকে আতশবাজি ভরা একটি আনারস খাওয়ায়। গলার ভেতরে সেই আতশবাজি ফাটতে থাকে। অসহ্য যন্ত্রণা থেকে বাঁচতে হেঁটে হেঁটে নদীতে গিয়ে মুখ ডুবিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে সেই মা হাতিটি। কিন্তু সেখানেই মৃত্যু হয় অবলা প্রাণীটির। গর্ভের সন্তানের আর পৃথিবীর আলো দেখা হয় না। এই ঘৃণ্য ঘটনার বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন বলিউডের তারকারাও।

রণদীপ হুডা, আলিয়া ভাট, অনুষ্কা শর্মা, বরুণ ধাওয়ান সহ অনেকেই এই ঘটনার বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন। রণদীপ হুডা লিখছেন, “একটি গর্ভবতী হাতিকে আতশবাজি ভরা আনারস খাইয়ে হত্যা করার মতো অমানবিক ঘটনা আর কিছু হয়না। এ মেনে নেওয়া যায় না। অপরাধীদের বিরুদ্ধে কড়া শাস্তি দেওয়ার প্রয়োজন আছে।”

বরুণ ধাওয়ান হাতির একটি ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, “আমরা ভাবি আমরা একদিন শয়তানকে দেখতে পাব যার মাথায় দুটি শিং রয়েছে। কিন্তু চারপাশে নজর রাখুন অনেক শয়তান দেখতে পাবেন। হাতিটির ১৮-২০ মাস বাদে সন্তান প্রসব করার কথা ছিল। সে আহত হওয়ার পরেও কারোর ওপর হামলা করেনি। শুধু নদীতে দাঁড়িয়েছিল যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য আর তারপরে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ল।”

শ্রদ্ধা কাপুর এই ঘটনা প্রসঙ্গে লিখেছেন, “কিভাবে এমন একটা ঘটনা ঘটতে পারে? কিভাবে? মানুষের কি হৃদয় বলে কিছু নেই? আমার এসব দেখে হৃদয় ভেঙে গিয়েছে। অপরাধীদের শাস্তি হওয়া উচিত।”

অনুষ্কা শর্মা একটি পোস্ট করেছেন, “এইজন্যই পশুদের ওপর অত্যাচারের বিরুদ্ধে কঠিন আইন হওয়া উচিত।” তিনিও অপরাধীদের করার শাস্তি দাবি করেছেন।

আলিয়া ভাট লিখছেন, “সাংঘাতিক! ওদের হয়ে আমাদেরকেই সরব হতে হবে। এটা কি কোন মজার জিনিস! হৃদয় ভেঙ্গে গিয়েছে।”

কেরলের মনপ্পুরম এর একজন বনকর্মী সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘটনাটি প্রথম তুলে ধরেন। মুহূর্তে এই ঘটনা ছড়িয়ে পড়ে সারাদেশে। গর্ভবতী হাতিটি বন ছেড়ে খাবারের উদ্দেশ্যে গ্রামে এসেছিলো। কিন্তু তার সঙ্গেই নির্মম মানুষরা এই সাংঘাতিক আচরণ করেছে। দেশজুড়ে ঘটনার নিন্দা হচ্ছে।

বনদপ্তর এর আধিকারিক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট লিখেছেন,” হাতিটি আমাদের বিশ্বাস করেছিল। আনারস খাওয়ার পর যখন তা ফেটে যায় আমি নিশ্চিত ও নিজের কথা ভাবে নি। ও তখন নিজের গর্ভস্থ সন্তানের কথা ভাবছিল।”

আনারস খাওয়ার পর হাতির মুখ গলা সাংঘাতিকভাবে আহত হয়। জানা যায় খিদে পাগলের মতো ঘুরছিল হাতিট ঘুরছিল হাতিটি। কিন্তু কাউকে একবারের জন্য আক্রমণ করেনি। এমনকি আনারস খাওয়ার পরেও কারোকে হামলা করেনি সেই মা হাতিটি।

প্রশ্ন অনেক: দশম পর্ব

রবীন্দ্রনাথ শুধু বিশ্বকবিই শুধু নন, ছিলেন সমাজ সংস্কারকও