মালদহ: রাহুল গান্ধীকে প্রধানমন্ত্রী দেখতে চান দক্ষিণী অভিনেত্রী নাগমা৷ প্রার্থী প্রচারে মালদহে এসে এমনটাই জানান তিনি৷ তৃণমূল ও বিজেপিকে একহাতে নিয়ে সমালোচনা করেন অভিনেত্রী৷ প্রথমে উত্তর মালদহর কংগ্রেস প্রার্থী ইশা খান চৌধুরী হয়ে নির্বাচনী প্রচারে করেন নাগমা।

হরিশ্চন্দ্রপুর ১ ব্লকের খনতা এলাকার মাঠে কংগ্রেস প্রার্থীর সমর্থনে এই নির্বাচনী সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ৪৫ মিনিট সভা করে তিনি চলে যান রতুয়া থানা সংলগ্ন মাঠে। সেখানেও কংগ্রেস প্রার্থীর সমর্থনে নির্বাচনী সভা করেন নাগমা। শুধুমাত্র উত্তর মালদহ কেন্দ্রে প্রার্থী ইশা খান চৌধুরীর হয়ে দুটি নির্বাচনী জনসভা করেন বলিউড এই অভিনেত্রী।

রাহুল গান্ধীর সুরে তৃণমূল প্রার্থী মৌসম নুরকে বিশ্বাসঘাতক বলেন বলিউড অভিনেত্রী নাগমা। এমনকি মৌসম নূরকে আবহাওয়ার সঙ্গে দল বদলানোর প্রসঙ্গ তুলে কটাক্ষ করেন তিনি। বলিউড অভিনেত্রী নাগমা বলেন, ‘‘আবহাওয়া যেমন তার অবস্থান পরিবর্তন করে। ঠিক তেমনভাবেই এই কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী মৌসম নুর দল পরিবর্তন করেছেন। বিগত দিনে মৌসম নুর কংগ্রেসের হয়ে দুই বারের সাংসদ হয়েছেন। কিন্তু তিনি এবারে দলের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। মানুষ এর যোগ্য জবাব দেবে।’’

নাগমা এদিন বিজেপি সরকার এবং মোদীর নাম করে কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, মোদী সরকারের বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও প্রকল্পটি বিজ্ঞাপনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকে গিয়েছে। এই প্রকল্পের ৫৬ শতাংশ টাকা বিজ্ঞাপনে খরচ করেছেন মোদী সরকার। সারাদেশে বেটিদের অবস্থা কি তা সকলেই জানেন। মহিলাদের উপর অত্যাচার কমেনি, বরং বেড়েছে।

তাঁর মতে, মোদী সরকার ক্ষমতায় আসার আগে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তার একটাও পালন করেননি। জনতার উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছুঁড়ে অভিনেত্রী নাগমা বলেন, গরিবের অ্যাকাউন্টে ১৫ লক্ষ টাকা আসবে। তা এসেছে কি? দেশে কংগ্রেসকে ফিরিয়ে আনতে হবে। রাহুল গান্ধীকে প্রধানমন্ত্রী করতে হবে। রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রী হলে দেশের গরীব মানুষেরা মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবেন। যা কংগ্রেসের ইশতেহারে তুলে ধরেছেন রাহুল গান্ধী।

এদিন তুঁতে রঙের প্রিন্টের সালোয়ার কামিজ পড়ে মঞ্চে আসেন বলিউড অভিনেত্রী। নিজের মোবাইলে মঞ্চ থেকে মানুষের জমায়েতের ছবিও তুলতে দেখা যায় বলিউড অভিনেত্রীকে। রীতিমতো মঞ্চে বলিউড অভিনেত্রী নাগমার সঙ্গে সেলফি ও ছবি তুলতে হুড়োহুড়ি পড়ে যায় কংগ্রেসের নেতা, কর্মীদের মধ্যে। উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেস প্রার্থী ইশা খান চৌধুরী। ছিলেন দলের বিধায়ক এবং স্থানীয় নেতাকর্মীরা।