গান্ধীনগর: শিব জ্ঞানে জীব সেবার কথা বলেছিলেন স্বামী বিবেকানন্দ। সেই বিষয়টিই মেনে চলতে গিয়ে নজির গড়েছে গুজরাতের স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা বোলবালা চ্যারিটেবল ট্রাস্ট।

ওই সংস্থার পক্ষ থেকে নিত্যদিন গুজরাতের রাজকোটের বিস্তীর্ণ এলাকায় সরবাওরহ করা হয় খাবার। আহামরি না হলেও সেই আয়োজন কিছু কম নয়। দিনের শেষে হাসপাতাল এবং শহরের সকল দরিদ্র মানুষদের মুখে তুলে দেওয়া হয় রুটি।

দেশ জুড়ে সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচন চলছে। নির্বাচন কমিসনের পক্ষ থেকে প্রচার করা হচ্ছে যে এবারে যেন কোনও ভটার বাদ না যায়। সকল ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে পৌঁছানোর জন্য চালানো হচ্ছে বিশেষ প্রচার। এই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার লক্ষ্যও যেন খানিকটা সেই রকমই। তাঁদের লক্ষ্য, “কেউ যেন রাতে খালি পেটে না শুতে যায়।”

এই বিষয়ে ওই সংস্থার এক সদস্য জানিয়েছেন যে দিনের শেষে সবাই যেন অল্প হলেও আহার পায়। কেউ যেন খালি পেটে না ঘুমাতে যায়। এটাই তাঁদের প্রধান উদ্দেশ্য। তবে এই মহৎ পরিকল্পনার উৎপত্তি রাজকোট শহরেই হয়নি। গুজরাত রাজ্য নয়, বিহার এবং পঞ্জাবে এই ধরনের উদ্যোগ নিতে দেখা গিয়েছে অনেক আগেই। সেই সকল সংস্থার কাজে অনুপ্রাণিত হয়েই বোলবালা চ্যারিটেবল ট্রাস্ট এই বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

কিন্তু কীভাবে সম্পন্ন হয় অভুক্তকে অন্ন দানের মতো এই মহৎ কাজ? খরচ তো কিছু কম হয় বলে মনে হচ্ছে না। এই বিষয়টি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন সংস্থার সদস্য জে উপাধ্যায়। তিনি জানিয়েছেন যে একটু পরিশ্রম হয় বটে, কিন্তু খরচ আহামরি হয় না। শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রুটি সংগ্রহ করা হয়। পরে সেগুলিই বিলি করা হাসপাতালের রগী এবং শহরের অভুক্ত মানুষদের মধ্যে।

জে উপাধ্যায় বলেছেন, “আমাদের গাড়িগুলি নিত্যদিন প্রায় ৫০ কিমি পথ অতিক্রম করে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে রুটি সংগ্রহ করা হয়। রোজ প্রায় তিন হাজার রুটি সংগ্রহ করে বিলি করা হয়।” তিনি আরও বলেছেন, “যাদের খাবার জোটে না তাঁদের এবং হাসপাতালের রগীদের মধ্যে খাবার বিলি করা হয়। সকলের পেট ভরানোটাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।” রাজকোট শহরের বাইরে রাজ্যের অন্যান্য প্রান্তেও এই পরিষেবা চালু করার পরিকল্পনা বোলবালা চ্যারিটেবল ট্রাস্টের আছে বলে জানিয়েছেন জে উপাধ্যায়।