কলকাতা:  বিজেপি ছেড়ে প্রাক্তন মেয়র এবং তাঁর বান্ধবী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূলে ফিরবেন কিনা সেই জল্পনা ফের একবার উস্কে দিলেন বৈশাখী। শুক্রবার, শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করলেন শোভন বান্ধবী বৈশাখী।

প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায় এবং বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপিতে যোগদানের পরেই রাজ্য রাজনীতিতে নাটকের আবহ সৃষ্টি হয়। রাজ্য বিজেপি সদর দফতরে যোগদানের আমন্ত্রণ শোভনবাবু পেলেও বৈশাখী পাননি। আর যা নিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন বৈশাখী। তাঁকে বাংলার বিজেপি নেতৃত্ব অপমান করছেন বলেও সরাসরি দিল্লিতে অভিযোগ জানিয়ে ছিলেন। যদিও এই বিষয়ে শোভন-বৈশাখীকে ‘ডাল-ভাতের’ সঙ্গে তুলনা করেছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। এই মন্তব্যের পরেই রীতিমত ক্ষুব্ধ বৈশাখী গেরুয়া শিবির ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন। একা বৈশাখী নন, শোভনবাবুও ক্রমশ বিজেপির সঙ্গে সম্পর্ক বাড়াতে শুরু করে।

পরবর্তী ক্ষেত্রে ফের একবার তৃণমূলের কাছাকাছি আসতে শুরু করেন দুজনে। হঠাত করেই একদিন তৃণমূল মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের কাছে পৌঁছে যান বৈশাখী। আর এরপরেই ভাইফোঁটার দিন হঠাৎ বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়কে সঙ্গে নিয়ে হাজির হন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়িতে। এরপর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে গুঞ্জন শুরু হয় তবে কি আবার তৃণমূলেই ফিরছেন শোভন-বৈশাখী?

রাজনৈতিক মহল সূত্রে খবর, শোভনের ‘ঘর ওয়াপসির’ ক্ষেত্রে প্রধান বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন তাঁর স্ত্রী রত্না চট্টোপাধ্যায় স্বয়ং। শোভনকে ঘিরে নানা অভিযোগ তিনি জানিয়েছিলেন তৃণমূল মহা সচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে। পাল্টা বৈশাখীও নিজের নানা অভিযোগ জানান পার্থবাবুকে। এই নিয়ে নানা জল্পনার মাঝেই কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবেও শোভনকে দেখা গিয়েছিল মুখ্যমন্ত্রীর খুব কাছাকাছি।

এই সমস্ত বিষয়ে জখম জল্পনা তুঙ্গে তখন হঠাত করেই ফের একবার পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের দফতরে যান বৈশাখী। এই বিষয়ে পার্থবাবু বলেন, ‘মূলত কলেজের বিষয়ে কথা হয়েছে। বৈশাখী ওর কলেজের নানা সমস্যার কথা আমার সামনে তুলে ধরেছিল।’ যদিও বৈশাখী সংবাদমাধ্যমকে জানান, তাঁদের মতো শিক্ষিত লোককে প্রয়োজন নেই বিজেপির।

অন্যদিকে এই সাক্ষাৎ কি শোভণ-বৈশাখীর তৃণমূলে ফেরার পথ প্রশস্ত করল? এই প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে গিয়ে পার্থবাবু বলেন, ‘এটা সম্পূর্ণ দলের ব্যাপার এই বিষয়ে আমার মন্তব্য করা ঠিক হবে না।’ কিন্তু পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈশাখীর এই সাক্ষাতের ফলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। অন্যদিকে ঘনিষ্ঠমহল সূত্রে খবর, শোভনের তৃণমূলে ফেরা পাকা হয়ে থাকলেও বেঁকে বসেছেন শোভন-পত্নী রত্না চট্টোপাধ্যায়। তাঁর বারণেই নাকি আটকে রয়েছে শোভন-বৈশাখীর তৃণমূলে ফেরা। আর এখানেই প্রশ্ন রাজনৈতিকমহলের, তাহলে কি ‘কাঁটা’ সরাতেই কি তাহলে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠকে বসলেন বৈশাখী। যদিও এই প্রশ্নের উত্তর সময়ই দেবে।