সিদ্ধার্থ মুখোপাধ্যায়: ১৯৯৯ সালে এনডিএ আমলে কার্গিল যুদ্ধের সময় কার্যকরী ভূমিকা নিয়েছিল বোফর্স কামান। কিন্তু তার দশ বছর আগে লোকসভা নির্বাচনে রাজীব গান্ধীর নেতৃত্বাধীন কংগ্রেসের ভরাডুবির কারণ হয়ে উঠেছিল বোফর্স চুক্তি। পরবর্তীকালেও মাঝে মাঝে মাথাচাড়া দিয়েছে বোফর্স কেলেঙ্কারির প্রসঙ্গ।

তবে সেদিক দিয়ে বোফর্স কামানের দুর্ভাগ্য এটাই যুদ্ধক্ষেত্রে তার গুরুত্ব বরাবরই চাপা পড়ে গিয়েছে রাজনৈতিক বিতর্কের জেরে। ১৯৮৪ সালে অষ্টম লোকসভার নির্বাচনে রাজীব গান্ধী বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে জয়লাভ করলেও ১৯৮৯ সালে পরবর্তী লোকসভা নির্বাচনে তাঁর ক্ষমতা হারানোর পিছনে প্রধান কারণ হয়ে উঠেছিল বোফর্স কেলেঙ্কারি৷

ওই সময় খবর চাউর হয় এই অস্ত্র‌ কেনা ঘিরে মোটা অঙ্কের ঘুষ দেওয়া হয়েছে।সেই সময় ইন্দিরার পুত্রের প্রধান প্রতিপক্ষ হয়ে উঠেছিলেন মান্ডার রাজা তথা বিশ্বনাথ প্রতাপ সিং, যিনি তাঁর সরকারে অর্থমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। মন্ত্রী থাকাকালীন বিশ্বনাথের সন্দেহ হয়েছিল বোফর্স এর কাছ থেকে অস্ত্র কেনা ঘিরে কোনও অবৈধ লেন-দেন হয়েছে এবং তিনি পরবর্তী কালে তা নিয়েই অভিযোগও তুলেছিলেন ৷

এদিকে রাজীবের সঙ্গে মতবিরোধের জেরে ভিপি সিংকে মন্ত্রিসভার থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল৷ ওই সময় তিনি তিনি ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসর সদস্য পদের পাশাপাশি লোকসভার সদস্য পদও ত্যাগ করেছিলেন। সেই সময় তিনি অরুণ নেহরু ও আরিফ মহম্মদের সঙ্গে নিয়ে জনমোর্চা গঠন করেছিলেন৷

এর কিছু দিন পরে এলাহাবাদ লোকসভা কেন্দ্র থেকে উপ-নির্বাচনে জয়ী হয়ে পুনরায় সংসদে প্রবেশ করেছিলেন। ১৯৮৮ সালে রাজীব গান্ধীর সরকারের বিরুদ্ধে একজোট হয়ে লড়াই করতে জয় প্রকাশ নারায়ণের (যার নেতৃত্বে তৈরি জনতা পার্টি ১৯৭৭ সালে কংগ্রেসি সরকারের পতন ঘটিয়েছিল) জন্মদিন ১১ অক্টোবর তিনি জনতা দল গঠন করেন। জনতা দলে জনমোর্চা, জনতা পার্টি, লোকদল, সমাজবাদী কংগ্রেস সামিল হয়। বিশ্বনাথ প্রতাপ সিং এই রাজনৈতিক দলটির সভাপতি নির্বাচিত হন।

জনতা দলের উদ্যোগে বিভিন্ন আঞ্চলিক দল, দ্রাবিড় মুন্নেত্রা কাঝাগাম, তেলুগু দেশম, অসম গণ পরিষদ ইত্যাদিকে নিয়ে জাতীয় মোর্চা গঠন করা হয়। এর আহ্বায়ক হন বিশ্বনাথ প্রতাপ সিং৷ মোর্চার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন যথাক্রমে এন টি রামারাও এবং পি উপেন্দ্র। তখন রাজীবের বিরুদ্ধে বিরোধীদের প্রচারে প্রধান হাতিয়ার হয়ে ওঠে বোফর্স।

বিরোধী জোটের দিক থেকে স্লোগান ওঠে , ‘গলি গলি মে শোর হ্যায়, রাজীব গান্ধী চোর হ্যায়’। ১৯৮৯ সালে ভোটের আগে এই জাতীয় মোর্চা বা ন্যাশনাল ফ্রন্ট বিজেপি এবং বামদলগুলির সঙ্গে হাত মিলিয়ে এগিয়ে আসে কংগ্রেসকে কেন্দ্র থেকে উচ্ছেদ করতে৷

একক দল হিসেবে কংগ্রেস সবার উপরে থাকলেও আগের নির্বাচনের তুলনায় একেবারে ভরাডুবি হয় রাজীব গান্ধীর নেতৃত্বে দল৷ আগের নির্বাচনে আসন সংখ্যা সাড়ে তিনশো ছাড়ালেও সেবার দুশোর তলায় নেমে যায় আসন সংখ্যা৷

১৯৮৯ সালে কংগ্রেস পায় ১৯৭টি আসন৷ অন্যদিকে ভিপি সিংহের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ফ্রন্ট পায় ১৪৭টি আসন৷ কিন্তু বিজেপি এবং বামেরা বিশ্বনাথ প্রতাপ সিংকে বাইরে থেকে সমর্থন জানানোয় তিনিই হন প্রধানমন্ত্রী ৷

পচামড়াজাত পণ্যের ফ্যাশনের দুনিয়ায় উজ্জ্বল তাঁর নাম, মুখোমুখি দশভূজা তাসলিমা মিজি।