হাওড়া: অঙ্গ প্রতিস্থাপনে হাওড়ায় করা হয়েছিল গ্রিন করিডর। সেরিব্রাল অ্যাটাক হয়েছিল হাওড়ার জিটি রোডের বাসিন্দা অজয় কান্তিলাল দেশাইয়ের (৪৮)৷ তাঁকে ভরতি করা হয়েছিল শ্রীজৈন হাসপাতাল রিসার্চ সেন্টারে। সেখানে শুক্রবার বিকালে তাঁর ব্রেন ডেথ হয়৷

রোগীর পরিবারের লোকজন অঙ্গদানে আগ্রহী বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানায়। এরপর রাত থেকেই শুরু হয় তৎপরতা। আবেদনের ভিত্তিতে ওই বেসরকারি হাসপাতালে মৃত ব্যক্তির অঙ্গ পরীক্ষা করে দেখেন স্বাস্থ্য দফতরের বিভিন্ন বিভাগীয় প্রধানরা। তাঁরা আসেন হাওড়ার জৈন হাসপাতালে। পরীক্ষা নিরীক্ষার পর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানান, কিডনি এবং চক্ষু প্রতিস্থাপন যোগ্য অবস্থায় রয়েছে। তারপর গ্রহীতার খোঁজও মেলে। সেইমতো শনিবার শুরু হয় অঙ্গ সংগ্রহের কাজ। এরপর গ্রিন করিডর করে তা পাঠানো হয়েছে কলকাতার দুই হাসপাতালে। মৃতের পরিবারের সদস্যরাও চেয়েছিলেন অন্যের মধ্যেই তিনি বেঁচে থাকুন। তাঁর শরীরের অঙ্গ নিয়ে বেঁচে যাক আরও অনেকের জীবন। এই সদিচ্ছা নিয়েই মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণে মৃত ব্যক্তির অঙ্গ দান করেন তাঁর পরিবার।

জানা গিয়েছে, গত ১১ ডিসেম্বর হাওড়ার ওই বেসরকারি হাসপাতালে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত কারণে ভরতি হন অজয় কান্তিলাল দেশাই নামে ওই ব্যক্তি। তিনি পেশায় টেক্সটাইল এজেন্টের কর্মী৷ মৃতের পরিবারে বৃদ্ধা মা, দুই দাদা সহ স্ত্রী ও ১২ বছরের এক পুত্র রয়েছে। শুক্রবার বিকেলে হাসপাতালের তরফ থেকে ওই ব্যক্তির ব্রেন ডেথ ঘোষণা করে৷ এরপরেই তাঁর পরিবার ওই ব্যক্তির অঙ্গদানের সিদ্ধান্ত নেন।

অঙ্গদানের সিদ্ধান্তের পরই তাঁর পরিবার স্বাস্থ্য দফতরের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এরপর শুক্রবার থেকে শনিবার পর্যন্ত সরকারের বিভিন্ন চিকিৎসকেরা হাসপাতালে আসেন। তাঁরা মৃতের শারীরিক পরীক্ষা করেন। বিভিন্ন হাসপাতালে কোন কোন অঙ্গের গ্রহীতা রয়েছে তার খোঁজখবর নেন তাঁরা। প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে একটি পিজি হাসপাতালে এবং একটি বেসরকারি হাসপাতালের দুই গ্রহীতাকে কিডনি দেওয়া হবে।

এদিকে হাওড়ার জৈন হাসপাতালে তৎপরতা শুরু হয়। অঙ্গ প্রতিস্থাপনের জন্য শনিবার প্রথমেই আসেন এসএসকেএম হাসপাতালের বিশেষজ্ঞরা। এরপর কলকাতার দমদমের আইএলএস হাসপাতালের চিকিৎসকেরা আসেন। হাওড়া সিটি পুলিশ এবং কলকাতা পুলিশের তরফ থেকে গ্রিন করিডর করে সেই অঙ্গগুলি হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। সিটি পুলিশের পাইলট ভ্যান এরপর অ্যাম্বুলেন্স এবং সামনে বাইক এসকর্ট করে নিয়ে যাওয়া হয়। জৈন হাসপাতাল থেকে ফোরসোর রোড, কাজীপাড়া মোড় হয়ে দ্বিতীয় হুগলি সেতুর টোল প্লাজা হয়ে একটি অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছয় কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে। অপরটি একই রুট ধরে এজেসি বোস ফ্লাইওভার, মা ফ্লাইওভার হয়ে দমদমের উদ্দেশ্যে রওনা হয়।

অজয় বাবুর মা বলেন, ‘‘মানুষটা যখন মারাই গিয়েছেন৷ তখন তাঁর অঙ্গ নিয়ে অন্য কেউ বেঁচে থাকলে ক্ষতি কি। অঙ্গ দান করেছি এটা গর্বের বিষয়। অঙ্গ দাতার মধ্যে দিয়ে আমাদের ছেলে বেঁচে থাকবে।’ মৃতের স্ত্রী অমিতা দেশাই বলেন, ‘স্বামী মারা যাওয়ার পরই তাঁর অঙ্গদানের সিদ্ধান্ত নিই। অঙ্গদাতার মধ্যে দিয়ে বেঁচে থাকবেন আমার স্বামী।’

এদিন হাসপাতালে মৃত ব্যক্তির ভাইপো জয় দেশাই জানিয়েছেন, তাঁর কাকা বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি তাঁর ব্যবসার পাশাপাশি সমাজসেবার কাজে যুক্ত ছিলেন। সেই কারণেই তাঁর অঙ্গ যাতে সমাজসেবায় লাগে তার জন্য কাকা অজয় বাবুর অঙ্গ দানের এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।