মালদহ: কুসংস্কারের বলি এক বৃদ্ধা (old lady)। তাঁকে খুন করার অভিযোগ যেমন উঠছে, তেমনই আসছে সেই ডাইনি (witch) অপবাদ তত্ত্ব। রক্তাত দেহ উদ্ধারের পর পলাতক ছেলে। মালদহ (Maldah) থানার দক্ষিণ ভাটরা এলাকার ঘটনা।

বাড়ি থেকে উদ্ধার লো বৃদ্ধার মৃতদেহ (dead body)। ডাইনি সন্দেহে খুন (murder) করা হয়েছে বলে অভিযোগ প্রতিবেশীদের। আরও অভিযোগ, ওই বৃদ্ধা তাঁর ছেলেদের হাতে‌ খুন হয়েছেন। ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে,মৃত বৃদ্ধার নাম বুধিয়া হেমব্রম(৫০)। তাঁর চার ছেলে। এদের মধ্যে দুইজন বাড়িতে থাকে। একজন ভিন রাজ্যে কাজ করে। আর একজন ছেলে ভবঘুরে। মাস দুয়েক আগেই মৃত্যু হয়েছে স্বামী আমিন কিস্কুর। স্বামীর মৃত্যুর পর থেকেই দুই ছেলে বৃদ্ধা মায়ের উপর অত্যাচার করত বলে অভিযোগ।

বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ি থেকে ওই বৃদ্ধার মৃতদেহ উদ্ধার হয়। শরীরে একাধিক স্থানে ক্ষত চিহ্ন রয়েছে। গ্রামের বাসিন্দা অষ্টমী হাঁসদা জানান, তার ছেলে প্রায়ই বলতো গত কয়েক মাস আগে তার বাবাকে খেয়েছে তার মা। এরপর থেকেই তাদেরও অসুখ-বিসুখ ছাড়ছিল না। এই থেকেই তার মাকে ডাইনি সন্দেহ করতে থাকে। চলে ব্যাপক মারধর। গতকালও তার মাকে ব্যাপক মারধর করে ছেলেরা। বৃহস্পতিবার সকালে দীর্ঘক্ষন দরজা না খোলায় দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকতেই দেখা যায় বৃদ্ধার রক্তাক্ত মৃতদেহ পড়ে রয়েছে। মৃতের গলায় পোড়ার চিহ্ন রয়েছে। প্রতিবেশিরা বলেন, আমাদের সন্দেহ তাকে ডাইনি সন্দেহে তার ছেলে খুন করেছে।

এই ঘটনার খবর দেওয়া হয় মালদা থানার পুলিশকে। পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে নিয়ে গিয়েছে। ঘটনার পর থেকে গা ঢাকা দিয়েছে মৃত বৃদ্ধার তছেলে। মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মালদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত ছেলের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে।

সম্প্রতি জেলার মোথাবাড়িতে ডাইনি অপবাদ দিয়ে দুই কন্যা সহ মা কে কোপানো হয়। এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে একটি আমবাগানের মালিকানা নিয়ে দীর্ঘ বিবাদের জেরে আক্রান্ত হন তারা। আমবাগানের দখল নিতেই ডাইনি অপবাদ ছড়ানো হয়েছিল। তারপর ডাইনি তাডানোর নামে হয় হামলা।

মালদহ সহ বিভিন্ন জেলায় বারবার ডাইনি অপবাদ দিয়ে অসহায় মহিলাদের মারধর ও সালিশি সভা ডেকে চরম লাঞ্ছনা করা হয়। গ্রামীণ জনজীবনে এই ডাইনি কুসংস্কার প্রথা জেঁকে বসে আছে। অভিযোগ, একশ্রেণির গ্রাম্য মোড়ল এই অপবাদকে আরও বেশি করে ছড়ায়। কুসংস্কারের বশবর্তী হয়ে অনেকেই সেসব মেনে নেন। এক্ষেত্রে মা কে ডাইনি বলে অপবাদ দিয়ে মেরে ফেলার অভিযোগ যেমন উঠেছে, তেমনই এলাকাবাসীর একাংশ জানাচ্ছেন ছেলের কুকীর্তির কথা। তদন্তে নেমে পুলিশ সবদিক খতিয়ে দেখছে। পলাতক পুত্র জালে পড়লেই সব স্পষ্ট হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.