সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়: তিনি বিশ্ব ক্রিকেটের ইতিহাসে একমাত্র ক্রিকেটার যিনি দুটি টাই হওয়া টেস্টেরই অংশ ছিলেন। এখন অস্ট্রেলিয়ার দুঃসময় চলছে। আশির দশকে ব্যাগি গ্রিনের দুঃসময়ে তিনি হাল ধরেছিলেন। অজি ক্রিকেটের হারানো গৌরব ফিরিয়ে এনেছিলেন বিশ্বকাপ জিতিয়ে। কিন্তু কখনই তা বিরলতম ঘটনা হয়নি। কিন্তু টাই হওয়া টেস্ট অতি বিরল ঘটনা। সেই বিরল ঘটনারই অংশীদার ছিলেন অজি ব্যাটসম্যান বব সিম্পসন।

১৮৭৭ সাল থেকে শুরু হয়ে আগামী প্রায় দেড়শো বছরে ২হাজারের বেশি টেস্ট খেলা হয়েছে। এর মধ্যে টাই হওয়া টেস্টের সংখ্যা মাত্র দুই। দুবারই এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিল অস্ট্রেলিয়া এবং বব সিম্পসন। প্রথম টাই হওয়া টেস্টে সিম্পসন অস্ট্রেলিয়া দলের হয়ে খেলেছেন। পরের টাই হওয়া টেস্টে সিম্পসন অস্ট্রেলিয়ার কোচ ছিলেন। ১৯৬০ সালে গাব্বায় অস্ট্রেলিয়া বিরুদ্ধে ওয়েস্ট ইন্ডিজের টেস্ট টাই হয়েছিল। তখন আট বলে এক ওভার হত।

প্রথম টাই হওয়া টেস্টে ফ্রাঙ্ক ওরেলের ওয়েস্ট ইন্ডিজ অস্ট্রেলিয়াকে ২৩২ রানের টার্গেট দেয়। টেস্টের শেষ ওভার বল করতে আসেন ওয়েসলি হল। ঘড়িতে তখন বেলা ৫:৫৬। মেরেকেটে মিনিট ছয়েক খেলা হতে পারে। ওভার শুরুর আগে অস্ট্রেলিয়ার স্কোর ছিল সাত উইকেট হারিয়ে ২২৭ রান। অর্থাৎ আট বলে ছয় রান করতে হত। ওভারের সপ্তম বল হওয়ার আগে অস্ট্রেলিয়ার স্কোর ৯ উইকেটে ২৩২। হাতে দুই বলে এক রান করতে হবে। হাতে এক উইকেট। সপ্তম বলেই অস্ট্রেলিয়ার শেষ উইকেটের পতন হয়। তাও রান আউটে। থ্রিলারের নায়ক ছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের জো সলোমন। এই টেস্টে ওপেনিং ব্যাটসম্যান সিম্পসনের দুই ইনিংসে রান ছিল ৯২ ও ০। দুই ইনিংস মিলিয়ে তিন উইকেটও নিয়েছিলেন সিম্পসন।

দ্বিতীয় ঘটনায় অস্ট্রেলিয়ার প্রতিপক্ষ ভারত। চিপক স্টেডিয়ামে অস্ট্রেলিয়া ভারতকে জয়ের জন্য ৩৪৭ রানের টার্গেট দেয়। ভারতের জয়ের জন্যে ৬ বলের ওভারে চার রানের দরকার ছিল ও হাতে ছিল মাত্র এক উইকেট। একদিকে ক্রিজে জমে যাওয়া রবি শাস্ত্রী। অপরদিকে মনিন্দর সিং। এক্ষেত্রেও শেষ দুই বলে বিপক্ষের জয়ের দরকার ছিল মাত্র এক রান। পঞ্চম বলে মনিন্দর সিং গ্রেগ ম্যাথিউসের বলে এলবিডব্লিউ আউট। অতঃপর টেস্ট টাই। যুগ্মভাবে ম্যান অফ দ্য ম্যাচ হন ডিন জোন্স(২১০ রানের ইনিংস) ও কপিল দেব(১১৯ রানের ইনিংস)। এই টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার কোচ ছিলেন বব সিম্পসন।

দেশের হয়ে ব্যাট হাতে ৬২ টেস্টে ৪৬.৮১ গড় সহ ৪৮৬৯ রান করেছেন। বল হাতে ৭১টি উইকেটও নিয়েছেন। ১৯৮৬-১৯৯৬ পর্যন্ত টানা দশ বছর ব্যাগি গ্রিনের কোচ ছিলেন তিনি। সিম্পসনের কোচ হওয়ার আগে একের পর এক সিরিজে জঘন্য পারফরম্যান্স ছিল। ববের ছোঁয়ায় হঠাৎ হেরো দলটাই হঠাৎ বদলে গিয়েছিল। তাঁর কোচিং জীবনে সেরা সাফল্য ১৯৮৭ সালে ভারতে অনুষ্ঠিত হওয়া বিশ্বকাপ জয় এবং ১৯৮৯ সালে ইংল্যান্ডে গিয়ে অ্যাশেজ জয়। পাশাপাশি অবসর গ্রহণের দশ বছর পরে ৪১ বছরের ‘বুড়ো’ বব ফের ফিরে আসেন ক্রিকেটে। ১৯৭৭ সালে ক্রিকেটের বিবর্তনের ওয়ার্ল্ড সিরিজে তাঁর নেতৃত্বেই মাঠে নেমেছিল অস্ট্রেলিয়া।

ক্রিকেট ছাড়ার পর অনেকটা সময় তিনি জড়িত ছিলেন ক্রিকেট দলের পাবলিক রিলেশন ম্যানেজার হিসাবে। আজ প্রত্যেক ক্রিকেট দল এবং নামি ক্রিকেটারের পিছনে থাকে বড় স্পনসরের। একসময় টাকার অভাবে মরতে বসেছিল রাজার খেলা ক্রিকেট। ক্রিকেটকে অর্থের মুখ দেখাতে সাহায্য করেছিলেন এই বব সিম্পসনই। ৩ ফেব্রুয়ারি ৮৩ বছরে পড়লেন এই ক্রিকেটার। রইল শ্রদ্ধার্ঘ্য।