ঢাকা: দুর্নীতির মামলায় জেল বন্দি খালেদা জিয়া৷ তাঁর দল সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনে হতাশাজনক ফল করেছে৷ অভিযোগ, সরকার পক্ষ আওয়ামী লীগ ভোট লুঠ করেছে৷ এমনই বিতর্কের মাঝে ভারত সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশিদের মৃত্যুর সংবাদে বিএনপির অবস্থানের কড়া প্রতিক্রিয়া বিশ্লেষণ করেছে বিবিসি৷

বাংলাদেশের অন্যতম রাজনৈতিক সংগঠন বিএনপির বিরুদ্ধে ভারত বিরোধী তকমা লেগে রয়েছে৷ ঠিক তেমনই আওয়ামী লীগকে বলা হয়ে থাকে ভারতের ঘনিষ্ঠ৷ বিবিসি রিপোর্টে বলা হয়েছে, সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে দু’জন বাংলাদেশী নিহত হবার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিরোধীদল বিএনপি।দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিবৃতি দিয়ে বলেছেন, দশকের পর দশক ধরে সীমান্তে বাংলাদেশীদের হত্যার ধারাবাহিকতা এখনও পর্যন্ত পুরোদমে চলছে।

এর পরেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, বিএনপি কি ফের ভারত বিরোধী অবস্থান নিতে শুরু করল৷ রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, বিএনপির রাজনীতিতে কথিত ভারত-বিরোধিত’ একটা অন্যতম দিক এমন কথা বলা হলেও গত কয়েক বছর তারা এই প্রসঙ্গে প্রায় নীরব ছিল। কিছু পরিসংখ্যান অনুযায়ী যখন বিএসএফের গুলিতে সীমান্তে প্রাণহানির ঘটনা কমে গেছে – তখন বিএনপি এ নিয়ে মুখ খুললো কেন?

বিএনপির মহাসচিবের অভিযোগ, বর্তমান সরকার ‘নতজানু পররাষ্ট্র নীতি’ অর্থাৎ ঝুঁকে যাওয়া বিদেশ নীতি গ্রহণ করেছে৷ সরকার সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী কর্তৃক বাংলাদেশীদের হত্যা এবং ধরে নিয়ে নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ পর্যন্ত করেনি। বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিএনপি মহাসচিব বলেন, সীমান্তে হত্যাকাণ্ড বন্ধ হচ্ছে না৷ কেউ যদি অপরাধ করে বেআইনিভাবে ঢুকে পড়ে, তার জন্য আইন আছে। কিন্তু তাকে গুলি করে মেরে ফেলার বিষয়টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

মির্জা ফখরুলের আরও অভিযোগ, সরকার সঠিকভাবে বাংলাদেশের স্বার্থগুলোকে প্রতিবেশী বন্ধু দেশের কাছে তুলে ধরছে না এবং এসবের সমাধানও করছে না। যেমন ধরেন, সীমান্তে হত্যাকাণ্ড ছাড়াও তিস্তাসহ অভিন্ন নদীর পানি (জল) বণ্টনের সমস্যা আছে, সেই সমস্যাও সমাধান হয়নি। অথচ সরকার দাবি করছে যে, ভারতের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক এখন সবচেয়ে ভালো।”

রিপোর্টে বলা হয়েছে, মানবাধিকার সংগঠন পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর হাতে সবচেয়ে বেশি ১৫৫ জন বাংলাদেশী নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছিল ২০০৬ সালে। পরের বছরও নিহতের সংখ্যা একশ’র বেশি ছিল। এরপরেও সীমান্তে বাংলাদেশী নিহত হওয়ার অনেক ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু বিএনপি আর সেভাবে সোচ্চার ছিল না।

অথচ সর্ব শেষ জাতীয় নির্বাচনের আগে বিএনপি ভারতের সাথে একটা সম্পর্ক তৈরির চেষ্টা করেছিল৷ এখন সরাসরি ভারতের দিকে আঙুল তুলে তারা কী ইঙ্গিত দিল সেই নিয়ে চলছে চর্চা৷