কৌশিক চট্টোপাধ্যায়, রায়গঞ্জ: সমস্ত শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে পেছনে ফেলে এবারে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় বসলেন দেড় ফুট উচ্চতার সোনু গুপ্তা৷ মোহনবাটি হাই স্কুলের ছাত্র সোনুর এবছর পরীক্ষায় সিট পড়েছে কাশিবাটি বিবেকানন্দ উচ্চ বিদ্যাপিঠে৷ শারীরিক প্রতিবন্ধকতা যে একমাত্র বাধা হতে পারে না, তা প্রমাণ করে দেখিয়ে দিচ্ছে রায়গঞ্জ শহরের শক্তিনগরের ছাত্র সোনু গুপ্তা৷

বাবা বাবলু গুপ্তার ছোট্ট একটি মুদির দোকান রয়েছে বাড়িতেই৷ কোনরকমে দিন গুজরান হয় তাঁদের৷ সোনুর একটি ছোট বোনও রয়েছে৷ ২০১৬ সালে মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর জোরকদমে পড়াশোনা চালিয়ে যায় সোনু৷ পরিবারের আর্থিক দুরবস্থার কারণে কলাবিভাগেই ভর্তি হয়৷

বিদ্যালয়ে ও প্রাইভেট টিউশনে নিয়ে যাওয়া ও নিয়ে আসা থেকে শুরু করে যাবতীয় দায়িত্ব সামলাতে হয় বাবা বাবলু গুপ্তাকে৷ শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকলেও ছেলেকে নানাভাবে উত্সাহিত করে আসছেন বাবলুবাবু৷ তার আশা, সোনু একদিন নিজের পায়ে দাঁড়াবেই৷

আজ কাশিবাটি বিবেকানন্দ উচ্চ বিদ্যাপীঠে সোনু বাবার সঙ্গে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছালে তাঁকে সংবর্ধনা দেন সমাজসেবী কৌশিক ভট্টাচার্য৷ তিনি সোনুর সাফল্য কামনা করেন৷ মোহনবাটী হাই স্কুলের শিক্ষক তীর্থ দাস জানান, একদিকে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা ও অন্যদিকে আর্থিক দুরবস্থাকে আমল না দিয়েই সোনু পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে৷ তার এই জীবন সংগ্রাম বিফলে যাবে৷ সাফল্য আসবেই৷