চট্টগ্রাম ও সিলেট: সারি সারি মৃতদেহ পড়ে রয়েছে। তারই মধ্যে গুরুতর জখম এক শিশু কন্যা কাঁদছে। বাংলাদেশ ট্রেন দুর্ঘটনায় প্রবল আলোচিত।

কী তার পরিচয়, জানা যায়নি। যে ১৬ জন মারা গিয়েছেন তাদের কারোর সন্তান নাকি আহতদের আত্মীয় তাও স্পষ্ট নয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-তে দুটি ট্রেনের ধাক্কায় কয়েকটি কামরা দুমড়ে গিয়েছে। সেই কামরাগুলির একটিতে ছিল শিশুটি। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়। মেয়েটির মা-বাবা বা কোনও অভিভাবকের সন্ধান পাওয়া যায়নি। তার চিকিৎসা চলছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া হাসপাতালে।

মঙ্গলবার ভোরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা এলাকায় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা যাওয়া তূর্ণা নিশীথা এক্সপ্রেসের সঙ্গে সিলেট থেকে চট্টগ্রাম আসার উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনের সংঘর্ষ হয়। এতে জখম হয়েছেন শতাধিক যাত্রী।

ভয়াবহ এই দুর্ঘটনার পর শোক জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ক্ষতিপূরণের কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ রেল। বহু জখম যাত্রীর মাঝে কোনওরকমে বেঁচে যাওয়া শিশুটি আপাতত স্থিতিশীল। জানা গিয়েছে, দুর্ঘটনার সময় আহত অবস্থায় উদয়ন এক্সপ্রেসে ছিল সে।

এদিকে দুর্ঘটনার পরেই বাংলাদেশ রেলের দূর্বল পরিকাঠামো নিয়ে শুরু হয়েছে অভিযোগের পালা। বলা হচ্ছে, অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়েই ট্রেন চলাচল করে এই দেশে। প্রায়ই লাইন থেকে নেমে যায় ট্রেনের বগি। অভিযোগের ধাক্কা সামলাতে তড়িঘড়ি রেলের তরফে সাসপেন্ড করা হয় একটি ট্রেনের চালক ও গার্ড-কে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, গভীর রাত থেকে এই এলাকায় ঘন কুয়াশা তৈরি হয়। দূরের কিছু দেখা যাচ্ছিল না। ধারণা করা হচ্ছে, কুয়াশার কারণে, তূর্ণা নিশীথা ট্রেনের চালক সিগন্যাল দেখতে পাননি। সেই কারণে ভুল লাইনে ট্রেন চালিয়ে এই দুর্ঘটনা

আহতদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতাল, আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। চলছে উদ্ধার কাজ। রেলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কাজ খতিয়ে দেখছেন।