দেবযানী সরকার, কলকাতা: পাড়ায় রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা হয়েছে৷ শোনা যাচ্ছে, রক্ত দিলেই ভালো গিফট মিলবে৷ গিফটের লোভে বাবলুদা ছুটলেন রক্ত দিতে৷ রক্ত দেওয়ার আগের মুহূর্তে শারীরিক বিষয় সংক্রান্ত কয়েকটা প্রশ্নের উত্তর দিতে হলেও, তাতে খুব একটা অসুবিধা হল না তাঁর৷ ব্লাড ডোনেটের পর হাতে পেলেন একটা নামী কোম্পানীর প্রেসার কুকার ও সঙ্গে খাবারের প্যাকেট৷ আনন্দে আত্মহারা হয়ে পাড়ার সবাইকে বলতে বলতে বাড়ি ফিরলেন বাবলু দা৷ কিন্তু সেই রক্তের প্যাকেট যখন পরীক্ষা করা হল, তখন জানা গেল কিছুদিন আগেই ম্যালিগন্যান্ট ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি৷ যে কারণে, পুরো রক্তটাই ফেলে দিতে হল৷ লাভ তো কিছুই হল না৷ বরং, রক্ত পরীক্ষা করতে ব্লাড ব্যাঙ্কটির খরচ হল প্রায় ৩,০০০ টাকা৷
বাবলুদা একটা উদাহরণ মাত্র৷ কিন্তু এরকম অনেকেই আছেন যাঁরা নিজের রোগ গোপন করে রক্ত দিতে ছোটেন শুধুমাত্র গিফটের আশায়৷ তাঁদের রক্ত নর্দমাতেই যায়৷ সারা রাজ্যে রক্তের চরম সংকটের মধ্যে এইভাবেই নষ্ট হয় কয়েক হাজার মিলি রক্ত৷ সবার অলক্ষে৷ হাটখোলা মেডিক্যাল ব্যাঙ্কের সম্পাদক ডি আশিস মনে করেন, এই অপ্রীতিকর ঘটনার জন্য দায়ী রক্তদান শিবিরের আয়োজকরা৷ যাঁরা ভালো ভালো গিফটের প্রলোভন দেখিয়ে রক্ত দেওয়ার জন্য টেনে আনছেন৷ আশিসবাবু বলেন, অধিকাংশ শিবিরে প্রপার চেক-আপ না করেই ব্লাড নেওয়া হয়৷
রক্তে এইচআইভি, হেপাটাইটিস বি এবং সি, ম্যালিগন্যান্ট ম্যালেরিয়া, ভিডিআরএলের ভাইরাস আছে কি না দেখা হয়৷ এর মধ্যে কোনও একটা রোগে আক্রান্ত হলে সেই ব্যাক্তির শরীর থেকে রক্ত নেওয়া হয় না৷
প্রতি বছরই গ্রীষ্মের প্রখরতা যত বাড়ে তত রক্তের সংকট দেখা দেয়৷ এবারে আবার সদ্য রাজ্যের ভোটপর্ব মিটেছে৷ স্বাভাবিকভাবেই রক্তের টান পড়েছে ব্লাড ব্যাঙ্কগুলোতে৷ কিন্তু দেখা যাচ্ছে, আর্থিক ভাবে দূর্বল অনেক সংগঠনই রক্তদান শিবির আয়োজন করতে পিছিয়ে যাচ্ছে৷ এমনটা দেখা যাচ্ছে ২০ শতাংশ ক্ষেত্রে৷ কেননা, তাদের দামি গিফট দেওয়ার মতো সামর্থ্য নেই৷ তারা ভাবছে, যদি ডোনার না পাওয়া যায়! সেক্ষেত্রে প্রশ্ন ওঠে, রক্তদান তো জীবন বাঁচায়৷ সেই জীবনের মূল্য কি একটা প্রেসার কুকার কিংবা একটা ঘড়ি হতে পারে?