ফাইল ছবি

জয়নগর: করোনা মোকাবিলায় দেশজুড়ে চলছে ২১ দিনের লকডাউন। অত্যন্ত জরুরি প্রয়োজন ছাড়া নাগরিকদের ঘর ছাড়তেই নিষেধ করা হয়েছে। সোশ্যাল সাইট, টিভি চ্যানেলগুলিতয়ে এই নিয়ে দিনভর চলছে সতর্কতামূলক প্রচার। লকডাউনের জেরে তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে রক্তের। সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আতঙ্কে বন্ধ রয়েছে রক্তদান শিবির। ঘোরতর বিপাকে পড়েছেন নির্দিষ্ট সময় অন্তর রক্তের প্রয়োজন থাকা রোগীরা। সেই সংকট কিছুটা দূর করতে হাত সাহায্যের হাত বাড়ালো জয়নগর থানা। পুলিশের উদ্যোগে হল রক্তদান শিবির।

জয়নগর থানার সহযোগীতায় শান্তিপুর সেবা সমিতির পরিচালনায় শান্তিপুর স্কুলে রক্তদান শিবির অনুষ্ঠিত হয়। রক্তদান শিবির ঘিরে প্রয়োজনীয় সব রকম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছিলেন জয়নগর থানার পুলিশকর্মীরা। রক্তদান শিবিরে আশা প্রত্যেককে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে আবেদন করা হয়েছিল। নিয়ম মেনে নির্দিষ্ট দূরত্বে দাঁড়িয়ে থেকেই প্রত্যেকেই রক্তদান করেন।

এদিন ৬০ জন জয়নগরের শান্তিপুর স্কুলে রক্তদান শিবিরে রক্তদান করেন। জয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক অতনু সাঁতরা নিজেও ওই শিবিরে রক্ত দান করেন। ওই পুলিশ আধিকারিকের দাবি, তাদের এই উদ্যোগের জেরে সংকটের এই সময়ে কিছুটা হলেও রক্তের চাহিদা মিটবে। দেশজুড়ে থাবা বসিয়েছে মারণ করোনা ভাইরাস। করোনা মোকাবিলায় লকডাউন ছাড়া আর কোনও পথ খোলা ছিল না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

এই অবস্থায় রাজ্যগুলিকেও লকডাউন পালনে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে আবেদন করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। একসঙ্গে বহু মানুষ যেখানে জমায়েত হয় আপাতত লকডাউন চলাকালীন সেই সব অনুষ্ঠানে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে প্রশাসনের তরফে। সেই কারণেই রক্তদান শিবির, অন্যান্য সভা জমায়েত আপাতত বন্ধ রয়েছে।

এতেই বেড়েছে সংকট। রক্তদান শিবির বন্ধ থাকায় দরুণ সংকটে পড়েছে নির্দিষ্ট সময় অন্তর রক্তের প্রয়োজন থাকা রোগীরা। বিশেষত থ্যালাসেমিয়ার রোগীদের সমস্যা বহুগুণে বেড়েছে। তাই ব্যাংকিং রক্তের এখন দারুণ আকাল। সংকটের এই দিনে আবারও পাশে দাঁড়িয়েছে পুলিশ। জেলায় জেলায় পুলিশের উদ্যোগে হচ্ছে রক্তদান শিবির। পুলিশ কর্মীরা নিজেরাই ডিউটির ফাঁকে এসে রক্তদান করছেন।