সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, হাওড়া: ওরা অঙ্গদান বা কোনও অঙ্গ প্রতিস্থাপন করতে পারেননি। তবে এক জীবনের পরিবর্তে অনেক জীবন বাঁচানোর বার্তা দিলেন দুই ভাই ও এক বোন । মায়ের শ্রাদ্ধে আয়োজন করলেন রক্তদান শিবিরের। বার্তা পৌঁছল গ্রাম্য হাওড়ার বাড়ি বাড়ি, এমন ভাবেও শ্রদ্ধাজ্ঞাপন সম্ভব।

রক্তদান মানে জীবনদান,রক্তদান মানে প্রাণদান।একফোঁটা রক্তের জন্যই ঝরে যায় কতশত প্রাণ,হাহাকার দেখা দেয় একবিন্দু রক্তের জন্য। মুমূর্ষু রোগীদের স্বার্থে এবার মা’য়ের শ্রাদ্ধানুষ্ঠানে স্বেচ্ছায় রক্তদান শিবির আয়োজনের মধ্য দিয়ে সমাজের কাছে অভিনব বার্তা পৌঁছে দিলেন পুত্ররা। দীর্ঘদিন ধরেই ক্যান্সারে ভুগছিলেন উদয়নারায়ণপুর ব্লকের হরালী গ্রামের কৃষ্ণা করণ।

গত ২৯ জানুয়ারী সকাল ৭ টায় মারা যান কৃষ্ণাদেবী। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৫৬।তাঁর শ্রাদ্ধানুষ্ঠান উপলক্ষ্যেই করণ পরিবারের পক্ষ থেকে নিজেদের বাসভবনে রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা হয়। রক্তদান শিবিরে ৬ জন মহিলা সহ মোট ৫৯ জন শুভাকাঙ্ক্ষী রক্তদান করেন।

কলকাতার লাইফ কেয়ার ব্ল্যাড ব্যাঙ্কের চিকিৎসকরা রক্ত সংগ্রহ করেন।কৃষ্ণা করণের দু’ই পুত্র প্রনবেশ করণ,প্রলয় করণ ও কন্যা টুম্পা করণের উদ্যোগেই মূলত এহেন আয়োজন।

প্রণবেশবাবু বলেন ,’রক্তদানের মধ্য দিয়ে তাঁদের মা’য়ের স্মৃতি বেঁচে থাকবে সমাজের বেশ কিছু মানুষের মধ্যে। সেই লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ।’ করণ পরিবারের পক্ষ থেকে প্রত্যেক রক্তদাতাকে গোলাপ ফুল দিয়ে অভ্যর্থনা জানানো হয়।

ছেলেমেয়েদের এই উদ্যোগে খুশি কৃষ্ণা দেবীর স্বামী তারক করণ। তারকবাবুর কথায়,’মুমূর্ষু রোগীদের পাশে এভাবে যদি দাঁড়ানো যায় তা সমাজের পক্ষে অত্যন্ত ভালো দিক।’

সম্প্রতি ৪ ফেব্রুয়ারি, বিশ্ব ক্যান্সার দিবসে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা ‘হু’ জানিয়েছে, গত বছর ভারতের মোট ১.৩৫ বিলিয়ন (১৩৫ কোটি) জনসংখ্যার মধ্যে নতুন করে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছেন ১.১৬ মিলিয়ন (১১.৬ লক্ষ) জন, মৃত্যু হয়েছে ৭ লক্ষ, ৮৪ হাজার ৮০০ জনের, এবং পাঁচ বছর ধরে ক্যান্সারে ভুগছেন ২.২৬ মিলিয়ন (২২.৬ লক্ষ) মানুষ।

এই রিপোর্টে বলা হয়েছে যে ২০১৮ সালে ভারতে যে ছ’টি ধরনের ক্যান্সার সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে, সেগুলি হলো স্তন (ব্রেস্ট) ক্যান্সার (১ লক্ষ ৬২ হাজার ৫০০), মুখ-গহ্বরের (ওরাল) ক্যান্সার (১ লক্ষ ২০ হাজার), সার্ভিকাল (জরায়ু-মুখ) ক্যান্সার (৯৭ হাজার), লাং (ফুসফুস) ক্যান্সার (৬৮,০০০), পেটের ক্যান্সার (৫৭ হাজার) এবং কোলরেকটাল ক্যান্সার (২০ হাজার)। এই ছ’রকম ক্যান্সার একত্রিত করলে দাঁড়াচ্ছে নতুন করে আক্রান্তদের ৪৯ শতাংশ।

গত বছরের আক্রান্তদের মধ্যে রয়েছেন ৫.৭০ লক্ষ পুরুষ, যাঁদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে যে ৪৫ শতাংশই মুখগহ্বরের ক্যান্সার (৯২ হাজার), ফুসফুসের ক্যান্সার (৪৯ হাজার), পেটের ক্যান্সার (৩৯ হাজার), কোলরেকটাল ক্যান্সার (৩৭ হাজার), বা ইসোফেগাসের (অন্ননালী) ক্যান্সারে ভুগছেন। মহিলা রুগীর মোট সংখ্যা ৫.৮৭ লক্ষ, যাঁদের মধ্যে ৬০ শতাংশই ভুগছেন স্তন ক্যান্সার (১ লক্ষ ৬২ হাজার ৫০০), জরায়ু-মুখের ক্যান্সার (৯৭ হাজার), ওভারিয়ান (ডিম্বাশয়) ক্যান্সার (৩৬ হাজার), মুখগহ্বরের ক্যান্সার (২৮ হাজার), বা কোলরেকটাল ক্যান্সারে (২০ হাজার), বলছে রিপোর্ট।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ