স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: করোনা সংক্রমণের জেরে রাজ্যের ব্লাডব্যাংকগুলিতে রক্তের আকাল দেখা দিয়েছে। আক্ষরিক অর্থেই রক্তশূন্য অবস্থা। এর মধ্যে রক্তের জরুরি প্রয়োজনে পড়লে, ব্লাডব্যাংকে গিয়ে নিরাশ হতে পারেন রোগীর পরিবারের লোকেরা। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে এগিয়ে এল কলকাতা পুরসভা। তাদের উদ্যোগে মঙ্গলবার থেকে শহরের প্রতিটি ব্লাড ব্যাঙ্কে ঘণ্টায় চারজন করে রক্ত দেবেন। করোনার ঠেলায় বাাংলাজুড়ে রক্তের সংকট।

দিনে দিনে তা আরও তীব্র আকার নেবে বলেই ধারণা। ব্লাডব্যাংকগুলিতে ফুরিয়ে আসছে রক্তের সঞ্চয়। লকডাউনে রক্তের জোগান পুরোপুরি বন্ধ। রবিবার ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষ জানিয়েছেন, সব কাউন্সিলর , স্বেচ্ছাসেবি সংগঠন, ক্লাবকে ইচ্ছুক রক্তদাতাদের তালিকা প্রস্তুত করতে বলা হয়েছে।ওয়ার্ডে-ওয়ার্ডে তৈরি করা হচ্ছে ইচ্ছুক রক্তদাতাদের তালিকা। রাজনীতির রং না দেখেই এই রক্তাদাতাদের তালিকা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই নির্দিষ্ট ডেটাবেস তৈরি করে এই কাজ শুরু হয়েছে।

উল্লেখ্য, বছরভর রাজনৈতিক দলগুলি ছাড়াও বিভিন্ন ক্লাব ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা রক্তদান শিবিরের আয়োজন করে থাকেন। ফলে, রক্তের চাহিদা ও জোগানের মোটামুটি সামঞ্জস্য থাকে। এপ্রিল-মে মাসের তীব্র গরমে, রক্তদান শিবির বছরের অন্য সময়ের তুলনায় খানিক কম হওয়ার কারণে, কিছুটা সংকট দেখা দিলেও, পুরোপুরি আকাল পড়ে না। কিন্তু, করোনা-করোনা করে, রাজ্যের সর্বত্র রক্তদান শিবির বন্ধ।

করোনা সংক্রমণের আশঙ্কায় কোনও ক্লাব বা স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাও গত কয়েক সপ্তাহ ধরে শিবিরের আয়োজন করতে পারেনি। তার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ-সহ গোটা দেশে লকডাউন চলছে। রক্তের আকাল মেটাতে পুরসভার এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে রক্তের হাহাকার অনেকটাই সামাল দেওয়া যাবে মনে করা হচ্ছে।