লেখক সৈকত ঘোষ

আমি সৈকত বলছি। আমি ভারতের একজন সাধারণ নাগরিক। আমার ধর্ম মানবতা। আমি একটু একটু করে হতাশ হয়ে পড়েছি ভারতবর্ষের রাজনৈতিক অধঃপতনে। আজ ভারতবর্ষে প্রতিটি রাজনৈতিক দল শুধুমাত্র ধর্মের নামে রাজনীতি করছে আর আমাদের বোকা বানাচ্ছে।

রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মীরা, এটা ভুলে যাচ্ছেন যে তাঁদেরকে আমরাই নির্বাচন করেছি। নির্বাচন করেছি, সমাজ এবং দেশের উন্নয়নের জন্য, ধর্মের নামে উস্কানি দেওয়ার জন্য নয়। ভারতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলি তাদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য, সাম্প্রদায়িক উস্কানিমূলক প্ররোচনার মাধ্যমে মানুষের ভোট ব্যাংক তৈরি করে এবং ভোটে জেতে।

আমাদের সকলকে বুঝতে হবে যে এরা আমাদের ধর্মের নামে উস্কানি দিয়ে আসলে তাদের রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করছে। এই সমস্ত নেতা-মন্ত্রীরা চায় জনগণকে ধর্মের নামে ভুলিয়ে রাখতে, মানুষের উন্নয়নের কথা না ভাবে। আর নেতারা সহজেই তাদের রাজনৈতিক এবং আর্থিক দিক থেকে লাভবান হতে পারে।

মানুষের সঙ্গে মানুষের বিভেদ তৈরি করে হিংসা ছড়ানোর মূল কান্ডারী হল এই নেতা-মন্ত্রীরাই। তাই এবার থেকে যখনই কোনও রাজনৈতিক কর্মী বা নেতারা ধর্মের নামে উস্কানি দেবে তখন আমাদের উত্তর হওয়া উচিত, ‘আমরা আমাদের ধর্মটা খুব ভালোভাবেই বুঝি, তোমরা তোমাদের কাজটা কর। দয়া করে ধর্ম নিয়ে দালালি কোরো না। শুধুমাত্র ধর্মের নামে রাজনীতি হবে, এটা বরদাস্ত করা উচিৎ নয়। তাদেরকে এটা বুঝিয়ে দেওয়া উচিত ধর্ম আমরা বুঝে নিতে পারি। যে যার ধর্ম তার কাছে, তোমাদের কাজটা তোমরা করো। তোমরা উন্নয়ন উপর জোর দাও। মন্দির-মসজিদ-গির্জা বানানো তোমাদের কাজ নয়। তোমাদের কাজ হল উন্নয়ন।

দেশের উন্নয়ন সাধন করাটাই তোমাদের কাজ। ভারতের ততদিন কোনও উন্নতি হবে না, যতদিন না এই রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা এই ধর্মের নামে রাজনীতি বন্ধ করছে। উন্নতি তখনই সম্ভব যখন তারা দেশের প্রগতি নিয়ে রাজনীতি করবে।

আমি দেশের প্রতিটি মানুষের কাছে আর্জি জানাচ্ছি, যে সব রাজনৈতিক দল এই ধর্মের নামে রাজনীতি করে, তাদের প্রশ্রয় দেবেন না। তাদের জিজ্ঞেস করুন, তাঁরা জনগণের জন্য কি কি উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন।

আমি এটা মনে করি, যে কোনও গণতান্ত্রিক দেশে যে কোন আইন যা জনগণ বিরোধী এবং যে আইন জনগণ চায় না সেই আইনের সংশোধন হওয়া উচিত।

আমার মতে মানুষের একটাই ধর্ম হওয়া উচিত তা হল মানবতা। মানুষের সঙ্গে মানুষের প্রীতি ও ভালোবাসা সম্পর্ক। মানুষের থেকে কোনও জাতি-ধর্ম বড় হতে পারেনা।

জয়হিন্দ, বন্দেমাতারাম