অস্টিন:  টেক্সাসের পোর্ট নেচেসে একটি রাসায়নিক কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ। এরপর সেখানে বিধ্বংসী আগুন লেগে যায়। আর এই ঘটনার পরেই দ্রুত ওই কারখানা সংলগ্ন এলাকা থেকে প্রায় ৬০ হাজার মানুষকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। ভয়াবহ বিস্ফোরণের ভিডিও ইতিমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়াতে ভাইরাল।

যেখানে দেখা যাচ্ছে, গোটা কারখানায় আগুন ছড়িয়ে পড়ার আগে বেশ কয়েকদফা আলোর ঝলকানি দেখা গিয়েছে বলে জানাচ্ছে বিবিসি। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই ছিল যে কাছাকাছি একটি বাড়ির দরজাও উড়ে গিয়েছে বলে জানাচ্ছে বিবিসি। ভয়াবহ এই বিস্ফোরণে এখনও পর্যন্ত তিনজন গুরুতর আহত বলে খবর।

স্থানীয় মানুষজন জানিয়েছেন, রাত ১টার দিকে কারখানাটিতে প্রথম বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এরপর ছোটখাট বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণ হয়। এখনও পর্যন্ত কি কারণে এই বিস্ফোরণ সে সম্বন্ধে কিছুই জানা যায়নি। তবে বিস্ফোরণের ফলে যে কম্পন তৈরি হয় তাতে কারখানাটির ৪৮ কিলোমিটার দূরেও অনুভূত হয় বলে বিবিসি জানিয়েছে। দুপুরে আরও কয়েকটি বড় বিস্ফোরণের পর কর্তৃপক্ষ আশপাশের এলাকা থেকে লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে নির্দেশ জারি করে।

তাৎক্ষণিকভাবে রাসায়নিক কারখানাটিকে কেন্দ্র করে ৬ দশমিক ৪ কিলোমিটার বৃত্তের মধ্যে থাকা সব বাড়ি ও শহর থেকে লোকজনকে সরানোর কাজ শুরু করে জরুরি বিভাগের কর্মীরা। নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়া লোকজন কবে নিজেদের বাড়িতে ফিরতে পারবেন, সে সম্বন্ধে প্রশাসনিক আধিকারিকরা কোনও তথ্য দিতে পারেননি। এক বিবৃতিতে টিপিসি গ্রুপ জানিয়েছে, তারা তাদের জরুরি অবস্থা মোকাবেলার পরিকল্পনাকে সক্রিয় করেছে এবং পরিস্থিতি সামলাতে পোর্ট নেচেস দমকল বাহিনীর সহযোগিতা চেয়েছে।

বিস্ফোরণের কারণে কয়েক মাইল দূরের বাড়িঘরের জানালার কাঁচও চুরমার হয়ে যায় বলে বাসিন্দারা স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কেডিএফএমকে জানিয়েছেন। প্রসঙ্গত, এনিয়ে চলতি বছরই টেক্সাসে অন্তত ৪টি রাসায়নিক কারখানায় বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটল বলে জানিয়েছে সংবাদসংস্থা রয়টার্স। এই ধরনের দুর্ঘটনার পরিমাণ ‘উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যাওয়ায়’ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন টেক্সাসের কমিশন অন এনভায়রনমেন্টাল কোয়ালিটির নির্বাহী পরিচালক টোবি বেকার।

টিপিসি গ্রুপের এই কারখানাটি হিউস্টনের ১৪৫ কিলোমিটার পূর্বে বলে জানিয়েছে বিবিসি। এটি মূলত রাবার ও রঞ্জক পদার্থ তৈরিতে প্রয়োজনীয় পেট্রোকেমিকেল প্রস্তুত করে। টিপিসির ওয়েবসাইটে কারখানাটির ৪ লাখ ৮ হাজার ২৩৩ টন পর্যন্ত রাসায়নিক পদার্থ তৈরির সক্ষমতা আছে বলে দাবি করা হয়েছে।