সাউদাম্পটন: বোলারদের গড়ে দেওয়া মঞ্চে দ্বিতীয় ইনিংসে জারমেইন ব্ল্যাকউডের দৃঢ়চেতা ব্যাটিং প্রথম টেস্টে জয় এন দিল ক্যারিবিয়ানদের। ২০০ রানের লক্ষ্যমাত্রা তাড়া করতে নেমে ২৭ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে একসময় হারের ভ্রুকুটি তাড়া করছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজকে।

স্বল্প রান তাড়া করতে নেমে প্রয়োজন ছিল দু-একটি লম্বা পার্টনারশিপ। রস্টন চেজ এবং শেন ডাউরিচকে সঙ্গে নিয়ে দলকে লক্ষ্যমাত্রার কাছাকছি পৌঁছে দিয়েছিলেন ব্ল্যাকউড। শেষটা করলেন অধিনায়ক জেসন হোল্ডার এবং জন ক্যাম্পবেল। দ্বিতীয় ইনিংসে ৮ উইকেটে ২৮৪ রান তুলে চতুর্থদিনের খেল শেষ করেছিল ইংল্যান্ড। শেষদিন অ্যাজাস বোলে অপেক্ষা করছিল এক উত্তেজক লড়াই।

পঞ্চমদিন বাকি ২ উইকেটে ২৯ রানের বেশি তুলতে সক্ষম হয়নি ইংল্যান্ড। প্রথম ইনিংসে ৪ উইকেটের পর দ্বিতীয় ইনিংসে ৫ উইকেট দখল করলেন ক্যারিবিয়ান পেসার শ্যানন গ্যাব্রিয়েল। চতুর্থদিন জ্যাক ক্রলের ৭৬ এবং অধিনায়ক বেন স্টোকসের ৪৬ রানে ভর করে বড় রানের লক্ষ্যমাত্রা দেওয়ার দিকে এগোলেও শেষদিকে গ্যাব্রিয়েলের দা[পুটে পেস এবং টেল এন্ডারদের ব্যর্থতায় ২০০ রানের বেশি টার্গেট সেট করতে পারেনি ইংরেজরা।

যদিও চতুর্থ ইনিংসে ২৭ রানের মধ্যে বিপক্ষের তিন উইকেট তুলে নিয়ে শুরুটা ভালোই করেছিলেন ইংরেজ পেসাররা। জন ক্যাম্পবেল প্রাথমিক অবস্থায় আহত এবং অবসৃত হয়ে মাঠ ছাড়েন। বিপাকে পড়ে যাওয়া ওয়েস্ট ইন্ডিজকে টেনে তোলেন রস্টন চেজ-জারমেইন ব্ল্যাকউড জুটি।

চতুর্থ উইকেটে এই দুই ব্যাটসম্যানের ৭৩ রানের পার্টনারশিপ লড়াইয়ে ফিরিয়ে আনে হোল্ডারের দলকে। ৩৭ রানে চেজ আউট হলেও ইংরেজ বোলারদের সামনে ঢাল হয়ে দাঁড়ান ব্ল্যাকউড। এরপর শেন ডাউরিচের সঙ্গে পঞ্চম উইকেটে তাঁর ৬৮ রানের পার্টনারশিপ ধীরে-ধীরে দলকে জয়ের রাস্তা দেখায়।

ডাউরিচ ২০ রানে ফিরলেও অর্ধশতরান পূর্ণ করে শতরানের দিকে ভালোই এগোচ্ছিলেন ব্ল্যাকউড। কিন্তু শতরান থেকে পাঁচ রান দূরে দাঁড়িয়ে হঠাতই ছন্দপতন। দলীয় ১৮৯ রানের মাথায় ব্যক্তিগত ৯৫ রানে (১২ বাউন্ডারি) প্যাভিলিয়নে ফিরতে হয় ব্ল্যাকউডকে। কিন্তু তাতে জয় আটকায়নি ক্যারিবিয়ানদের।

ফের ব্যাট হাতে মাঠে নামেন ওপেনার ক্যাম্পবেল। তাঁকে নিয়েই অপরাজিত থেকে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন অধিনায়ক হোল্ডার। ৪ উইকেটে ম্যাচ জিতে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ এগিয়ে গেল ক্যারিবিয়ানরা।

ম্যাচের সেরা হয়েছেন দু’ইনিংস মিলিয়ে ৯ উইকেট নেওয়া ক্যারিবিয়ান পেসার শ্যানন গ্যাব্রিয়েল। গ্যালারি ফাঁকা থাকলেও ঘরে বসে লকডাউন পরবর্তী প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ তারিয়ে-তারিয়ে উপভোগ করলেন ক্রিকেট অনুরাগীরা। ব্যাটে-বলে এক জমজমাটি লড়াই প্রত্যাশা বাড়িয়ে দিল তাদের। ১৬ জুলাই থেকে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে দ্বিতীয় টেস্টে মুখোমুখি হবে দুই দল।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ