পূজা মণ্ডল, কলকাতা : মঙ্গলবার প্রকাশিত হল ২০১৯ মাধ্যমিকের ফলাফল। এদিন সকাল ৯ টায় সাংবাদিক সম্মেলন করে এবছরের সেরা দশের মেধা তালিকা ঘোষণা করেন মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সভাপতি কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায়। সাংবাদিক বৈঠকে উঠে আসে পরীক্ষা কেন্দ্রে কড়া ঘেরাটোপকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে মোবাইল নিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশের প্রসঙ্গ। এ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মুখ খোলেন পর্ষদ সভাপতি।

বলেন, এবছর মাধ্যমিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় ১২ ফেব্রুয়ারি এবং শেষ হয় ২২ ফেব্রুয়ারি। এই দশ দিন ব্যাপী পরীক্ষায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুর্নীতির জন্য ১৩৬ টি অভিযোগ জমা পড়েছিল তার দপ্তরে। প্রশ্ন ফাঁস, টুকলি, মোবাইল নিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই অভিযোগ জমা পড়েছিল । তাদের মধ্যে সর্ব মোট ৭৩ জনের পরীক্ষা বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান পরীক্ষায় দুর্নীতির অভিযোগ সংক্রান্ত একটি হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। জমা পড়া অভিযোগের মধ্যে সত্যতা যাচাইয়ের ভিত্তিতে ওই ৭৩ জনের পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। তবে এবছর তারা পরীক্ষা দিতে না পারলেও, পরের বছর তাঁরা পরীক্ষা দিতে পারবেন।

উল্লেখ্য, এবছর ২০১৯ এর মাধ্যমিকে দুর্নীতি এক দৃষ্টান্ত। এত সংখ্যক অভিযোগ এর আগে কোন বছর মাধ্যমিকে জমা পড়েনি। তাই এই ঘটনাকে রাজ্যে মাধ্যমিক পরীক্ষার ইতিহাসে সবচেয়ে নিন্দনীয় ঘটনা বলতেও ছাড়ছে না শিক্ষা মহল। প্রতিদিন পরীক্ষা শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যে হোয়াটস অ্যাপে প্রশ্ন ফাঁস হয়ে গিয়েছে। যার জেরে বিধাননগর সাইবার থানার পুলিশ এবং পরে সিআইডি তদন্তে নেমেছিল। বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে তদন্তও শুরু হয়। সোশ্যাল সাইটে যা নিয়ে অনেকেই মজা করতেও ছাড়েন নি।

প্রসঙ্গত, কল্যাণময়বাবু পরীক্ষা শুরুর আগে ঘোষণা করেছিলেন, তাঁর কাছে এমন একটি সার্ভার আছে, যা থেকে গোটা রাজ্যের পরীক্ষা ব্যবস্থা তিনি পরিচালনা করতে পারেন। নজরদারি চালাতে পারেন। কোথাও কোনও দুর্নীতি হলে, তা কলকাতার নিবেদিতা ভবনে বসে দেখতে পাবেন বলেও দাবি করেছিলেন তিনি। কিন্তু তাঁর সমস্ত দাবি যে ভিত্তিহীন, তা প্রমাণিত হয়ে গিয়েছিল পরীক্ষা চলাকালীন লাগামহীনভাবে প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে। বিভিন্ন জেলা থেকে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে প্রশ্ন ফাঁস হয়ে গিয়েছে পরীক্ষা শুরুর ঠিক আধঘণ্টার মধ্যেই। সেসময় পর্ষদ সভাপতি প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়টি এড়িয়ে গিয়েছিলেন, এনিয়ে সংবাদমাধ্যমর মুখোমুখি হতেও দেখা যায় নি তাকে। তিনি এ প্রসঙ্গে বলেছিলেন, উপরমহলের নির্দেশ আছে, সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলা যাবে না পরীক্ষা চলাকালীন।

সূত্রের খবর, লাগাতার প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় বিধ্বস্ত কল্যাণময় পদত্যাগের ইচ্ছাপ্রকাশ করেছিলেন। তবে এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে তিনি তা স্বীকার করেননি। আপনি কি পদত্যাগ করতে চেয়েছিলেন? সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের উত্তরে কার্যত ক্ষুব্ধ হয়ে যান পর্ষদ সভাপতি। বলেন, ‘আপনি কী করে জানলেন?’

ফলপ্রকাশের পর পর্ষদ জানিয়েছে এবছর পাশের হার ৮৬.০৭ শতাংশ, যা পর্ষদের ইতিহাসে প্রথম। কিন্তু অভিযোগের ভিড়ে পর্ষদের এই সুখস্মৃতি কালিমালিপ্তই রয়ে গেল।

Proshno Onek II First Episode II Kolorob TV