শেখর দুবে, কলকাতা: লোকসভা নির্বাচন পরবর্তী হিংসায় শনিবার বসিরহাটে চার বিজেপি কর্মী নিহত হয়েছেন৷ রবিবার বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ, জাতীয় সম্পাদক রাহুল সিনহা, সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসু, নবনির্বাচিত সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায় সহ বিজেপি শীর্ষ নেতারা বসিরহাট গিয়ে নিহত কর্মীদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন৷ এক সমর্থকের মৃতদেহ কলকাতায় মুরলীধর লেনের বিজেপি পার্টি অফিসে নিয়ে আসার চেষ্টাও করেন দিলীপ ঘোষরা৷ কিন্তু পুলিশ বিজেপি নেতাদের আটকে দেয়৷

বসিরহাটের সন্দেশখালিতে চার বিজেপি সমর্থক খুন হওয়া প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা সায়ন্তন বসুকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, ‘‘রাজ্যের গণতন্ত্রের গলা টিপে হত্যা করছে তৃণমূল৷ আমরা পুরো রিপোর্ট কেন্দ্রকে পাঠাবো৷ যা পরিস্থিতি তাতে কেন্দ্র হস্তক্ষেপ করতে বাধ্য হবে৷’’

কয়েকবছর আগে ধূলাগড়, গতবছর পুরুলিয়াতে বিজেপি কর্মীদের খুন করে গাছে টাঙিয়ে দেওয়া৷ ইসলামপুরের দাড়িভিটে ছাত্র মৃত্যুর মতো ঘটনাতে রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব একাধিকবার কেন্দ্রকে রিপোর্ট পাঠিয়েছে৷ কিন্তু তাতে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে বিশেষ কোনও ব্যবস্থায় নেওয়া হয়নি বলে ক্ষোভ রয়েছে বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে৷ অনেকেই সাধারণ বিজেপি কর্মীই সোশ্যাল মিডিয়াতে নিজেদের হতাশার কথা লিখেছেন৷ সায়ন্তনকে এব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, ‘‘আইন শৃঙ্খলা রাজ্যের বিষয়৷ কেন্দ্র যখন তখন সেখানে হস্তক্ষেপ করতে পারে না৷ কিন্তু রাজ্যে যে গণতন্ত্র নেই সেটা পরিষ্কার৷ আমরা সমস্ত বিষয় কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে জানিয়েছি৷ আমি আশাবাদী যে এবার কেন্দ্র ব্যবস্থা নেবে৷’’

কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে কী রাষ্ট্রপতি শাসনের দাবি জানিয়েছেন আপনারা? এই প্রশ্নের উত্তরে সায়ন্তন বসু বলেন, ‘‘আমরা নির্দিষ্ট কোন শাসনের দাবি করছি না৷ আমরা রাজ্যের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং বিজেপি কর্মীদের উপর হওয়া অত্যাচারের কথা কেন্দ্রকে জানিয়েছি৷ ওঁরা ঠিক করবেন কী ব্যবস্থা নেবেন৷’’ সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যের জনসাধারণের একটা বড় অংশ বিজেপির উপর ভরসা রেখেছেন৷ স্বাভাবিকভাবেই বিজেপি নেতারা উজ্জীবিত৷ রবিবার বসিরহাট গিয়ে মৃত সমর্থকদের দেহ কলকাতা নিয়ে আসতে চেয়েছিলেন রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতারা৷ কিন্তু পুলিশ তাদের অনুমতি না দেওয়াই মিনাখাঁতে পুলিশের সঙ্গে বচসা শুরু হয় বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে থাকা বিজেপি সমর্থকরা রাস্তার মাঝেই চিতাও সাজিয়ে ফেলেন৷ সন্দেশখালিতে সমর্থকদের খুন হওয়া নিয়ে এবার বড়সড় আন্দোলনে নামার হুমকিও দিয়েছেন রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব৷