ভোপাল: মনোনয়নপত্র জমা দিলেন বিজেপি প্রার্থী সাধ্বী প্রজ্ঞা৷ সোমবার ভোপালের প্রশাসনিক ভবনে দলীয় কর্মী সমর্থকদের নিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন তিনি৷ তবে এদিন কোনও কথাই বলেননি৷ আগাগোড়া ছিলেন চুপচাপ৷ সম্ভবত ভোটের দিকে তাকিয়ে আর বিতর্কিত মন্তব্য করে দলকে বিড়াম্বনায় ফেলতে চাননি৷ মনে করছে রাজনৈতিক মহল৷

ভোপাল লোকসভা কেন্দ্রে সাধ্বী প্রজ্ঞাকে বিজেপি প্রার্থী করার পর থেকে তাঁকে নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক৷ অবশ্য সেই বিতর্কে সাধ্বীর নিজের ‘অবদান’ও কম নয়৷ তাঁর একের পর এক করা বিতর্কিত মন্তব্য ভোটের মুখে উত্তাপ আরও বাড়িয়ে তোলে৷ মুম্বইয়ে জঙ্গি হামলায় শহিদ মহারাষ্ট্রের অ্যান্টি টেররিস্ট স্কোয়াডের প্রধান হেমন্ত কারকার ও বাবরি মসজিদ ধ্বংস নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে বিরোধীদের তোপের মুখে পড়েন৷

মালেগাঁও বিস্ফোরণে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে সাধ্বী প্রজ্ঞার বিরুদ্ধে৷ যদিও কিছুদিন আগেই এনআইএ’র বিশেষ আদালত এই মামলা থেকে তাঁকে ছাড় দেয়। ২০০৮ সালে তাঁকে ওই মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছিল। এরপর ভোপালে কংগ্রেসের হেভিওয়েট প্রার্থী দিগ্বিজয় সিংয়ের বিরুদ্ধে সাধ্বীকে দাঁড় করিয়ে মাস্টারস্ট্রোক দেয় বিজেপি৷ দলের ছাত্র সংগঠন এবিভিপির সাংগঠিক পদ থেকে এবার সরাসরি ভোটের ময়দানে৷ এই প্রসঙ্গে সাধ্বী জানান, দিগ্বিজয়ের বিরুদ্ধে লড়াই করা তাঁর কাছে এমন কোন বড় চ্যলেঞ্জ নয়। কারণ দিগ্বিজয় জাতীয়তাবাদ বিরোধী কথা বলেন৷ আর তিনি জাতীয়তাবাদের পক্ষে।

১৬ বছর বয়স থেকে ভোপালে বসবাস করছেন সাধ্বী। এবিভিপির সাংগঠনিক কর্মকর্তা হবার পর থেকেই তিনি সমগ্র ভোপাল জুড়ে কাজ করে চলেছেন। ভোপালের প্রত্যেকটি পরিবারের সঙ্গে তাঁর যোগ রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। ফলে জয় নিয়ে আত্মবিশ্বাসী সাধ্বী৷

অপরদিকে ১৯৮৯ থেকে ভোপালে জয়ের সাধ পায়নি কংগ্রেস। ২০১৪ সালে বিজেপির অলোক সাঞ্জার ৩ লক্ষ ৭ হাজার ভোটে জয় পান। কিন্তু দিগ্বিজয় সিংকে প্রার্থী করাটা বিজেপিকে ময়দানে নামতে নিমন্ত্রণ জানান বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ। গত বিধানসভা নির্বাচনে ভোপাল লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত ৮ টি বিধান সভার ৩ টি জিতেছিল কংগ্রেস। ৫ টি পেয়েছিল বিজেপি।