নয়াদিল্লি: বিজেপির ৬ হাজার টাকা বনাম কংগ্রেসের ৭২ হাজার টাকার প্রতিশ্রুতি৷ কৃষক সমাজকে পাশে পেতে কল্পতরু দেশের দুটি প্রধান দল৷ তাই কৃষকদের দুর্দশা ঘোচাতে ইস্তেহারে একের পর এক জনমোহিনী ঘোষণা দুই শিবিরের৷

কৃষকদের চটালে তার পরিণাম কী হতে পারে তা রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ ও ছত্তিশগড়ের বিধানসভা নির্বাচন বিজেপির চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে৷ সেই থেকে শিক্ষা নিয়ে লোকসভা ভোটের আগে কৃষক দরদী ভাবমূর্তি তুলে ধরতে বদ্ধপরিকর গেরুয়া শিবির৷ তাদের পাশে পেতে জোর দেওয়া হয়েছে কৃষকদের রোজগারে৷ বিজেপি প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, ২০২২ সালের মধ্যে কৃষকদের রোজগার তারা দ্বিগুণ করে দেবে৷ কীভাবে তা সম্ভব তা ইস্তেহারে বিস্তারিত জানানো হয়েছে৷

প্রধানমন্ত্রী কৃষি সম্মান নিধি যোজনা: অন্তর্বর্তী বাজেটে এই প্রকল্পের কথা আগেই ঘোষণা করা হয়েছে৷ দুই হেক্টর অবধি জমি আছে এমন কৃষকদের বছরে ৬ হাজার টাকা দেওয়া হবে৷ পরবর্তী কালে দেশের সব কৃষকদের এই প্রকল্পের আওতায় আনার ভাবনা চিন্তা রয়েছে৷

ছোট ও মাঝারি কৃষকদের জন্য পেনশন: ইস্তেহারে এটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা৷ ছোট ও মাঝারি কৃষকদের জন্য পেনশন চালু করা হবে৷ ৬০ বছর হলে চালু হবে এই পেনশন৷

এগ্রি-রুরাল সেক্টরে ২৫ লক্ষ কোটি টাকার বিনিয়োগ: কৃষির উৎপাদন বাড়াতে কৃষিক্ষেত্রে ২৫ লক্ষ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে৷

সুদহীন কিষাণ ক্রেডিট কার্ড লোন: ইস্তেহারের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা৷ এক লক্ষ টাকা ঋণে লাগবে না কোনও সুদ৷ এক থেকে পাঁচবছর পর্যন্ত শর্তসাপেক্ষে কোনও সুদ দিতে হবে না৷

পলিসির সরলীকরণের মাধ্যমে কৃষকদের ক্ষমতায়ন: আমদানি ও রফতানি সংক্রান্ত পলিসির সরলীকরণ৷ আমদানি থেকে রপ্তানির উপর জোর দেওয়া৷

উন্নতমানের বীজ সরবরাহ: ন্যুনতম দামে কৃষকদের হাতে উন্নতমানের বীজ সরবরাহ করা৷

 

এছাড়া বিজেপির ইস্তেহারে রাসায়নিক মুক্ত অর্গানিক ফার্মিং, অর্গানিক ফসলের বাজার বৃদ্ধিতে অনলাইন কমার্স নিয়ে আসা, কৃষিক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং সর্বোপরি কৃষকদের রোজগার দ্বিগুণ করা হবে৷ এই হল বিজেপির সংকল্প পত্রের কৃষিক্ষেত্রের সার্বিক ছবি৷

লোকসভা ভোটের তিনদিন আগে নির্বাচনী ইস্তেহার প্রকাশ করল বিজেপি৷ গেরুয়া শিবির এই ইস্তেহারকে ‘সংকল্প পত্র’ বলছে৷ ২০২২ সালে ভারতের স্বাধীনতার ৭৫ তম বর্ষ পূরণ হবে৷ সেই দিকে লক্ষ্য থেকে ইস্তেহারে ৭৫টি সংকল্পের ঘোষণা করা হয়েছে৷ এই ৭৫টি সংকল্প আসলে ৭৫টি সিঁড়ি বা ধাপ৷ যে সিঁড়ি দেশকে বিকাশ ও উন্নয়নের পথে নিয়ে যাবে৷ এবং ২০২২ সালের মধ্যে এক নতুন ভারত বিশ্বের সামনে মাথা তুলে দাঁড়াবে৷ সংকল্প পত্রকে এইভাবে ব্যাখ্যা করছেন বিজেপি নেতারা৷

তাদের মতে, বিজেপি সরকারের পাঁচ বছরের কাজ হল এই সংকল্পের ভিত্তি৷ আর ইস্তেহারে ঘোষিত ৭৫টি সংকল্প ভারতকে সবদিক থেকে শক্তিশালী করে তুলবে৷ প্রতিটি ভারতীয়র জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে৷ দেশ উন্নয়নশীল দেশ থেকে উন্নত দেশের দিকে এগিয়ে যাবে৷