স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: নতজানু ভাটপাড়ার বেতাজ বাদশা৷ হাত জোর করে ক্ষমা চাইলেন কর্মীদের কাছে৷ বিগত দিনে ভুলের দায় ঠেললেন তৃণমূল কংগ্রেসের ঘাড়ে৷

https://www.facebook.com/kolkata24x7/videos/398945334239639/

আরও পড়ুন: পাক সীমান্তে উত্তেজনা, একগুচ্ছ এয়ারক্রাফট নিয়ে এগিয়ে গেল ‘INS বিক্রমাদিত্য’

অর্জুন সিং৷ নামের পাশে লেখা বিধায়ক ও ভাটপাড়া পুরসভার চেয়ারম্যান৷ বাস্তবে উত্তর ২৪ পরগানার বারাকপুর এলাকায় যেকোনও কাজের শেষ কথা তিনিই৷ তাঁর আঙ্গুলি হেলনেই পালটে যায় অনেক কিছু৷ জেলার ওই অংশে জোড়া-ফুলের বিস্তারে অর্জুন সিংয়ের অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য৷

সংগঠন বাড়াতে এহেন দোর্দ দণ্ডপ্রতাপ নেতা নির্দেশে অত্যাচার হয়েছে বিরোধীদের উপর৷ ভুরু ভুরি অভিযোগ রয়েছে৷ তবুও অকুতভয় ছিলেন তিনি৷ ওই অঞ্চলে বিরোধীদের ভোটে সাফল্য যেন সোনার পাথর বাটি৷ সেই অর্জুন সিং-ই রিনা ক্ষমা চাইলেন! কিন্তু কেন? কার কাছে?

আরও পড়ুন: গো-বলয়ের ভোটেই নেই বুয়া-বাবুয়া

বৃহস্পতিবার দিল্লিতে গিয়ে গেরুয়া শিবিরে নাম লিখিয়েছেন ভাটপাড়ার বিধায়ক৷ একদা নিজের মুখে বলা ‘গদ্দার’ মুকুলের হাত ধরেই জোড়াফুল থেকে পদ্ম শিবিরে প্রবেশ তাঁর৷ এলাকায় ফিরে রবিবারই প্রথম কর্মীসভায় উপস্থিত হন তিনি৷ সেখানেই বিজেপির পুরনো কর্মীদের কাছে ক্ষমা চান তিনি৷

বিজেপি নেতা অর্জুন সিং বলেন, ‘‘আমার দ্বারা কোনও দিন কেউ আঘাত পেয়ে থাকলে আমি ক্ষমা প্রার্থী৷ আমাকে দিয়ে এইসব কাজ করানো হয়েছিল৷ আশা করি ভুল ত্রুটি মার্জনা করে দেবেন৷’’ একবার নয়, বৈঠকে বেশ কয়েকবার ক্ষমা চান তিনি৷ তাঁর আশা, নতুন দলে তাঁকে সবাই গ্রহণ করে নেবেন৷

আরও পড়ুন: ট্যুইটারে নামের আগে চৌকিদার লিখলেন মোদী

পোড় খাওয়া রাজনীতিবিদ অর্জুন সিং৷ মুখে নীতির কথা বললেও তা যে বাস্তবে টিঁকবে না জানেন তিনি৷ জানেন, রাতারাতি তাঁর দলবদল বহু বিজেপি কর্মীই হয়তো ভালো মনে মেনে নেননি৷ কিন্তু তাঁর স্বপ্ন, বারাকপুর থেকে সংসদের টিকিট জোগাড় করা৷

আর স্বপ্ন বাস্তবায়ণে দরকার বিজেপি কর্মীদের সমর্থন৷ সেখানেই কাঁটা ইতিহাসের বহু ঘটনা৷ তাই প্রথম দেখাতেই ক্ষমা চেয়ে মন জয়ের চেষ্টা ভাটপাড়ায় বিধায়কের৷

আরও পড়ুন: অবাঙালি ভোটারদের মন জিততে হোলি উৎসবে যাবেন মমতা

নতুন দলে এসে পুরনোর বিরুদ্ধে দোষারোপের কথা পদ্ম শিবিরের অর্জুনের গলায়৷ অনেকটা যেনঢাল হিসাবে তিনি ব্যবহার করেছেন তৃণমূলকে৷ বলেছেন, ‘‘ভুল ত্রুটি আমাকে দিয়ে করানো হয়েছিল৷’’ বৈঠকে তখন ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান৷ সত্যিই কী এতে মন গলবে একসময়ে মার খাওয়া গেরুয়া শিবিরের কর্মীদের৷ উত্তর লুকিয়ে ভোটের ফলাফলে৷