স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: শেষদফা ভোটে যাদবপুর লোকসভা কেন্দ্রের একটি বুধে বিজেপি প্রার্থী অনুপম হাজরাকে হেনস্থার অভিযোগ উঠল৷ অভিযোগের তীর শাসক দলের কর্মী সমর্থকদের দিকে৷ ছাপ্পার আটকাতে গিয়ে ১৫৭ নং বুথে গেলে তৃণমূলের মহিলা সমর্থকদের হাতে হেনস্তা হতে হয় বলে অভিযোগ বিজেপি প্রার্থীর৷

সংবাদমাধ্যমকে অনুপম বলেন, ‘‘ যাদবপুর লোকসভা কেন্দ্রের একটি বুথে মুখ ঢেকে তৃণমূল মহিলা কর্মীরা ছাপ্পা ভোট দিচ্ছে৷ মুখ চাকা থাকায় তাদের পরিচয় জানা কষ্টকর৷ আমরা যখন ছাপ্পা ভোটের বিরোধিতা করে বুধে ঢুকতে যাই আমাদের সঙ্গে বুথের মধ্যেই ওরা ঝামেলা শুরু করে৷’’ বিজেপি নেতার বক্তব্য ছাপ্পা বন্ধ করানোর জন্য আমি বুথে ঢোকার চেষ্টা করেছিলাম৷ ওখানে তৃণৃমূলের কিছু মহিলা কর্মী আমাকে আটকায়৷ প্রার্থী কার্ড দেখালেও আমাকে বুথে আমার সঙ্গে বচসা চলে ওদের৷

পাশাপাশি তাকে হেনস্থা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ অনুপম হাজরার৷ শেষ ছ’ফায় লোকসভা নির্বাচন হয়ে গিয়েছে রাজ্যে৷ প্রতিবারই ভোটলুঠের নিত্যনতুন পদ্ধতি নিয়েছে রাজ্যের শাসক দলের কর্মীরা৷ কোথাও ইভিএমে তৃণমূলের বোতামের গায়ে আতর লাগিয়ে ভোট দিয়ে বেরিয়ে আসা ভোটারদের আঙুল চেক করা হয়েছে৷ আবার কোথাও সরাসরি ‘নকুলদানা’ থিওরী অ্যাপ্লাই করে ভোট জেতার চেষ্টা হয়েছে৷ প্রথম দফা ভোটের পর রাজ্যের ১০০ শতাংশ বুথে কেন্দ্রীয়বাহিনী দিয়েইও ভোটে রাজনৈতিক সন্ত্রাস ও ছাপ্পা রুখতে পারেনি নির্বাচন কমিশন৷

আরও পড়ুন: লখনউ থেকে ফিরে চন্দ্রবাবু ফের দেখা করবেন রাহুলের সঙ্গে

শেষ ছ’দফা ভোটে রাজনৈতিক সংঘর্ষে এখনও বলি চারজন৷ শেষ দফা ভোটেও ছাপ্পা এবং রাজনৈতিক অশান্তির ‘গুরু দায়িত্ব’ পালনে সচেষ্ট হয়েছে শাসক দল আশ্রিত দুস্কৃতিরা৷ এমনটাই দাবি রাজ্যের বিরোধীদের৷ তবে অনুপমই প্রথম বিজেপি নেতা নন যার সঙ্গে বুথেই বচসাই জড়িয়েছেন তৃণমূলের কর্মীরা৷

আরও পড়ুন: কামারহাটিতে তৃণমূলের ক্যাম্প অফিস ভাঙচুর

এই তালিকায় এর আগেই রয়েছেন বিজেপির আসানসোলের প্রার্থী বাবুল সুপ্রিয়, ব্যারাকপুরের বিজেপি প্রার্থী অর্জুন সিং এবং ঘাটালের বিজেপি প্রার্থী ভারতী ঘোষ৷ পঞ্চমদফা নির্বাচনে ব্যারাকপুর লোকসভার একটি বুথে বিজেপি প্রার্থী অর্জুন সিংকে ঢুকতে বাধা দেয় তৃণমূলের পোলিং এজেন্ট৷ শাসক দলের এজেন্ট বুথের গেট আটকে সরাসরি জানায় ওকে বুথে ঢুকতে দেবো না৷ এরপর অর্জুনের উপর হামলাও হয়৷

অন্যদিক ষষ্ঠদফা লোকসভা নির্বাচনে ঘাটালের প্রার্থী বিজেপি এজেন্টকে বুথে বসাতে এলে তাঁকে বুথে ঢুকতে দেয়নি তৃণমূলের মহিলা ব্রিগেড৷ ওই সময় ইঁটের আঘাতে আহতও হন ভারতী৷ দু’টি ঘটনাতেই অভিযোগের তীর ছিল শাসক দলের দুস্কৃতিদের দিকে৷ শেষদফা নির্বাচনে যাদবপুরে টিক সেই ধারাই বজায় রাখল তৃণমূল৷ এমনটাই দাবি রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের৷

অনুপম সংবাদমাধ্যকে আরও জানিয়েছেন যাদবপুরের বিজেপির এক মন্ডল সভাপতিকেও আক্রমণ করেছে তৃণমূলের গুন্ডারা৷ তিনি বলেন, ‘‘টিএমসির গুন্ডারা বিজেপির মন্ডল সভাপতিকে মারধোর করেছে৷ ওঁর গাড়ির ড্রাইভারকে পর্যন্ত আক্রমণ করেছে৷ গাড়ি ভেঙে দিয়েছে৷ আমরা তিনজন বিজেপি পোলিং এজেন্টকে দুস্কৃতিদের বিরুদ্ধে উদ্ধার করতে পেরেছি৷ যাদবপুর লোকসভা কেন্দ্রের ৫২ নং বুথেও ছাপ্পাভোট দিচ্ছে শাসক দলের দুস্কৃতিরা৷ মানুষ উৎসাহ নিয়ে বিজেপিকে ভোট দিতে চায়৷ ওরা মানুষকে ভোট দেওয়া থেকে আটকাচ্ছে৷