বেঙ্গালুরু: অপরেশন কমল ঘিরেই আবর্তিত দক্ষিণী রাজ্য কর্ণাটকের রাজনীতি৷ মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, জেডিএস বিধায়কদের এখনও ফোন করে দল ভাঙানোর চেষ্টা করছে বিজেপি৷ টোপ দেওয়া হচ্ছে টাকার৷ কুমারস্বামীর অভিযোগকে সমর্থন করেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খারগে৷

তবে অভিযোগ উড়িয়ে পদ্ম শিবিরের ইয়েদুরাপ্পার দাবি, ‘জোট সরকার মিথ্যা কথা বলছে৷ বিজেপি বিরোধী হিসাবেই কাজ করছে৷’ প্রশম উঠছে কাহলে কী পদ্ম শিবিরের অপরেশন কোমলের জুজুতে এখনও ভয় পাচ্ছেন কুমারস্বামী৷

শনিবার কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী তথা জেডিএস নেতা বলেন, ‘‘অপরেশন কোমলের চেষ্টা এখনও চলছে৷ শুক্রবারই বিরোধী দলের তরফে আমাদের এক বিধায়ককে দল বদলের জন্য প্রচুর টাকার প্রস্তাব দেওয়া হয়৷ টাকার অঙ্ক শুনলে হতবম্ব হয়ে যেতে হয়৷ যদিও প্রলোভন এড়িয়ে গিয়েছেন সেই বিধায়ক৷’’

আরও পড়ুন: ঠাকুরনগরে মোদীর সভার অনুমতি নেই: জ্যোতিপ্রিয়

মুখ্যমন্ত্রী তথা জোট শরিক নেতার অভিযোগকে সমর্থন করেছেন রাজ্যের কংগ্রেসের মুখ সিদ্দারামাইয়া৷ তাঁর অভিযোগ বিজেপি নেতার ও প্রাক্তন মন্ত্রীরা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত৷ সেই টাকাতেই চলছে জোট সরকার ভাঙানোর চেষ্টা৷ লোকসবার বিরোধী দলনেতা খারগেও এদিন একই ইস্যুতে গেরুয়া দলের বিরুদ্ধে সরব হন৷ তিনি বলেন, ‘‘লোকসভার আগে বিজেপি, আরএসএস কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করে কর্ণাটকের সরকার ফেলে দিতে চায়৷ কিন্তু দল ভাঙানোর চেষ্টা বৃথা যাবে৷ আর একটা বিধায়ক গেলে জোটের দিকে সমর্থনের হাত বাড়াবে বিরোধী দশ বিধায়ক৷’’

যদিও ফের অপরেশন কোমলের মত বিরোধীদের জোরদার অভিযোগকে উড়িয়ে দিয়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা সিদ্দারামাইয়া৷ পালটা তিনি বলেন, জোটের বিধায়করা অসন্তুষ্ট৷ তাদের উপর অনবড়ত নজরদারি চলছে৷ ওরা নিজেদের বিধায়কদের ধরে রাখতে পারছে না বলেই আমাদের বিরুদ্ধে দল ভাঙানোর অভিযোগ করছে৷’’

২৮০ আসন বিশিষ্ট্য কর্ণাটকে সরকার গড়তে ম্যাজিক ফিগার ১৪১টি৷ গত বিধানসভা ভোটে বিজেপি পায় ১০৪টি আসন৷ কংগ্রেস ও জেডিএস জোটের আসন বেশি থাকায় বহু টালবাহানার পর এই দক্ষিণী রাজ্যে সরকার গড়ে তারা৷ প্রেসটিজ ফাইটে হেরে ঘুর পথে রাজ্য জয়ের পরিকল্পনা করে তারা৷ শুরু হয় অপরেশন কোমল৷ কিন্তু তাতে লাভ হয়নি৷ নেতৃত্বের রাজ্য দখলের প্রতিশ্রুতি দিলেও গুরুগ্রাম থেকে শুকনো মুখেই ফিরতে হয় বিজেপি বিধায়কদের৷ ফলে দলের অন্দরেই ক্ষোভ দানা বেঁধেছে৷ সেই অসন্তোষেই প্রশমনের দাওয়াই হিসাবেই কী ফের অপরেশন কোমলের চেষ্টার গেরুয়া শিবির? প্রশ্ন রাজনৈতিক মহলের৷