শিলং: নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল (২০১৬) ঘিরে ক্রমেই রাজনৈতিক উত্তাপের পারদ চড়ছে উত্তর পূর্ব ভারতে। এবার অসমের মতো কি মেঘালয়েও এনডিএ শরিক দল হাত ছাড়তে চলল উঠছে এই প্রশ্ন।

এরকম সম্ভাবনার কারণ, মেঘালয়ে ক্ষমতাসীন এনপিপি ও বিজেপির মধ্যে বিলটি ঘিরে দ্বন্দ্ব আরও বাড়ছে। এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা এনপিপি প্রধান কনরাড সাংমা জানিয়ে দিলেন, বিলটি প্রয়োগ দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা।বিষয়টি নিয়ে বুধবার দলের বিশেষ বৈঠক আহ্বান করেছেন তিনি। সেখান থেকেই সরকার পতনের সম্ভাবনা উসকে উঠছে।

কেন সরকার পড়তে পারে

মেঘালয় বিধানসভার ৬০টি আসনে এনপিপি জয়ী হয়েছে ২০টিতে। তাদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে বিজেপি। তাদের দখলে আছে মাত্র দুটি। এই অবস্থায় বিলটি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে কনরাড সাংমা বিজেপির সঙ্গ ছাড়লেই সরকার পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। মেঘালয়ে বিরোধী দল কংগ্রেসের দখলেও ২০টি আসন রয়েছে। তাদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে নিলে এনপিপি-কংগ্রেস জোট অনায়াসেই ক্ষমতায় চলে আসতে পারবে।

ফলে বিলটি ঘিরে মেঘালয়ের রাজনীতিতে বিশেষ করে নর্থ ইস্ট ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্সের মধ্যে ছড়িয়েছে একটা রাজ্য হাতছাড়া হওয়ার আশংকা।

নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল (২০১৬)

ভারতের প্রতিবেশী বিভিন্ন মুসলিম জনসংখ্যা বহুল দেশগুলি যেমন বাংলাদেশ, আফগানিস্তান, পাকিস্তান থেকে অমুসলিম কেউ সরাসরি ভারতের নাগরিকত্ব পেতে চাইলে এবার আবেদন করতে পারবেন। চাইলেই ওই অমুসলিম ব্যক্তিকে নাগরিকত্ব প্রদান করা হবে। কিন্তু মুসলমান হলে তাঁর ক্ষেত্রে এমনটা করা হবে না। বিলে বলা হয়েছে, প্রতিবেশী এই সব দেশে ধর্মীয় সন্ত্রাসের কারণে কোনও অমুসলমান ভারতে থাকার আবেদন করতে পারবেন।

বিরোধ কোথায়ঃ
অসম সহ উত্তর পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন রাজ্যের রাজনৈতিক দলগুলির দাবি, এর ফলে বাংলাদেশ থেকে একটি বড় অংশের হিন্দুরা সরাসরি ভারতে আশ্রয় নেবেন। তাতে স্থানীয় জাতিগোষ্ঠী প্রবল অসুবিধার মধ্যে পড়বে। এতে বাড়বে জাতিগত সংঘাত।

মূলত এই কারণে বিলটির প্রতিবাদে অসম, মেঘালয়, মনিপুর, মিজোরাম, অরুণাচল প্রদেশ, নাগাল্যান্ড, ত্রিপুরায় হয়েছে বিক্ষোভ। এবার আরও এক ধাপ এগিয়ে সরাসরি বিজেপিকে হুঁশিয়ারি দিলেন মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী।

সম্প্রতি নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল(২০১৬) মেনে না নিয়ে অসমে বিজেপি সরকারের জোট ছেড়েছে অসম গণ পরিষদ। তাতে বিজেপির প্রয়োজনীয় বিধায়ক সংখ্যা থাকার কারণে সরকার পড়েনি। কিন্তু প্রবল সরকার বিরোধী গণ আন্দোলন লক্ষ্য করা গেল মঙ্গলবারের বনধে। বিক্ষিপ্ত হিংসা থামাতে পুলিশকে গুলি চালাতে হল। অসমের সর্বত্র যেমন বিক্ষোভ হয়েছে, তেমনই বনধে স্তব্ধ হয় মেঘালয়।

নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের প্রতিবাদে মেঘালয়ের সর্বস্তরের মানুষ প্রতিবাদ করলেন। রাজধানী শহর শিলং ছিল স্তব্ধ। এদিকে মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমা স্পষ্ট জানিয়েছেন, বিলটি কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

অশান্ত উত্তর পূর্বঃ

নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল ঘিরে উত্তর পূর্বাঞ্চলের অন্যান্য রাজ্যেও বনধ পালিত হয়েছে। একাধিক উপজাতি ছাত্র সংগঠনের মিলিত মঞ্চ নর্থ ইস্ট স্টুডেন্ট ইউনিয়ন তথা নেসু এই বনধ পালনে অগ্রণী ভূমিকা নেয়। তাদের সমর্থকদের আহ্বানে বিক্ষিপ্ত হিংসায় পশ্চিম ত্রিপুরার পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। সেখানে বিক্ষোভ সামাল দিতে পুলিশ গুলি চালায়। তাতে কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। সেই রেশ ছড়িয়ে পড়ছে অন্যান্য রাজ্যেও। এর পাশাপাশি ছিল রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল সিপিএম তথা বামদের ডাকা ধর্মঘট। তার জেরে স্তব্ধ হয় ত্রিপুরা৷