শংকর দাস, বালুরঘাট: প্রার্থী ঘোষনা হতেই ক্ষোভে ফেটে পড়লেন বিজেপির নেতা কর্মীরা। কোচবিহারের মতো প্রকাশ্যে দলীয় প্রার্থীর বিরোধিতা করতে না দেখালেও বিভিন্ন দেওয়ালে তা স্পষ্ট হয়েছে। এবারে বালুরঘাট আসনের প্রার্থী হওয়ার বাসনায় বিজেপির বহু নেতা আবেদন করেছিলেন। কেউ কেউ আবার প্রার্থী তিনিই হচ্ছেন বলে এতটাই নিশ্চিত ছিলেন যে আগে ভাগে নিজের নাম সহ দেওয়াল লিখনও সেরে ফেলেছিলেন।

প্রার্থী হওয়ার বাসনায় ছিলেন খোদ দলের জেলা সভাপতি শুভেন্দু সরকার উত্তরবঙ্গের পর্যবেক্ষক রথীন্দ্রনাথ বোস সহ বহু নেতা। শুভেন্দু সরকারের হয়ে দেওয়াল লিখে প্রচারও শুরু করেছিলেন কর্মীদের একাংশ। অন্যদিকে রথীন্দ্রনাথ বোসও বালুরঘাট শহরের বিভিন্ন এলাকায় নিজের ছবি সহ শুভেচ্ছা বার্তার হোর্ডিং টাঙ্গিয়ে ছিলেন।

সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে হাটে বাজারে ও বিভিন্ন আড্ডায় নাম শোনা যাচ্ছিল রাজ্য সাধারণ সম্পাদিকা দেবশ্রী চৌধুরী, জেলার সাধারণ সম্পাদক মানস সরকার ও নীলাঞ্জন রায়। এমনকি খোদ মুকুল রায়েরও নাম নিয়ে চর্চা চলছিল। সমস্ত জল্পনা ও নেতা কর্মীদের আশায় জল ঢেলে দিয়ে সুকান্ত মজুমদারের নাম এই কেন্দ্রে ঘোষনা হতেই দলের নেতা কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাতেই পছন্দের নেতার নামে লিখে রাখা দেওয়াল লিখন মুছে ফেলেন কর্মীরা। শুধু তাইই নয় দলের প্রতীকও কালো রঙ দিয়ে মুছে ফেলেন তাঁরা। ক্ষোভের ছবি ধরা পড়েছে খোদ দলীয় কার্যালয় লাগোয়া দেওয়ালেও। সেখানে পদ্ম ফুলের ছবি আঁকা থাকালেও শুক্রবার বিকেল অবধিও সেখানে প্রার্থীর নাম লেখা হয়নি৷

দলীয় নেতাকর্মীদের একাংশের দাবী এবারে বালুরঘাট আসনটিতে বিজেপির নিশ্চিত জয় ছিল। শুধু মাত্র ঘরের ছেলে অথবা সেলিব্রিটি ও হেভিওয়েট কাউকে দাঁড় করানোর দরকার ছিল। তাঁদের অভিযোগ সুকান্ত মজুমদার আরএসএসের লোক। বিজেপি দলের সাথে তাঁর কোন যোগাযোগই ছিল না কোন দিন। তাঁকে প্রার্থী করে উলটে জেনে বুঝে এই আসনটি তৃণমূলকে উপহার দেওয়া হল।

এব্যাপারে যদিও অন্য সুরেই কথা বলেছেন জেলা সভাপতি শুভেন্দু সরকার। তিনি জানিয়েছেন যে তাঁরা যাঁদের নাম জেলা থেকে পাঠিয়ে ছিলেন। তাঁদের চাইতে অনেক ভাল গুণসম্পন্ন মানুষকেই এখানে প্রার্থী করেছে দল। তাঁর দাবী কর্মীদের মধ্যে সুকান্ত মজুমদারকে নিয়ে আর কোন ক্ষোভ বিক্ষোভ নেই। শীঘ্রই সকলে মিলে প্রচারে নেমে পড়বেন। দেওয়াল মুছে ফেলা প্রসঙ্গে তিনি পালটা অভিযোগ করে বলেন যে তৃণমূল ভীত সন্ত্রস্ত হয়েই দুষ্কৃতিদের দিয়ে এই কাজ করিয়েছে।

এদিকে তৃণমূলের প্রার্থী অর্পিতা ঘোষ বলেন যে বিজেপিতে প্রার্থী হতে চেয়ে ঐ দলের সকলেই দাবিদার হয়েছিলেন। সুকান্ত মজুমদারের ঘোষনা হতেই খোদ বিজেপির লোকেরাই তাঁর বিরোধিতা করতে শুরু করেছেন। যার বহিঃপ্রকাশ তাঁরা নিজেরাই দলীয় প্রতীক সহ দেওয়াল লিখন কালো কালি দিয়ে মুছে ফেলেছেন। আর তা আড়াল করতেই তৃণমূলের দিকে অভিযোগ তুলছে বিজেপি।