জলপাইগুড়ি-রায়গঞ্জ: আন্দোলন করতে গিয়ে গ্রেফতার হওয়া বিজেপির নেতা-কর্মীরা থানায় বসে খাসির মাংস-ভাত যোগে সারলেন মধ্যাহ্নভোজ। জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানায় মঙ্গলবার দুপুরে এি মহা-আয়োজন। শুধু কোতোয়ালি থানাতেই নয়, একই ছবি দেখা গিয়েছে রায়গঞ্জ থানাতেও।

জানা গিয়েছে, বিজেপি বিধায়ক দেবেন রায়ের মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটনে সি বি আই তদন্তের দাবিতে মঙ্গলবার বিজেপির ১৬ জনকে পুলিশ রাস্তায় অবরোধ করার জন্য আটক করেছিল। তাদের সারাদিন রায়গঞ্জ থানায় বসিয়ে রেখে রাতে ছেড়ে দেয় পুলিশ। কিন্তু দুপুরে আটক বিজেপি কর্মীদের রায়গঞ্জ থানায় এলাহি খাওয়া দাওয়ার ব্যবস্থা হয়েছিল।

যা নিয়ে ইতিমধ্যেই বিতর্ক তৈরি হয়েছে। গ্রেফতার করা ব্যক্তিদের এই ‘জামাই-আদর’ দেওয়া ঘিরে পুলিশের ভূমিকাতেও প্রশ্ন উঠেছে। অনেকে আবার বলছেন কিছুটা হলেও এই বিষয়টি প্রি-প্ল্যান।

সোমবার সকালে বাড়ি থেকে খানিকটা দূরে উত্তর দিনাজপুরের হেমতাবাদের বিধায়ক দেবেন্দ্রনাথ রায়ের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। ২০১৬ সালে বামেদের হয়ে ভোটে জিতেছিলেন তিনি। তবে এরপর তিনি বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। দেবেন্দ্রনাথ রায়কে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ তোলে পরিবার। বিজেপিরও সেই একই অভিযোগ। এই অভিযোগে মঙ্গলবার উত্তরবঙ্গে বনধের ডাক দেয় বিজেপি।

এদিন সকাল থেকেই উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বনধের সমর্থনে পথে নামেন বিজেপির কর্মী সমর্থকরা। উত্তর দিনাজপুর ছাড়াও জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ারে বনধের সমর্থনে পথে নামতে দেখা যায় বিজেপিকর্মীদের। জলপাগুড়ি শহরে এদিন দোকান-বাজার বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা করে বিজেপি। এমনকী এলাকায় যান চলাচলেও বাধা দেওয়া হয়।

স্বাভাবিক জনজীবনে ব্যাঘাত ঘটানোর অভিযোগে এরপর পুলিশ বেশ কয়েকজন বিজেপি নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করে। জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানায় নিয়ে যাওয়া হয় গ্রেফতার করা বিজেপি কর্মীদের। সেখানেই ধৃত বিজেপি নেতাকর্মীদের জন্য মহাভোজের আয়োজন করা হয় পুলিশের তরফে। খাসির মাংস ও ভাত খাওয়ানো হয় তাঁদের। পেটপুরে মধ্যাহ্নভোজ সেরে বেশ খুশি বিজেপির নেতা-কর্মীরা।

ঘটনায় বিজেপি মজদুর মোর্চার জেলা সভাপতি মানস মুস্তাফি বলেন, ‘গ্রেফতার করে কোতোয়ালি থানায় আনার পর থানার পুলিশের পক্ষ থেকে আমাদের জিজ্ঞাসা করা হয় আপনারা দুপুরে কি খাবেন। আমরা বলি খাসির মাংস আর গরম ভাত খাবো। পুলিশি পক্ষ থেকে তার ব্যাবস্থা করা হয়। পুলিশের আপ্যায়নে আপাতত আমরা খুশি।’

অন্যদিকে,  যখন দলের এক বিধায়কের রহস্য মৃত্যু ঘটেছে, তখন তাঁকে নিয়ে আন্দোলনের মধ্যে পুলিশের হাতে থানায় আটক বিজেপির কর্মী-নেতাদের এই ‘পেট-পুরে মাংস ভাত’ খাওয়ার ঘটনায় জেলার রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোড়ন ছড়িয়েছে।

তৃনমুল কংগ্রেস নেতা তথা রায়গঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি মানস ঘোষ বলেন, “ দেবেনবাবু মাত্র এক বছর আগে সিপিএম ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। ওই নেতার উপর যে বিজেপির কোন শ্রদ্ধাই ছিলনা, আজকের এই ঘটনা সেটাই প্রমান করলো। পুলিশ যা খুশি আয়োজন করতে পারে, কিন্তু এই পরিস্থিতিতে দলের কর্মীরা সেটা মেনে নেবেন কেন?” যদিও পুলিশ থেকে এবিষয়ে কোন মন্তব্য করা হয়নি। বিজেপির জেলা নেতারাও বিষয়টি নিয়ে মুখে কুলিপ এঁটেছেন।

জানা যাচ্ছে, বিধায়কের মৃত্যুর সঙ্গে জড়িত এক ব্যক্তির খোঁজ করতে মঙ্গলবার মালদহের চাঁচলে যায় সি আই ডির একটি দল। কিন্তু ওই ব্যক্তি গা ঢাকা দেওয়ায় তা৬কে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। এই গা ঢাকা দেওয়ার ঘটনায় রহস্য আরও দানা বেঁধেছে।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ