কলকাতাঃ  তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি বারাকপুরে ক্রমশ শক্তি বাড়ছে বিজেপির। দিনেশ ত্রিবেদির হাত থেকে এই কেন্দ্রটি অর্জুনের হাতে এসেছে। রাজনৈতিক এই পালাবদলের পরেই তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদানের হিড়িক। আর এই অবস্থায় নব্য বিজেপিদের গোষ্ঠী সংঘর্ষ বাড়ছে বিজেপির আদি সদস্যদের। আর যা কিনা যথেষ্ট মাথা ব্যথার কারণ হয়ে উঠেছে রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বকে। আগামীদিনে বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় পালাবদলের স্বপ্ন দেখছেন মুকুল-দিলীপরা। সেখানে দাঁড়িয়ে দলের মধ্যেই এই গোষ্ঠী কোন্দল জনমানসে বিরুপ প্রতিক্রিয়া ফেলবে বলেই মনে করছে বিজেপি একাংশ।

উল্লেখ্য, শুক্রবার রাতে বিজেপির দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায় কাঁচরাপাড়া কলেজ মোড় এলাকায়। বিজেপি নেতা মুকুল রায়ের খাস তালুকে দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে যারা মার খেয়েছেন, তাঁরা মুকুল পুত্র শুভ্রাংশুর অনুগামী হিসেবেই পরিচিত। আক্রান্ত বিজেপি কর্মীরা যে বিজেপিরই সদস্য তা কার্যত সবাই স্বীকার করে নিয়েছেন। শুধু তাই নয়, হামলাকারীরাও বিজেপির সদস্য বলে জানা গিয়েছে। এই ঘটনায় রীতিমত অস্বস্তিতে বিজেপি শিবির। যদিও এই ঘটনায় তৃণমূল নিজেদের লাভই দেখছেন।

এক তৃণমূল নেতার কথায়, গত কয়েকদিন আগেই বীজপুরে মুখ্যমন্ত্রী ঘুরে গিয়েছেন। নতুন কর্মীদের চাঙ্গা করতে বার্তা দিয়েছেন। সেখানে দাঁড়িয়ে যত বিজেপির গোষ্ঠী কোন্দল হবে তত বিজেপির আদি কর্মীরা দল ছাড়বে। আর তাদের সবাইকে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান ওই তৃণমূল নেতা।

তৃণমূলের একাংশের মতে, গেরুয়া নব্য-বনাম আদি’র লড়াইয়ে নিজেরদের হারানো জায়গা পুনরুদ্ধারে কাজ সহজ হবে। এমনকি আগামী বিধানসভা নির্বাচন পর্যন্ত যদি এই অবস্থা চলতে থাকে তাহলে ভোটেও এর প্রভাব পড়বে বলে মনে করছে শাসকদলের একাংশ।

জানা গিয়েছে, কাঁচরাপাড়া কলেজ মোড়ের কাছে একটি ক্লাবের দখল কার হাতে থাকবে তা নিয়ে মূলত গণ্ডগোলের সূত্রপাত। ক্লাবটি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বিধায়ক শুভ্রাংশু অনুগামীদের দখলে ছিল। দিন কয়েক আগে শুভ্রাংশুর দল বদলের সঙ্গে সঙ্গে তাঁরাও গেরুয়া শিবিরে নাম লেখান। রাতারাতি ওই ক্লাব সবুজ থেকে গেরুয়া হয়ে যায়। ক্লাবেরই সদস্য পিণ্টু কুণ্ডু, অভিজিৎ কুণ্ডুদের অভিযোগ, শুক্রবার সন্ধের পর ৫-৬ জন মিলে ক্লাবের সামনে বসে গল্প করছিলেন। আচমকাই ৬টি মোটর বাইকে প্রায় ১৬ জন এসে তাঁদের উপর চড়াও হয়।

তাঁদের এলোপাথাড়ি মারধরের পাশাপাশি রড ও বাঁশ দিয়েও মারা হয় বলে অভিযোগ। আক্রান্তরা জানান, হামলাকারীরা প্রত্যেকেই বিজেপির সঙ্গে যুক্ত। তাঁদের অভিযোগ, তাঁরা যে ক্লাবটি দীর্ঘদিন ধরে দেখভাল করে আসছেন সেটি দখল করার জন্য বারবার চাপ আসছিল। কিন্তু কোনও চাপের কাছে তাঁরা মাথা নত করেননি। আর সেই কারনেই এই ঘটনা বলে মন্তব্য বিজেপি সদস্যদের।

যদিও এর সঙ্গে বিজেপির কোনও যোগ নেই বলেই দাবি বিজেপির। তাঁদের পালটা দাবি, বিজেপির মধ্যে কোনও গোষ্ঠী কোন্দল নেই। নব্য বনাম আদির যে কথা বলা হচ্ছ তা সংবাদমাধ্যমেরই তৈরি বলে দাবি বিজেপির। তবে এমন যদি ঘটনা ঘটে থাকে তাহলে বিষয়টি খোঁজ নেবেন বলে জানিয়েছে বিজেপি নেতারা।