নয়াদিল্লি: বিজেপি যুব মোর্চার নেত্রী প্রিয়াঙ্কা শর্মাকে কেন দেরিতে মুক্তি দেওয়া হল? বুধবার এই প্রশ্ন তুলে রাজ্য সরকারকে কার্যত ভর্ৎসনা করল সুপ্রিম কোর্ট৷ মঙ্গলবারের নির্দেশের পর ১৮ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও প্রিয়াঙ্কাকে ছাড়া হয়নি৷ এই অভিযোগ নিয়ে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হন প্রিয়াঙ্কার আইনজীবী৷

তারপরেই ক্ষোভে ফেটে পড়ে সুপ্রিম কোর্ট৷ রাজ্য সরকারের কাছে জানতে চায় কেন শীর্ষ আদালতের নির্দেশ পাওয়ার পরেও এত সময় লাগল প্রিয়াঙ্কা শর্মাকে ছাড়তে৷ রাজ্য পুলিশের গাফিলতি এর জন্য দায়ি বলে সমালোচনা করেছে শীর্ষ আদালত৷ এদিন সুপ্রিম কোর্টে প্রিয়াঙ্কার আইনজীবী অভিযোগ করেন মুক্তি দেওয়ার আগে প্রিয়াঙ্কাকে দিয়ে জোর করে একটি ক্ষমাপ্রার্থনা করিয়ে চিঠি লেখানো হয়৷

তবে এই ইস্যুতে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ তারা হাতে পেয়েছিল মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটার পরে৷ ফলে জেলের অনুমোদন পেতে সময় লেগে যায় এদিন৷ আর তাই মঙ্গলবার প্রিয়াঙ্কাকে ছাড়া সম্ভব হয়নি৷ তবে এই সাফাই মানতে রাজী হয়নি সুপ্রিম কোর্ট৷ শীর্ষ আদালত জানিয়েছে এই যুক্তি মানা সম্ভব নয়৷ কারণ সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ পাওয়ার পরেই মুক্তি প্রক্রিয়া শুরু করা উচিত ছিল৷

আরও পড়ুন : খারাপ খবর, ৩০০ জন কর্মীকে ছাঁটাই করতে চলেছে IBM

রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ এনে নোটিশ ইস্যু করতে চলেছে সুপ্রিম কোর্ট বলে খবর৷ রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয় বুধবার সকাল ৯.৪০ মিনিটে বিজেপির যুব মোর্চা নেত্রী প্রিয়াঙ্কা শর্মাকে ছেড়ে দেওয়া হয়৷ ডিজি (কারা)র দেওয়া রিপোর্টেও এই তথ্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে৷

উল্লেখ্য, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিকৃত ছবি স্যোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন হাওড়ার বিজেপি যুব মোর্চার সদস্য প্রিয়াঙ্কা শর্মা৷ পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে৷ তার বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তি আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে৷ মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে মামলা ওঠে৷

আরও পড়ুন : মূর্তি ছিল ঘরের ভিতরে, তালা খুলল কে, পালটা প্রশ্ন অমিত শাহের

কিছুদিন আগে ওই ঘটনা ঘটার পর হাওড়া পুলিশ প্রিয়াঙ্কাকে গ্রেফতার করে৷ তবে প্রিয়াঙ্কার সমর্থনে বাবুল সুপ্রিয়সহ বিজেপির বেশ কিছু নেতা সরব হন৷ ওই নেতারাও স্যোশাল মিডিয়ায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিকৃত ছবিটি পোস্ট করেন৷ এরপর ঘটনাটি গড়ায় সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত৷ প্রিয়ঙ্কার পরিজনেরা আদালতে আবেদন করেন৷ সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত জানিয়েছে – আমরা জামিন দিতে রাজি৷ কিন্তু প্রিয়াঙ্কা শর্মাকে ক্ষমা চাইতে হবে৷

উল্লেখ্য, হাওড়ার তৃণমূল কংগ্রেস নেতা বিভাস হাজরা অভিযোগ জানান থানা৷ বিভাসবাবুর অভিযোগের ভিত্তিতেই প্রিয়াঙ্কাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল৷ প্রিয়াঙ্কার বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৫০০, ৬৬ এ ও জামিন অযোগ্য ধারা ৬৭ এ-তে মামলা দায়ের করা হয়েছে। প্রিয়াঙ্কার মুক্তির দাবিতে সরব হয়ে হাওড়ায় বড় মিছিল করে বিজেপি।