ইংরেজবাজার: রাজ্যে অব্যাহত ভোট পরবর্তী হিংসা। উত্তর ২৪ পরগণা, পূর্ব বর্ধমানের পর এবার মালদহ জেলা। নৃশংসভাবে খুন করা হল এক সক্রিয় বিজেপি কর্মীকে। অভিযোগের তীর তৃণমূলের দিকে।

মৃত ওই বিজেপি কর্মীর নাম অসিত সিংহ। ৪৫ বছরের ওই ব্যক্তি রবিবার বিকেলের পর থেকে নিখোঁজ ছিলেন। মঙ্গলবার সকালের দিকে তাঁর বাড়ি থেকে প্রায় ৩৫০ মিটার দূরে ওই বিজেপি কর্মীর ঝলসানো দেহ উদ্ধার করা হয়।

মালদহ জেলার ইংরেজবাজার থানা এলাকার কমলাবাড়ী যদুপুরের বাসিন্দা ছিলেন অসিত সিংহ। সমগ্র ঘটনার তদন্তে নেমছে ইংরেজবাজার থানার পুলিশ। বিজেপি এবং মৃতের পরিবারের পক্ষ থেকে এই ঘটনার জন্য রাজ্যের শাসকদল তৃণমূলকে কাঠগড়ায় তোলা হয়েছে। যদিও সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে ঘাস ফুল শিবির।

মৃতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে অত্যন্ত নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে অসিতবাবুকে। খুন করার পরে প্রমাণ লোপাটের জন্য তাঁর শরীরে অ্যাসিড ঢেলে দেওয়া হয়। তাঁর স্ত্রী আলো সিংহ জানিয়েছেন যে রবিবার সন্ধ্যায় জল খাবার খেয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন অসিত সিংহ। এরপর থেকেই আর বাড়ি ফেরেননি তিনি। মাঝে গোটা সোমবার কোনও খবর পাওয়া যায়নি তাঁর। মঙ্গলবার সকালে তাঁর ঝলসানো দেহ উদ্ধার করা হয়। স্বামীকে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্ত্রী আলো সিংহ।

এই হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে মুখ খুলেছেন বিজেপির ওই জেলার সভাপতি সঞ্জীব মিশ্র। তিনি জানিয়েছেন যে ছাগল চুরি নিয়ে গ্রামে বচসা হয়। সেই কারনে সালিশিও হয়। টাকা জরিমনা করাও হয়েছিল। সেই টাকা দিতে অস্বীকার করে অসিত। এমনই কারণে অসিতের উপর কিছু ক্ষোভ সঞ্চার হয়েছিল। যার ফলেই এই খুনের ঘটনা ঘটেছে।

একই সঙ্গে সঞ্জীব বাবু আরও জানিয়েছেন যে এই খুনের ঘটনার প্রমাণ লোপাট করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি বলেছেন, “অসিতকে খুন করে অ্যাসিড দিয়ে পুড়িয়ে প্লাস্টিকের মধ্যে ঢুকিয়ে গ্রামের এক জমিতে ফেলে দেওয়া হয়।” এই ঘটনার সঙ্গে তৃণমূলের যোগ রয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, “মোস্তাক আলী নামে স্থানীয় এক তৃণমূল কংগ্রেসের জমিতে সমস্ত প্রমান তথ্য পাওয়া গিয়েছে। যদিও পুলিশ কোন তথ্যই সংগ্রহ করেনি।” ছাগল চুরির ঘটনার পিছনে আসলে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র রয়েছে বলে দাবি করেছেন বিজেপি জেলা সভাপতি সঞ্জীব মিশ্র।

যদিও বিজেপির অভিযোগ অস্বীকার করেছে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। ইংরেজবাজার বিধানসভার বিধায়ক নীহার রঞ্জন ঘোষ জানান তৃণমূল কংগ্রেস এই ঘটনার সাথে যুক্ত নেই। জেলার অন্যান্য নেতারা দলীয় বৈঠকে যোগ দিতে কলকাতায় থাকার কারণে তাঁদের প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কোনও মন্তব্য করতে চায়নি ইংরেজবাজার থানার পুলিশ।