প্রদ্যুত দাস, জলপাইগুড়ি: সকাল ৮ টা থেকেই জলপাইগুড়িতে উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসে লোকসভা ভোটের ভোট গণনা শুরুর পর থেকেই এই আসনে বিজেপি প্রার্থী ডাঃ জয়ন্ত রায় সবকটি ব্যবধানেই এগিয়ে ছিলেন। এমন কোনও রাউন্ড দেখা যায়নি যেখানে তৃণমুল প্রার্থী বিজয়চন্দ্র বর্মন বিজেপিকে ছাপিয়েছেন।

জলপাইগুড়ি সদর বিধানসভা কংগ্রেসের দখলে ছিল, রাজগঞ্জ,ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি, ময়নাগুড়ি, ধুপগুড়ি, মাল এমনকি মেখলিগঞ্জ বিধানসভার মতো এই বিধানসভা গুলি তৃণমুলের দখলে থাকলেও এবার লোকসভা ভোটের নিরিখে বিজেপি প্রার্থী সবকটি বিধানসভাতেই ছিল এগিয়ে। রাজ্যের পর্যটন মন্ত্রী গৌতম দেবের ডাবগ্রাম- ফুলবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রেও এবার বিজেপি এগিয়ে।

জলপাইগুড়ি লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত সকল বিধানসভা এই মুহূর্তে তৃণমূলের দখলে। এই অবস্থায় ওই সকল কেন্দ্রগুলিতে বিজেপি প্রার্থীর লিড হওয়ায় শুরু তৃণমূলের অন্দরে শুরু হয়েছে কোন্দল। তালিকায় আবার রাজ্যের মন্ত্রী গৌতম দেবের এলাকাও রয়েছে।

গত লোকসভা নির্বাচনে এই আসনে তৃণমুলের বিজয়চন্দ্র বর্মন ৬৯ হাজার ভোটে জিতেছিলেন। কিন্তু এবার বিজেপির জয়ন্ত রায় লক্ষাধিক ভোটে। বিজেপির জেলা সম্পাদক বাপী গোস্বামীর বক্তব্য, তৃণমুল গত পঞ্চায়েত ভোটে মানুষকে ভোট দিতে বাধা দেওয়াই আমাদের পালে হাওয়া দিয়েছে। প্রচুর বাম ভোট পেয়েছি।

বিজেপির প্রার্থী জয়ন্ত রায় জানান, মোদি ঝড়েই কুপোকাত হয়েছে তৃণমুল। তৃণমুলের জেলা সভাপতি সৌরভ চক্রবর্তী জানান, আমাদের মোট প্রাপ্ত ভোট কমেনি। বরং বেড়েছে। বামেরাই ভোট দিয়েছে বিজেপিকে।বামেরাই খাল কেটে বিজেপিকে এনেছে। জেলা বামফ্রন্ট আহ্বায়ক সলিল আচার্য জানিয়েছেন, মানুষ এবারও ভুল করেছে।

জেলা কংগ্রেস প্রার্থী মনিকুমার ডার্নাল জানান, এই ফল আশাই করিনি। তৃণমুল প্রার্থী বিজয়চন্দ্র বর্মনের বছর বক্তব্য, বামেরাই আমাদের ডুবিয়ে দিয়ে গেল। তবে গ্রাম থেকে পুরসভা, চা বাগান সর্বত্রই তৃণমুল ধরাশায়ী হয়েছেন।

শেষ পাওয়া খবর পর্যন্ত ভিভিপ্যাট গোনা বাকি থাকলেও রাত পর্যন্ত প্রায় ২ লক্ষ ভোট গোনা বাকি থাকা অবস্থায় বিজেপি প্রার্থী ১ লক্ষ ৭১ হাজার ভোটে এগিয়ে আছেন।